নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির সরকারি গ্রোসারি স্টোর চালুর পরিকল্পনার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন অভিবাসী ও সংখ্যালঘু মালিকানাধীন গ্রোসারি ও বডেগা ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, সরকারি অর্থ ও ভর্তুকির সুবিধায় পরিচালিত এসব দোকান স্থানীয় ছোট ব্যবসার সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করবে। মামদানির পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিউইয়র্কের পাঁচ বরোতে একটি করে সরকারি গ্রোসারি স্টোর চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব দোকানে […]
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির সরকারি গ্রোসারি স্টোর চালুর পরিকল্পনার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন অভিবাসী ও সংখ্যালঘু মালিকানাধীন গ্রোসারি ও বডেগা ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, সরকারি অর্থ ও ভর্তুকির সুবিধায় পরিচালিত এসব দোকান স্থানীয় ছোট ব্যবসার সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করবে।
মামদানির পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিউইয়র্কের পাঁচ বরোতে একটি করে সরকারি গ্রোসারি স্টোর চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব দোকানে নিত্যপ্রয়োজনীয় নির্দিষ্ট কিছু পণ্য বাজারদরের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম দামে বিক্রি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শহর প্রশাসনের দাবি, উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য নিউইয়র্কবাসীর জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ের চাপ কিছুটা কমানো। বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের উচ্চ দামে যেসব পরিবার চাপে রয়েছে, তারা এসব স্টোর থেকে তুলনামূলক কম দামে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবেন।
এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে নিউইয়র্ক সিটি প্রায় ৭ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম সরকারি গ্রোসারি স্টোরটি ব্রঙ্কসের হান্টস পয়েন্ট এলাকায় ২০২৭ সালের মধ্যে চালু করা হবে। পরে পাঁচ বরোতেই একটি করে স্টোর চালুর লক্ষ্য রয়েছে।
তবে এই উদ্যোগ নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি তুলছেন ছোট ব্যবসায়ীরা। মাল্টিকালচারাল বিজনেস কোয়ালিশনের অধীনে থাকা ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে দুটি মামলা করা হয়েছে।
মামলাকারীদের অভিযোগ, সরকারি সহায়তা ও ভর্তুকি পাওয়া দোকানের সঙ্গে সাধারণ ছোট ব্যবসার পক্ষে সমানভাবে প্রতিযোগিতা করা সম্ভব নয়। বেসরকারি দোকানগুলোকে যেখানে বাড়িভাড়া, কর্মীদের বেতন, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় নিজেদের বহন করতে হয়, সেখানে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত দোকানগুলো কম দামে পণ্য বিক্রি করার বাড়তি সুবিধা পাবে।
ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, সরকারি গ্রোসারি স্টোরগুলো দীর্ঘমেয়াদে কম দামে পণ্য বিক্রি করলে আশপাশের ছোট গ্রোসারি ও বডেগাগুলো ক্রেতা হারাতে পারে। এতে অভিবাসী পরিবারগুলোর মালিকানাধীন দীর্ঘদিনের ব্যবসাগুলো বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
মামলাকারীরা সরকারি গ্রোসারি স্টোরের সঙ্গে ওয়ালমার্টের মতো বড় খুচরা বিক্রেতাদের তুলনা করেছেন। তাদের বক্তব্য, বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ছোট দোকানের প্রতিযোগিতা যেমন কঠিন, তেমনি সরকারি সহায়তায় পরিচালিত কম দামের দোকানও স্থানীয় ব্যবসার ওপর একই ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে, মামদানির প্রশাসন বলছে, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য ছোট ব্যবসা ধ্বংস করা নয়। বরং নিউইয়র্কবাসীর জন্য সাশ্রয়ী দামে স্বাস্থ্যকর ও প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য।
পরিকল্পনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সরকারি গ্রোসারি স্টোরগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রম সরাসরি সরকারি কর্মীদের দিয়ে পরিচালনা না করে অভিজ্ঞ বেসরকারি গ্রোসারি অপারেটরদের মাধ্যমে পরিচালনার কথা ভাবা হচ্ছে।
ফলে মামদানির পরিকল্পনা এখন দুই ধরনের দাবির মধ্যে পড়ে গেছে। একদিকে রয়েছে কম দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর সরকারি উদ্যোগ, অন্যদিকে রয়েছে ছোট ও অভিবাসী মালিকানাধীন ব্যবসা টিকিয়ে রাখার দাবি।
মামদানির সরকারি গ্রোসারি স্টোর শেষ পর্যন্ত নিউইয়র্কবাসীর খাদ্যব্যয় কতটা কমাতে পারবে এবং একই সঙ্গে স্থানীয় ছোট ব্যবসার ওপর এর কী প্রভাব পড়বে—মামলার পাশাপাশি এখন সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।