সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

উত্তর আমেরিকা
১:২০ পিএম, ২৭ আগস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, নাসা-সিনেটে চীনা হ্যাকারদের সাইবার হামলার চেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ, সিনেটসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে চীনা হ্যাকারদের সাইবার হামলা ও অনুপ্রবেশের চেষ্টার তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা চীন থেকে পরিচালিত একটি বড় সাইবার অভিযান শনাক্ত করে তা নস্যাৎ করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (২৬ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্র জানায়, চীনা একটি হ্যাকিং চক্র বিচার […]

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, নাসা-সিনেটে চীনা হ্যাকারদের সাইবার হামলার চেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ, সিনেটসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে চীনা হ্যাকারদের সাইবার হামলা ও অনুপ্রবেশের চেষ্টার তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা চীন থেকে পরিচালিত একটি বড় সাইবার অভিযান শনাক্ত করে তা নস্যাৎ করেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (২৬ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্র জানায়, চীনা একটি হ্যাকিং চক্র বিচার বিভাগ, নাসা, ফেডারেল রিজার্ভ, সিনেট এবং আরও কয়েকটি সংবেদনশীল সরকারি প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে প্রবেশ ও তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছিল।

মার্কিন বিচার বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সাইবার কার্যক্রমে ব্যবহৃত ‘কিউস্ক্যান’ ও ‘কিউটিরউটার’ নামের দুটি প্ল্যাটফর্মের ডোমেইন জব্দ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ব্যবহার করে হ্যাকাররা বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি নেটওয়ার্কে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, হ্যাকারদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জি, ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথও ছিল। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার চারটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেও লক্ষ্য করা হয়েছিল।

মার্কিন বিচার বিভাগের দাবি, এসব হ্যাকিং প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করত চীনের নানজিংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘নানজিং শিনজিউওয়েই নেটওয়ার্ক টেকনোলজি কোম্পানি’। তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহকদের মধ্যে চীনের বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থা মিনিস্ট্রি অব স্টেট সিকিউরিটি এবং দেশটির সামরিক বাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মি বা পিএলএর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

তবে চীনা কর্তৃপক্ষ বরাবরের মতোই এ ধরনের সাইবার হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এই অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

মার্কিন তদন্ত নথি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট হ্যাকার চক্রটি অন্তত ২০১৮ সাল থেকে নিজস্ব প্রযুক্তি ও বিভিন্ন সাইবার টুল ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং সংবেদনশীল নেটওয়ার্কে হামলা চালিয়ে আসছে।

তদন্তে আরও জানা গেছে, ২০১৯ সালের আগস্টে ভিপিএন ব্যবস্থার দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে নাসার নেটওয়ার্কে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল হ্যাকাররা। ওই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও পরবর্তী সময়ে তারা আরও উন্নত কৌশলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে আক্রমণ চালায়।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে হ্যাকাররা যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ডিপার্টমেন্টের তিনটি গবেষণাগার, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ, স্বাস্থ্য বিভাগের একটি সংস্থা এবং একটি মার্কিন সিকিউরিটি ডিভাইস প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করতে সক্ষম হয় বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহ করা সাইবার হামলার সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, চীনের সরকারি সংস্থার হয়ে কাজ করা বিভিন্ন বেসরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানও বড় পরিসরে সাইবার অনুপ্রবেশের কাজে যুক্ত রয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সেন্টিনেলওয়ানের বিশ্লেষক ডাকোটা ক্যারি বলেন, গত এক দশকে আক্রমণাত্মক সাইবার সেবা দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় স্বার্থে সাইবার হামলা পরিচালনায় ভূমিকা রাখছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে এই ধারাবাহিক সাইবার হামলার অভিযোগ ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষ করে জাতীয় নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সাইবার সুরক্ষা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ