সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বাংলাদেশ
২:০০ পিএম, ১ জুন ২০২৬

যারা মৌলবাদী রাষ্ট্র বানাতে চায়, তারাই সিনেমা বন্ধ করেছে: রুমিন ফারহানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১ জুন) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, “দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী বলা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে। অথচ এখানে কোনো সিনেমা […]

যারা মৌলবাদী রাষ্ট্র বানাতে চায়, তারাই সিনেমা বন্ধ করেছে: রুমিন ফারহানা

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১ জুন) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, “দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী বলা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে। অথচ এখানে কোনো সিনেমা হল টিকতে দেওয়া হচ্ছে না, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যারা বাংলাদেশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়ে একটি মৌলবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়, তারাই ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ করেছে।”

তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ যেমন কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর ছিল না, তেমনি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছে। কেউ যদি সেই আন্দোলনকে নিজেদের সম্পত্তি মনে করে, তবে তার পরিণতি ভালো হবে না।”

রুমিন ফারহানা আরও বলেন, “বনলতা এক্সপ্রেস একটি পারিবারিক ও সামাজিক সিনেমা। তারপরও সেটি কেন বন্ধ করা হলো—এই প্রশ্নের জবাব দরকার। যে রাষ্ট্র ধর্ষণ, হত্যা ও দুর্নীতি বন্ধ করতে পারে না, সেই রাষ্ট্র কেন সিনেমা বন্ধে ভূমিকা রাখবে?”

তিনি অভিযোগ করেন, দেশে উগ্রবাদী প্রবণতা বাড়ছে। “গত দুই বছরে মাজার ভাঙা হয়েছে, কবর থেকে মরদেহ তুলে পুড়িয়ে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু বাংলাদেশের সংস্কৃতি এমন ছিল না। এই দেশে আজানের সুর যেমন আছে, তেমনি বাউল গানও আছে।”

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন উদীচী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস রহমান, রিফতি আল জাবেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সামাজিক সংগঠন ‘সোনালী সকাল’-এর সভাপতি ফাহিম মুনতাসিরসহ অন্যরা। বক্তারা দ্রুত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা বন্ধের দাবি জানান।

পরে অংশগ্রহণকারীরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে একটি প্রতিবাদ মিছিল করেন।

উল্লেখ্য, গত ৩০ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী হওয়ার কথা ছিল। তবে ‘কওমি ছাত্র-জনতা’র বিরোধিতার মুখে তা স্থগিত করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ