সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বাংলাদেশ
৬:৫৭ অপরাহ্ন, ৫ নভেম্বর ২০২৬

শেখ হাসিনাকে ট্রাভেল পাশ দেওয়া হবে না, প্রত্যর্পণ চুক্তিতে হস্তান্তর চায় বাংলাদেশ

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কোনো সাধারণ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ তাঁকে ট্রাভেল পাস দিয়ে ফেরানোর পরিবর্তে ভারত সরকারের কাছ থেকে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় হস্তান্তর চায়। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি […]

শেখ হাসিনাকে ট্রাভেল পাস না দিয়ে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দেশে ফেরত আনার কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

শেখ হাসিনাকে ট্রাভেল পাস না দিয়ে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দেশে ফেরত আনার কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কোনো সাধারণ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ তাঁকে ট্রাভেল পাস দিয়ে ফেরানোর পরিবর্তে ভারত সরকারের কাছ থেকে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় হস্তান্তর চায়। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলকে বিদায় জানানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন হুমায়ুন কবির। এ সময় তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে সাধারণ কোনো যাত্রীর মতো বিবেচনা করে পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস দেওয়ার সুযোগ নেই। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করতে হবে।

শেখ হাসিনা পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাসের জন্য আবেদন করেছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। সম্প্রতি অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠকে অংশ নিয়ে তিনি দেশে ফিরেছেন। তবে পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস দেওয়ার প্রসঙ্গটি তাঁর কাছে হাস্যকর মনে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সন্ত্রাসী আর অপরাধীকে ধরতে পাসপোর্ট লাগে না, এটা হস্তান্তর হয়।’ তাঁর দাবি, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া বিদ্যমান রয়েছে। তাই তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সাধারণ ভ্রমণ নথির পরিবর্তে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কার্যকর প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। সেই চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের দাবি জানাচ্ছে ঢাকা। তাঁকে একজন সাধারণ বাণিজ্যিক যাত্রী হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছাড়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাঁর মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে।

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দিতে ভারতকে একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। তবে প্রত্যর্পণের বিষয়ে দিল্লির পক্ষ থেকে এখনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারত বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার আলোকে পর্যালোচনার কথা জানিয়েছে।

এদিকে, রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এ প্রেক্ষাপটে তাঁকে দেশে ফেরানোর পদ্ধতি নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ