সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

উত্তর আমেরিকা
২:৫৫ অপরাহ্ন, ৬ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ধস, একদিনে উধাও ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতনে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এক দিনেই প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি বা ২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য হারিয়েছে নাসডাক। প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে ব্যাপক বিক্রির চাপ থেকে শুরু হওয়া এই পতন ছড়িয়ে পড়েছে এশিয়া ও ইউরোপের বাজারেও। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে অতিরিক্ত বিনিয়োগ, সম্ভাব্য নিয়ন্ত্রণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের […]

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ধস, একদিনে উধাও ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতনে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এক দিনেই প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি বা ২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য হারিয়েছে নাসডাক। প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে ব্যাপক বিক্রির চাপ থেকে শুরু হওয়া এই পতন ছড়িয়ে পড়েছে এশিয়া ও ইউরোপের বাজারেও। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে অতিরিক্ত বিনিয়োগ, সম্ভাব্য নিয়ন্ত্রণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়কে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগকে এই দরপতনের পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিবিসির শুক্রবার (৬ নভেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার নাসডাক সূচক ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমে যায়। প্রযুক্তিনির্ভর এই সূচকের এমন পতনে এক দিনেই বিপুল পরিমাণ বাজারমূল্য কমে যায়। একই দিন ওয়াল স্ট্রিটের অন্য প্রধান শেয়ারসূচকগুলোতেও বড় দরপতন দেখা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পতনের সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে প্রযুক্তি খাতে। অ্যাপল, এনভিডিয়া ও টেসলাসহ ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ নামে পরিচিত সাত শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত বাজারমূল্য এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে এনভিডিয়ার শেয়ারের দাম ৯ শতাংশের বেশি কমেছে। টেসলার শেয়ারদরও প্রায় ১১ শতাংশ কমেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুরু হওয়া এই দরপতনের প্রভাব শুক্রবার এশিয়ার শেয়ারবাজারে পড়ে। জাপানের নিক্কেই সূচক দিন শেষে ৬ শতাংশ কমে যায়। দেশটির মেমোরি চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কিওক্সিয়া এবং প্রযুক্তি সরঞ্জাম নির্মাতা টোকিও ইলেকট্রনের শেয়ারেও বড় দরপতন দেখা যায়।

দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে। দেশটির চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্সের শেয়ারদর ১০ শতাংশের বেশি কমেছে। পাশাপাশি দেশটির প্রধান শেয়ারসূচক কসপি এক দিনেই ৬ শতাংশ কমে যায়।

ইউরোপের শেয়ারবাজারেও শুক্রবার লেনদেনের শুরুতে পতন দেখা গেছে। তবে প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠানের আধিক্য তুলনামূলক কম থাকায় সেখানে দরপতনের মাত্রা যুক্তরাষ্ট্র ও এশিয়ার তুলনায় কম ছিল। যুক্তরাজ্যের এফটিএসই ১০০ সূচক ১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং জার্মানির ড্যাক্স সূচক ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তি খাতে বিপুল বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত মুনাফা কবে আসবে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের পর ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ায় এআই খাত ও ডেটা সেন্টার নির্মাণের ওপর নতুন নিয়ন্ত্রণ আসতে পারে—এমন আশঙ্কাও বাজারে চাপ তৈরি করেছে।

এজ বেল-এর বাজার গবেষণা বিভাগের প্রধান ড্যান কোটসওয়ার্থ বলেন, এআই খাতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করা হলেও সেখান থেকে কবে, কিংবা আদৌ প্রত্যাশিত মুনাফা আসবে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ রয়েছে। তাঁর মতে, ডেমোক্র্যাটদের প্রভাব বাড়লে ডেটা সেন্টার নির্মাণের গতি কমে যেতে পারে এবং এ খাত নিয়ন্ত্রণে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এআই খাতের প্রবৃদ্ধি এত দিন দ্রুত অগ্রগতির প্রত্যাশার ওপর নির্ভরশীল ছিল। এখন সেই অগ্রগতির গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ