যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। রিপাবলিকানদের দখলে থাকা পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। আরেকটি অঙ্গরাজ্যে দুই দলের প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় সমান সমর্থন দেখা গেছে। বার্তা সংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার (২ নভেম্বর) প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা ইউনিভার্সিটির […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। রিপাবলিকানদের দখলে থাকা পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। আরেকটি অঙ্গরাজ্যে দুই দলের প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় সমান সমর্থন দেখা গেছে।
বার্তা সংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার (২ নভেম্বর) প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা ইউনিভার্সিটির জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে। সাতটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যের ভোটারদের ওপর পরিচালিত এসব জরিপে আগের তুলনায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের অবস্থানের উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
জরিপ অনুযায়ী, টেক্সাস, কানসাস, মেইন, ওহাইয়ো ও আলাস্কায় রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সিনেট আসনগুলোতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে আইওয়ায় দুই দলের প্রার্থীদের সমর্থন প্রায় সমান। এ ছাড়া ডেমোক্র্যাটদের দখলে থাকা মিশিগানের সিনেট আসনেও দলটির প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন।
নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হলে নিজেদের দখলে থাকা আসনগুলো ধরে রাখার পাশাপাশি রিপাবলিকানদের কাছ থেকে অন্তত চারটি আসন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে হবে ডেমোক্র্যাটদের।
অঙ্গরাজ্যভিত্তিক জরিপে টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকোর সমর্থন পাওয়া গেছে ৫০ শতাংশ ভোটারের। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের সমর্থন ৪৩ শতাংশ। ১৯৮৮ সালের পর টেক্সাস থেকে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হননি।
কানসাসেও এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিল্টন। জরিপে তাঁর সমর্থন ৪৯ শতাংশ। বিপরীতে বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালের সমর্থন ৪৪ শতাংশ। ১৯৩২ সালের পর কানসাস থেকে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হননি।
ওহাইয়োতে সাবেক ডেমোক্র্যাট সিনেটর শেরড ব্রাউনের সমর্থন ৪৯ শতাংশ। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডের সমর্থন ৪৪ শতাংশ।
মেইনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ট্রয় জ্যাকসন ৫১ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সের সমর্থন ৪৫ শতাংশ।
আলাস্কায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেলটোলার সমর্থন ৪৮ শতাংশ। অন্যদিকে রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভানের সমর্থন ৪৬ শতাংশ। আইওয়ায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জশ তুরেক ও রিপাবলিকান অ্যাশলি হিনসনের মধ্যে সমর্থনের ব্যবধান প্রায় নেই বললেই চলে।
মিশিগানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সায়েদ তাঁর রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্সের চেয়ে ১১ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন।
জরিপে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের বিষয়টিও উঠে এসেছে। সাতটি অঙ্গরাজ্যের সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে মাত্র ৩৮ শতাংশ ট্রাম্পের কর্মদক্ষতার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কোন দল বেশি কার্যকর—এমন প্রশ্নে রিপাবলিকানদের তুলনায় ৯ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। জরিপে অংশ নেওয়া সাতটি অঙ্গরাজ্যের প্রতিটিতেই এ বিষয়ে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি বেশি সমর্থন দেখা গেছে।
এ ছাড়া সাতটি অঙ্গরাজ্যের সবগুলোতেই স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। তরুণ ও লাতিনো ভোটারদের মধ্যেও দলটির সমর্থন বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে গত এক মাসের মধ্যে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় ৯ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন রিপাবলিকানরা।
সেপ্টেম্বরের তুলনায় ছয়টি অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের অবস্থানের উন্নতি হয়েছে। তবে আলাস্কায় তাঁদের সমর্থন কমেছে।
গত ২৩ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত এসব জরিপ পরিচালনা করা হয়। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে ৬১০ থেকে ১ হাজার ২১৫ জন ভোটারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে।
নমুনা জরিপের ত্রুটির সীমা টেক্সাসে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট থেকে আলাস্কায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত। ফলে জরিপের ফলাফলকে ভোটারদের বর্তমান মনোভাবের একটি পরিমাপ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে; নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল হিসেবে নয়।