সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
৫:৩০ অপরাহ্ন, ৩ আগস্ট ২০২৬

মোজতবা খামেনি এখন কোথায়? দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে নতুন চাঞ্চল্যকর দাবি

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টাইমস–এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনিকে খুঁজে বের করতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ যৌথভাবে উচ্চ অগ্রাধিকারভিত্তিক একটি গোপন অভিযান চালাচ্ছে। তবে এসব দাবির পক্ষে স্বাধীন আন্তর্জাতিক […]

মোজতবা খামেনি এখন কোথায়? দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে নতুন চাঞ্চল্যকর দাবি

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টাইমস–এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনিকে খুঁজে বের করতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ যৌথভাবে উচ্চ অগ্রাধিকারভিত্তিক একটি গোপন অভিযান চালাচ্ছে। তবে এসব দাবির পক্ষে স্বাধীন আন্তর্জাতিক উৎস থেকে তাৎক্ষণিক কোনো নিশ্চিত সমর্থন পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৮ মার্চ মোজতবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এতে আরও বলা হয়, তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে মোজতবা খামেনিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে এই দাবির সত্যতা যাচাইয়ের মতো নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক প্রমাণ এখন পর্যন্ত সামনে আসেনি।

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে না আসায় তার অবস্থা ও ক্ষমতার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে—তা নিয়ে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি কোনো সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেননি, টেলিভিশন ভাষণও দেননি, এমনকি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কোনো নির্ভরযোগ্য দৃশ্যও দেখা যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মোজতবা খামেনি ডিজিটাল যোগাযোগ পুরোপুরি এড়িয়ে চলছেন এবং অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছেন। এক জ্যেষ্ঠ পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে দ্য টাইমস দাবি করেছে, গত পাঁচ মাসে তার কোনো মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ বা অন্য কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ইলেকট্রনিক যোগাযোগের বদলে তিনি হাতে লেখা চিরকুটের মাধ্যমে দিকনির্দেশনা পাঠাচ্ছেন বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এসব বার্তা ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর আস্থাভাজন বাহকের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ফলে তার অবস্থান শনাক্ত করা বা যোগাযোগ পর্যবেক্ষণ করা সিআইএ ও মোসাদের জন্য অনেক বেশি কঠিন হয়ে উঠেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মোজতবা খামেনি তেহরানের কোনো অতি-সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে বা ধর্মীয় নগরী কোমের গভীর টানেল নেটওয়ার্কে অবস্থান করতে পারেন। অন্য একটি ধারণা অনুযায়ী, প্রকৃত অবস্থান আড়াল করতে ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা ‘ডিকয়’ ব্যবহার করছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পিতাকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় মোজতবা খামেনি নিজেও আহত হয়েছিলেন কি না, তা নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, তিনি জীবিত আছেন এবং দায়িত্ব পালন করছেন। নওরোজ উপলক্ষে প্রচলিত টিভি ভাষণ না দিয়ে তিনি কেবল টেলিগ্রামে লিখিত বার্তা প্রকাশ করেছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের দাবি, তিনি সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেছেন। তবে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সেই সাক্ষাতের সময়, প্রেক্ষাপট ও সত্যতা পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পারেনি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সর্বোচ্চ নেতার জনসমক্ষে অনুপস্থিতি ও গোপনীয়তার কারণে ইরানে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির প্রভাব আরও বেড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সামরিক সিদ্ধান্ত, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, পারমাণবিক স্থাপনা এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা জোরদারে এখন তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে দাবি করা হয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ