সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বব্যাপী পাসপোর্ট শক্তি সূচকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে নিম্নমুখী হয়েছে। ২০ বছর ধরে শীর্ষ ১০ এর মধ্যে থাকা মার্কিন পাসপোর্ট এবার প্রথমবারের মতো এই সর্বোচ্চ স্থান থেকে ছিটকে পড়েছে। ৭ অক্টোবর হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স দ্বারা হালনাগাদ এই সূচকে যুক্তরাষ্ট্র এখন মালয়েশিয়ার সঙ্গে ভাগ করে ১২তম অবস্থানে রয়েছে। পাসপোর্ট সূচকের পেছনের কাহিনী হেনলি পাসপোর্ট সূচক […]
সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বব্যাপী পাসপোর্ট শক্তি সূচকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে নিম্নমুখী হয়েছে। ২০ বছর ধরে শীর্ষ ১০ এর মধ্যে থাকা মার্কিন পাসপোর্ট এবার প্রথমবারের মতো এই সর্বোচ্চ স্থান থেকে ছিটকে পড়েছে। ৭ অক্টোবর হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স দ্বারা হালনাগাদ এই সূচকে যুক্তরাষ্ট্র এখন মালয়েশিয়ার সঙ্গে ভাগ করে ১২তম অবস্থানে রয়েছে।
পাসপোর্ট সূচকের পেছনের কাহিনী
হেনলি পাসপোর্ট সূচক আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও অভিবাসন সংক্রান্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এই সূচকে মোট ১৯৯টি দেশের পাসপোর্ট এবং ২২৭টি গন্তব্য বিবেচনায় নেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (আইএটিএ) থেকে সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, কোন দেশের পাসপোর্টধারীরা কোন দেশগুলোতে আগাম ভিসা ছাড়াই অথবা ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার পায়, সেটাই মূল ভিত্তি এই সূচকের।
২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র সূচকে শীর্ষস্থানে ছিল, ২০১৫ সালে দ্বিতীয় এবং গত বছর সপ্তম স্থানে অবস্থান করেছিল। কিন্তু এবারের হালনাগাদে অবস্থান নেমে এসেছে ১২তম। বর্তমানে মার্কিন নাগরিকরা বিশ্বের ২২৭টি গন্তব্যের মধ্যে ১৮০টিতে ভিসা ছাড়াই যেতে পারছেন, যা আগের তুলনায় কিছুটা কম।
যুক্তরাষ্ট্রের অবনমনের কারণগুলো
যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট শক্তি হ্রাসের পেছনে রয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক প্রবেশাধিকার পরিবর্তন। গত এপ্রিলে ব্রাজিলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার বাতিল হওয়া তার অন্যতম কারণ। পাশাপাশি, চীন, পাপুয়া নিউগিনি ও মিয়ানমারসহ কয়েকটি দেশের ভিসামুক্ত তালিকা থেকে যুক্তরাষ্ট্র বাদ পড়ায় এর প্রভাব পড়েছে।
সর্বশেষ সোমালিয়া ই-ভিসা চালু করেছে এবং ভিয়েতনামও যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ভিসামুক্ত তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। এই পরিবর্তনগুলো যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক প্রবেশাধিকারকে সীমিত করেছে, যার ফলে পাসপোর্টের শক্তি সূচকে তার অবস্থান পিছিয়েছে।
যুক্তরাজ্যের অবস্থানেও প্রভাব
শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র নয়, যুক্তরাজ্যের পাসপোর্টও একই ধরনের অবনমনের মুখোমুখি হয়েছে। ২০১৫ সালে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় থাকা যুক্তরাজ্যের পাসপোর্ট ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ষষ্ঠ স্থানে নেমে আসে। আর এবার হালনাগাদ সূচকে তারা অষ্টম স্থানে অবস্থান করছে।
এই পরিবর্তনের প্রভাব ও পাঠকের জন্য গুরুত্ব
পাসপোর্টের শক্তি শুধু একটি দেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রতিফলন নয়, এটি ভ্রমণ ও ব্যবসার ক্ষেত্রে নাগরিকদের সুবিধা ও স্বাধীনতাও নির্ধারণ করে। যুক্তরাষ্ট্রের এই অবনমন বিশ্বব্যাপী ভ্রমণ নীতিমালার পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিলতার প্রতিফলন।
যারা ব্যক্তিগত বা পেশাগত কারণে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ করেন, তাদের জন্য এসব সূচকের পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। পাসপোর্টের ক্ষমতা কমে গেলে ভিসা প্রক্রিয়া জটিল ও সময়সাপেক্ষ হতে পারে, যা ভ্রমণের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্বের শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের অবনমন একটি বড় প্রেক্ষাপটের অংশ, যেখানে আন্তর্জাতিক কূটনীতি, নিরাপত্তা নীতি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে, যা আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও অভিবাসন নীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ তৈরি করবে।