শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটা ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক মামলার বিচার শুরু হয়েছে। মুনাফার লোভে প্ল্যাটফর্মগুলোকে আসক্তিপূর্ণ ও অনিরাপদ করে গড়ে তোলার অভিযোগে দায়ের করা এই মামলা প্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। স্থানীয় সময় সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) নিউ মেক্সিকোর একটি আদালতে মামলার প্রাথমিক […]
ছবি - সংগৃহীত
শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটা ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক মামলার বিচার শুরু হয়েছে। মুনাফার লোভে প্ল্যাটফর্মগুলোকে আসক্তিপূর্ণ ও অনিরাপদ করে গড়ে তোলার অভিযোগে দায়ের করা এই মামলা প্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
স্থানীয় সময় সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) নিউ মেক্সিকোর একটি আদালতে মামলার প্রাথমিক শুনানি শুরু হয়। এতে অভিযোগ করা হয়েছে, মেটা (ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম) শিশুদের যৌন উত্তেজক ও আপত্তিকর কনটেন্ট থেকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে লস অ্যাঞ্জেলেসে এই সপ্তাহের শেষে আরেকটি মামলা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে মেটা ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে অভিযোগ—তারা ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের অ্যাপ এমনভাবে ডিজাইন করেছে, যাতে শিশুরা এতে আসক্ত হয়ে পড়ে। খবর আলজাজিরার।
এর আগে এই মামলার তালিকায় টিকটক ও স্ন্যাপচ্যাটের নাম থাকলেও গোপন সমঝোতার মাধ্যমে তারা নিজেদের মামলা থেকে সরিয়ে নেয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মেটার বিরুদ্ধে মোট ৪০টি মামলা রয়েছে, যার প্রথম ধাপ শুরু হয়েছে নিউ মেক্সিকো ও ক্যালিফোর্নিয়ায়।
নিউ মেক্সিকো মামলা
২০২৩ সালে দায়ের করা এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করেছে, মেটা ইচ্ছাকৃতভাবে শিশুদের ওপর তাদের প্ল্যাটফর্মের ক্ষতিকর প্রভাব গোপন করেছে। সরকারি আইনজীবী ডোনাল্ড মিল্লিওরি আদালতে বলেন, মেটার কাছে ব্যবসায়িক মুনাফাই ছিল প্রধান বিবেচ্য, শিশুদের নিরাপত্তা নয়। আদালতের নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়, কোম্পানিটি এমন এআই চ্যাটবট তৈরি করেছিল, যা ব্যবহারকারীদের সঙ্গে রোমান্টিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে—যা শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
ক্যালিফোর্নিয়া মামলা
এই মামলায় অভিযোগের পরিসর আরও বিস্তৃত। এখানে বলা হয়েছে, মেটা ও ইউটিউব তাদের অ্যাপ এমনভাবে নকশা করেছে, যাতে ব্যবহারকারীরা সহজে সেগুলো থেকে বের হতে না পারে। মামলার অন্যতম বাদী ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী দাবি করেছেন, শৈশব থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তির কারণে তিনি গভীর বিষণ্নতা ও আত্মহত্যাপ্রবণতায় ভুগেছেন। মামলায় প্ল্যাটফর্মগুলোর কার্যক্রমকে জুয়া বা তামাক শিল্পের কৌশলের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, এই মামলায় মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গকে সাক্ষ্য দিতে হতে পারে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো। তাদের দাবি, শিশুদের নিরাপত্তায় তারা পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছে এবং ব্যবহারকারীর কনটেন্টের সম্পূর্ণ দায় কোম্পানির ওপর বর্তায় না।
সম্ভাব্য প্রভাব
সান্তা ক্লারা ইউনিভার্সিটি স্কুল অব ল’–এর অধ্যাপক এরিক গোল্ডম্যান বলেন, এই মামলার রায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিল্পের জন্য অস্তিত্বের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াতে পারে। দায়ী সাব্যস্ত হলে কোম্পানিগুলোকে বিপুল অঙ্কের জরিমানা দিতে হতে পারে, যা তাদের মোট সম্পদের চেয়েও বেশি হতে পারে। পাশাপাশি এই রায় ভিডিও গেম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তিসহ অন্যান্য খাতেও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।