Advertise with us
সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

উত্তর আমেরিকা
১:৪০ পিএম, ১০ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে স্ত্রীকে হত্যার পর প্রেমিকাকে মরদেহের ছবি পাঠালেন ভারতীয় প্রকৌশলী

যুক্তরাষ্ট্রে স্ত্রীকে হত্যা করে ঘটনাটি দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন এক ভারতীয় প্রকৌশলী। তবে দীর্ঘ তদন্তে বেরিয়ে আসে ভিন্ন চিত্র। প্রায় নয় মাস পর তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর ভারতে থাকা তার প্রেমিকার কাছে স্ত্রীর মরদেহের ছবিও পাঠিয়েছিলেন তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত […]

যুক্তরাষ্ট্রে স্ত্রীকে হত্যার পর প্রেমিকাকে মরদেহের ছবি পাঠালেন ভারতীয় প্রকৌশলী
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রে স্ত্রীকে হত্যা করে ঘটনাটি দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন এক ভারতীয় প্রকৌশলী। তবে দীর্ঘ তদন্তে বেরিয়ে আসে ভিন্ন চিত্র। প্রায় নয় মাস পর তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর ভারতে থাকা তার প্রেমিকার কাছে স্ত্রীর মরদেহের ছবিও পাঠিয়েছিলেন তিনি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত ৩০ বছর বয়সী অভিনাশ নার্নে গত বছরের অক্টোবরে তার স্ত্রী রাজিথা সাব্বিনেনিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।

ঘটনার পর অভিনাশ জরুরি সেবায় ফোন করে জানান, তার স্ত্রী বাথরুমের ভেতরে আটকা পড়েছেন এবং কোনো সাড়া দিচ্ছেন না। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে রাজিথাকে অচেতন অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে। পরে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিনাশ দাবি করেন, ২৭ অক্টোবর তিনি কিছু সময়ের জন্য বাসার বাইরে ছিলেন। প্রায় ৪০ মিনিট পর ফিরে এসে দেখেন, স্ত্রী বাথরুমে আটকা রয়েছেন। তবে তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ওই সময়ের মধ্যে তার ছাড়া অন্য কেউ বাসায় প্রবেশ করেনি।

ঘটনার পরদিন কিং কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের দপ্তর জানায়, রাজিথার মৃত্যু স্বাভাবিক বা দুর্ঘটনাজনিত নয়; তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

তদন্তে আরও উঠে আসে, বহু বছর ধরে ভারতে থাকা এক নারীর সঙ্গে গোপন সম্পর্কে জড়িত ছিলেন অভিনাশ। সেই সম্পর্ক চলমান থাকতেই ২০২৫ সালের ৫ জুন পারিবারিকভাবে রাজিথার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তের প্রেমিকাও ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিয়ের পরও তাদের যোগাযোগ অব্যাহত ছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের দিন অভিনাশ অন্তত চারবার ওই নারীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এমনকি পুলিশকে বাথরুমের দরজা খোলার চেষ্টা করার কথা জানানোর সময়ও প্রেমিকার সঙ্গে তার ফোনালাপ চলছিল। তদন্তে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি স্ত্রীর মরদেহের একটি ছবিও ওই নারীকে পাঠিয়েছিলেন।

এদিকে তদন্তকারীরা রাজিথা সাব্বিনেনির মোবাইল ফোন থেকে স্বামীকে পাঠানো একাধিক খুদে বার্তা উদ্ধার করেছেন। সেসব বার্তায় তিনি অভিযোগ করেছিলেন, অভিনাশ তার জন্য যে পানীয় তৈরি করে দিতেন, তার স্বাদ অস্বাভাবিকভাবে তিক্ত লাগত।

মৃত্যুর দিন পাঠানো একটি বার্তায় রাজিথা লিখেছিলেন, তার তৈরি করে দেওয়া স্মুদিটির স্বাদ ‘ওষুধ’ ও ‘কাশির সিরাপের’ মতো লাগছে।

গত ৫ জুলাই অভিনাশ নার্নের বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির হত্যার অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। বর্তমানে তিনি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার জামিনে কারাগারে আটক রয়েছেন।

সূত্র: এনডিটিভি

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ