হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়া, তেলের ট্যাংকার আটকে যাওয়া এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে ইরান। তেহরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধের কারণে যে বৈশ্বিক সংকট তৈরি হয়েছে, এখন সেই সংকটের দায় ইরানের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) […]
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়া, তেলের ট্যাংকার আটকে যাওয়া এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে ইরান। তেহরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধের কারণে যে বৈশ্বিক সংকট তৈরি হয়েছে, এখন সেই সংকটের দায় ইরানের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এসব কথা বলেন।
বাঘেই বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু হামলার পর থেকেই ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথকে ঘিরে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌ চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং তেলবাহী ট্যাংকারের চলাচলেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
বাঘেইর অভিযোগ, যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালির অস্থিরতার প্রভাব এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামও বেড়ে যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইরানি মুখপাত্রের অভিযোগ, সংঘাতের সূত্রপাত যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকেই হয়েছে। কিন্তু এখন সেই সংঘাতের ফলে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সংকটের দায় তেহরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বাঘেই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি সংকট তৈরি করেছে, যার প্রভাব এখন পুরো বিশ্বকে বহন করতে হচ্ছে। ওয়াশিংটন নিজেদের কর্মকাণ্ডের দায় এড়িয়ে ইরানকে সংকটের কারণ হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর আগেও হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপকে দায়ী করেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাসের একটি বড় অংশ এই নৌপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। ফলে এখানে সামান্য অস্থিরতাও বিশ্ববাজারে দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় তেল সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং জ্বালানির দাম—সবকিছু নিয়েই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এখন শুধু সামরিক উত্তেজনার বিষয় নয়, এর অর্থনৈতিক প্রভাবও ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।
তবে ইরানের এসব অভিযোগ মূলত তেহরানের সরকারি অবস্থান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কর্মকাণ্ডকেও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। ফলে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।