সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

জাতীয়
১২:৪৮ পিএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে জাতিসংঘে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার স্থানীয় সময় সকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সংকটের মূল কারণ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। […]

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে জাতিসংঘে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার স্থানীয় সময় সকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সংকটের মূল কারণ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

স্থানীয় সময় বুধবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের একটি সম্মেলন কক্ষে ‘দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের নতুন আহ্বান’ শীর্ষক এই বৈশ্বিক আলোচনা শুরু হয়। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ উদ্যোগে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতায় বৈঠকটি আয়োজন করা হয়।

উচ্চপর্যায়ের এ বৈঠকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের প্রতিনিধিত্ব করেন তুরস্ক ও কুয়েত। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক মনোযোগ অব্যাহত রাখা, মানবাধিকার লঙ্ঘনের পেছনের কারণগুলো চিহ্নিত করা এবং রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে দেশটির ওপর আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোই ছিল বৈঠকের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি রোহিঙ্গা সংকটের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরার পাশাপাশি এর দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ ভূমিতে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবিক কারণে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। তবে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান বাংলাদেশের ভেতরে নয়, বরং রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মধ্যেই নিহিত। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর, সুসংগঠিত ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারে অনুকূল পরিবেশ তৈরির বিষয়েও জোর দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবস্থানরত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি তাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার উপযোগী নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক চাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

এর আগে সফরসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আরও সক্রিয় ও সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘের পক্ষ থেকেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের持续 মনোযোগ ও সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট ও মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূতের সাম্প্রতিক আলোচনাতেও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া দেশগুলোর প্রতি আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং সংকটের মূল কারণগুলো মোকাবিলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয় নিয়ে থাকা বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার কারণে মানবিক ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রয়েছে। নতুন করে আরও মানুষ বাস্তুচ্যুত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই শুধু ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা নয়, প্রত্যাবাসনের জন্য কার্যকর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে ঢাকা।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে আয়োজিত এই বৈঠককে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা আরও জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈঠকে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফেরার পরিবেশ তৈরি, মানবাধিকার নিশ্চিত করা এবং দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

বাংলাদেশের অবস্থান হলো, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান কেবল মানবিক সহায়তার মাধ্যমে সম্ভব নয়। নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পাশাপাশি সংকটের মূল কারণ দূর করতে হবে এবং মিয়ানমারে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে রোহিঙ্গারা নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে পারেন। এ লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও দৃঢ় ও সমন্বিত ভূমিকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ