সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

অর্থনীতি
১:৪৩ পিএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রুপির বিপরীতে শক্তিশালী টাকা, ভারতগামী বাংলাদেশিদের জন্য স্বস্তির বার্তা

ভারতীয় রুপির বিপরীতে গত দুই বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে বাংলাদেশি টাকা। এই সময়ে ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। এর মধ্যে গত এক বছরেই টাকার মূল্য বেড়েছে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। বিনিময় হারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর এক টাকা সমান ছিল প্রায় শূন্য দশমিক ৭৮ ভারতীয় রুপি। এক বছর […]

রুপির বিপরীতে শক্তিশালী টাকা, ভারতগামী বাংলাদেশিদের জন্য স্বস্তির বার্তা

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ মিনিটে পড়ুন |

ভারতীয় রুপির বিপরীতে গত দুই বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে বাংলাদেশি টাকা। এই সময়ে ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। এর মধ্যে গত এক বছরেই টাকার মূল্য বেড়েছে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিনিময় হারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর এক টাকা সমান ছিল প্রায় শূন্য দশমিক ৭৮ ভারতীয় রুপি। এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক টাকা সমান ছিল প্রায় শূন্য দশমিক ৭২ রুপি। আর ২০২৪ সালের একই দিনে এক টাকা সমান ছিল প্রায় শূন্য দশমিক ৭০ রুপি।

অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে ৫ দশমিক ৫ পয়সা। এর ফলে ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে টাকার ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিপরীত হিসাবেও টাকার শক্তিশালী হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট। চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর এক ভারতীয় রুপির মূল্য ছিল প্রায় ১ দশমিক ২৮ টাকা। এক বছর আগে এর মূল্য ছিল প্রায় ১ দশমিক ৩৮ টাকা। অর্থাৎ, এক ভারতীয় রুপি কিনতে এখন এক বছর আগের তুলনায় ৯ দশমিক ৭২ পয়সা কম টাকা প্রয়োজন হচ্ছে। এ হিসাবে টাকার মূল্য বেড়েছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ।

২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক ভারতীয় রুপির মূল্য ছিল ১ দশমিক ৪৩ টাকা। সেই সময়ের তুলনায় গত দুই বছরে ভারতীয় রুপির বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মূল্য বেড়েছে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিশেষ করে গত এক বছরের পরিবর্তনটি বেশ উল্লেখযোগ্য। ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর যেখানে এক টাকা দিয়ে শূন্য দশমিক ৭২ রুপি পাওয়া যেত, সেখানে ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পাওয়া যাচ্ছে শূন্য দশমিক ৭৮ রুপি। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যেও ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার শক্তিশালী অবস্থান অব্যাহত থাকার চিত্র পাওয়া গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার ক্রস রেট ছিল ১ দশমিক ২৭৮৯ টাকা থেকে ১ দশমিক ২৭৯৬ টাকা। অর্থাৎ, এক টাকার বিপরীতে পাওয়া গেছে শূন্য দশমিক ৭৮১ থেকে শূন্য দশমিক ৭৮২ ভারতীয় রুপি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার শক্তিশালী অবস্থান বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভারত থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয় কিছুটা কমতে পারে।

তিনি বলেন, টাকার মূল্য বাড়লে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম, পরিবহন ব্যয় ও বাণিজ্যসংক্রান্ত অন্যান্য খরচ অপরিবর্তিত থাকলে একই পরিমাণ ভারতীয় পণ্য ও সেবা কিনতে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের তুলনামূলক কম টাকা ব্যয় হবে। এতে ভারতীয় পণ্য ও সেবা আমদানিতে ব্যবসায়ীরা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন।

টাকার শক্তিশালী অবস্থানের আরেকটি সম্ভাব্য সুফল পেতে পারেন ভারতে ভ্রমণকারী বাংলাদেশিরা। ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকা শক্তিশালী হওয়ায় সেখানে স্থানীয় মুদ্রায় করা বিভিন্ন ব্যয়ের টাকায় হিসাব করা মূল্য তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।

আরিফ হোসেন খান জানান, বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিনিময় হারের এই পরিবর্তন ভারত থেকে আমদানির সামগ্রিক স্থানীয় মুদ্রার ব্যয়েও প্রভাব ফেলতে পারে। ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকা তুলনামূলক শক্তিশালী থাকলে ভারতীয় মুদ্রায় পরিশোধযোগ্য আমদানি ব্যয় মেটাতে আমদানিকারকদের কম টাকা প্রয়োজন হবে।

তিনি আরও বলেন, ভারত থেকে কাঁচামাল, শিল্পের বিভিন্ন উপকরণ, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য পণ্য আমদানিকারকরাও এই পরিবর্তন থেকে সুবিধা পেতে পারেন। কারণ এসব পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে মুদ্রা বিনিময়সংক্রান্ত ব্যয় তুলনামূলকভাবে কমে আসতে পারে।

তবে টাকার মূল্য বাড়ার এই প্রভাব সরাসরি বাজারদরে কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে আরও কয়েকটি বিষয়ের ওপর। এর মধ্যে রয়েছে আমদানি করা পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য, পরিবহন ও সরবরাহব্যয়, শুল্ক ও কর এবং আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, আন্তসীমান্ত বাণিজ্যের ব্যয় নির্ধারণে বিনিময় হার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাই টাকা ও রুপির বিনিময় হারের পরিবর্তনকে দুই দেশের বাণিজ্য পরিস্থিতি এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের সামগ্রিক অবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।

ভারতে ভ্রমণকারী বাংলাদেশিরাও টাকার শক্তিশালী অবস্থান থেকে সুবিধা পেতে পারেন বলে জানান তিনি। তার মতে, প্রচলিত বাজারদর অনুযায়ী টাকার বিপরীতে রুপির মূল্য কম থাকলে ভারতে বাংলাদেশিদের আবাসন, খাবার, যাতায়াত ও অন্যান্য স্থানীয় খরচের টাকায় হিসাব করা মূল্য কমতে পারে।

তবে শুধু বিনিময় হারের পরিবর্তনই আমদানি পণ্যের চূড়ান্ত মূল্য বা বিদেশ ভ্রমণের মোট ব্যয় নির্ধারণ করে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আরিফ হোসেন খান বলেন, বৈদেশিক মুদ্রাবাজার ও বিনিময় হারের গতিবিধি বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং একটি সুশৃঙ্খল বাজার নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

সূত্র: বাসস

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ