পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে পুরান ঢাকায় বেড়েছে হালুয়া ও রুটির চাহিদা। দিনভর ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি শতাব্দীপ্রাচীন খাদ্য ঐতিহ্যকে ঘিরে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে এই এলাকার অলিগলি ও বাজারগুলো। মঙ্গলবার বিকেলে আদালতপাড়ার কাছের রায়সাহেব বাজার মোড়ে দেখা যায়, অন্য দিনের তুলনায় অস্থায়ী দোকানের সংখ্যা অনেক বেশি। নানা আকার ও নকশার রুটি আর বিভিন্ন ধরনের সুগন্ধি হালুয়ায় ভরে উঠেছে […]
পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে পুরান ঢাকায় বেড়েছে হালুয়া ও রুটির চাহিদা। দিনভর ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি শতাব্দীপ্রাচীন খাদ্য ঐতিহ্যকে ঘিরে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে এই এলাকার অলিগলি ও বাজারগুলো।
মঙ্গলবার বিকেলে আদালতপাড়ার কাছের রায়সাহেব বাজার মোড়ে দেখা যায়, অন্য দিনের তুলনায় অস্থায়ী দোকানের সংখ্যা অনেক বেশি। নানা আকার ও নকশার রুটি আর বিভিন্ন ধরনের সুগন্ধি হালুয়ায় ভরে উঠেছে দোকানগুলো। ক্রেতাদের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আল-আমিন ইসলাম বিকেলে ক্লাস শেষে খাবার কিনতে এসে বলেন, শবে বরাত এলেই পুরান ঢাকায় এক আলাদা আবহ তৈরি হয়। নামাজ ও দোয়ার পাশাপাশি এই দিনের খাবারের ঐতিহ্য আমাদের সংস্কৃতির অংশ। বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে কিছু খাবার নিয়েই বাসায় ফিরছি।
স্থানীয়রা জানান, শবে বরাতের বিকেল থেকেই পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বসে হালুয়া-রুটি ও পিঠার অস্থায়ী বাজার। বিশেষ করে মাছ, কুমির বা শোল মাছের আকৃতির বড় রুটি এই দিনের বিশেষ আকর্ষণ। পাশাপাশি পাওয়া যাচ্ছে বুটের ডাল, মুগডাল, গাজর ও সুজির হালুয়া। আছে সেমাই, পায়েস, ফিরনি এবং নানা ধরনের মিষ্টান্ন।
ঐতিহ্যবাহী নাশতার তালিকায় রয়েছে নারিকেল নাড়ু, মোয়া, তিলের খাজা ও বিভিন্ন ধরনের পিঠা। ঝাল খাবারের মধ্যে হালিম, নান রুটি, ছোলা-ঘুগনি, ফালুদা ও লাচ্ছির চাহিদাও কম নয়।
রায়সাহেব বাজারের এক বিক্রেতা জানান, দুপুরের পর থেকেই কেনাবেচা বাড়তে থাকে এবং গভীর রাত পর্যন্ত এই ব্যস্ততা চলে। অনেকে বাসার জন্য খাবার কিনে নেন, আবার নামাজ শেষে বন্ধুদের সঙ্গে বসে খাওয়ার জন্য দোকানে ভিড় করেন।
লক্ষ্মীবাজারের অস্থায়ী রুটি বিক্রেতা সোলায়মান বলেন, বছরে শবে বরাতের সময়ই বড় আকারের নকশা করা রুটি বানানো হয়। আধা কেজি থেকে শুরু করে দুই কেজি ওজনের রুটি পাওয়া যাচ্ছে, যার দাম রাখা হয়েছে সাধ্যের মধ্যেই।
পাশের দোকানের মালিক কালু মিয়া জানান, সকাল থেকেই কারিগরদের ব্যস্ততা থামেনি। বিকেলের মধ্যেই অনেক হালুয়া বিক্রি হয়ে গেছে। ইবাদত শেষে রাতে ক্রেতাদের চাপ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।
এদিকে, বিউটি লাচ্ছি ও ফালুদার মতো পরিচিত দোকানগুলোতেও দেখা গেছে বাড়তি প্রস্তুতি। বিক্রেতারা জানান, নামাজ শেষে গরম হালিম আর ঠান্ডা লাচ্ছির চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে।
নারিন্দার বাসিন্দা হাজি মো. জামিল হোসেন বলেন, শবে বরাত মানেই ঘরে রুটি-হালুয়ার ঘ্রাণ। এখন বাসায় সব বানানো সম্ভব না, তাই বাজার থেকেই কিনে নিচ্ছি। নাতি-নাতনিদের জন্য নকশা করা রুটি নিলে ওরা খুব খুশি হয়।
স্থানীয়রা আরও জানান, এই দিনে খাবার বিনিময়ের একটি সামাজিক রীতিও রয়েছে। প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের বাড়িতে হালুয়া-রুটি পাঠানোর মাধ্যমে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
শবে বরাতকে কেন্দ্র করে ইসলামপুর, বংশাল, নারিন্দা, সূত্রাপুর ও নাজিমুদ্দিন রোডসহ পুরো পুরান ঢাকায় তাই ইবাদতের পাশাপাশি খাবারের ঐতিহ্য ঘিরে দেখা গেছে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশ।