যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের বেথেল শহরের পুলিশ প্রধান চ্যাড এসার্টকে শিশু যৌন নির্যাতনের একাধিক গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ফ্লোরিডার সেমিনোল এলাকা থেকে তাকে কোনো ধরনের প্রতিরোধ ছাড়াই আটক করে পিনেল্লাস কাউন্টি শেরিফ অফিস। ৪৪ বছর বয়সী এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওহাইওর ক্লেয়ারমন্ট কাউন্টির গ্র্যান্ড জুরি মোট ৭০টি অভিযোগ গঠন করেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের বেথেল শহরের পুলিশ প্রধান চ্যাড এসার্টকে শিশু যৌন নির্যাতনের একাধিক গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ফ্লোরিডার সেমিনোল এলাকা থেকে তাকে কোনো ধরনের প্রতিরোধ ছাড়াই আটক করে পিনেল্লাস কাউন্টি শেরিফ অফিস।
৪৪ বছর বয়সী এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওহাইওর ক্লেয়ারমন্ট কাউন্টির গ্র্যান্ড জুরি মোট ৭০টি অভিযোগ গঠন করেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ৫৬টি যৌন নিপীড়ন এবং ১৪টি অপ্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে বেআইনি যৌন আচরণের ঘটনা। সবগুলো অভিযোগই থার্ড-ডিগ্রি ফেলোনি বা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে চ্যাড এসার্টের সর্বোচ্চ ২৮০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে, যা কার্যত তার বাকি জীবন কারাগারেই কাটানোর সমান।
তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে এসব অপরাধ সংঘটিত হয়। ওই সময় এসার্ট ‘ইয়ং মেরিনস’ কর্মসূচির একজন প্রশিক্ষক এবং ওহাইওর শ্যারনভিলের স্কারলেট ওকস ক্যারিয়ার ক্যাম্পাসে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী ছিলেন তারই একজন ছাত্রী। ক্লেয়ারমন্ট ও হ্যামিল্টন কাউন্টির বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ সময় ধরে ওই শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ গঠনের পর ক্লেয়ারমন্ট কাউন্টির শেরিফ ক্রিস স্ট্র্যাটন বলেন, “অভিযুক্ত ব্যক্তি যখন একজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা হন এবং ক্ষমতার অবস্থানে থাকেন, তখন ভুক্তভোগীদের সামনে এসে কথা বলা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। আজকের এই অভিযোগ গঠন একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়—কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।
ক্লেয়ারমন্ট কাউন্টির প্রসিকিউটর মার্ক টেকুলভ বলেন, অভিযুক্তের পরিচয় বা পদমর্যাদা যাই হোক না কেন, আইন সবার জন্য সমান। ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমান অভিযোগগুলো এসার্টের বিরুদ্ধে চলমান অন্য কোনো তদন্তের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। তবে অতীতেও তার বিরুদ্ধে বিতর্ক ছিল। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১০ সালে এলমউড প্লেস পুলিশ বিভাগে কর্মরত অবস্থায় যৌন হয়রানি ও সাক্ষীকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ ওঠার পর চাকরিচ্যুত হওয়ার আগেই তিনি পদত্যাগ করেছিলেন।
বর্তমানে চ্যাড এসার্টকে ফ্লোরিডার পিনেল্লাস কাউন্টি জেলে রাখা হয়েছে। তাকে ওহাইওতে ফিরিয়ে নেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আদালতে হাজির হবেন।
এদিকে তদন্তকারীরা আশঙ্কা করছেন, আরও ভুক্তভোগী থাকতে পারেন। তাই এসার্টের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ বা তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।