সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

উত্তর আমেরিকা
৬:২৯ পিএম, ৫ আগস্ট ২০২৬

মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রাইমারিতে জয়ী হলেন মুসলিম নেতা আবদুল এল-সাইয়েদ

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রাইমারি নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন প্রগতিশীল মুসলিম নেতা ও সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবদুল এল-সাইয়েদ। প্রাথমিক ফল গণনা শেষে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) তাকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে। আগামী নভেম্বরে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন। এপির তথ্য অনুযায়ী, ৯৫ শতাংশের বেশি কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে এল-সাইয়েদ ৪৮.৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয় […]

মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রাইমারিতে জয়ী হলেন মুসলিম নেতা আবদুল এল-সাইয়েদ

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রাইমারি নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন প্রগতিশীল মুসলিম নেতা ও সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবদুল এল-সাইয়েদ। প্রাথমিক ফল গণনা শেষে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) তাকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে। আগামী নভেম্বরে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন।

এপির তথ্য অনুযায়ী, ৯৫ শতাংশের বেশি কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে এল-সাইয়েদ ৪৮.৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয় নিশ্চিত করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, চারবারের কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেন্স পান ৪৭.৫ শতাংশ ভোট।

মিশরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান ৪১ বছর বয়সী আবদুল এল-সাইয়েদ একজন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে রোডস স্কলার হিসেবে পড়াশোনা করেছেন এবং পরে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে ডিগ্রি অর্জন করেন। ডেট্রয়েট সিটির স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

আগামী নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের দুই শতাধিক বছরের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়বেন এল-সাইয়েদ।

নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি সবার জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা (Medicare for All), রাজনীতিতে করপোরেট অর্থের প্রভাব কমানো, অভিবাসন ব্যবস্থার সংস্কার এবং ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশর্ত সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে অবস্থান নেন। গাজায় চলমান যুদ্ধ নিয়েও তিনি সরব ছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতিতে পরিবর্তনের আহ্বান জানান।

বিজয়ের পর সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে এল-সাইয়েদ বলেন, যারা তাকে ভোট দিয়েছেন কিংবা দেননি—সবাইকে সমানভাবে প্রতিনিধিত্ব করবেন। সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং রাজনৈতিক বিভাজন কমিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী হ্যালি স্টিভেন্স তার প্রচারণায় মিশিগানের উৎপাদনশিল্প, কর্মসংস্থান এবং ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পক্ষে অবস্থান নেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুইং স্টেট হিসেবে পরিচিত মিশিগানে একজন প্রগতিশীল মুসলিম প্রার্থীর এই জয় ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। এখন নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে সিনেটের আসনটি ধরে রাখতে পারেন কি না, সেদিকেই নজর থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনের।

সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), বিবিসি।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ