আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দলীয় প্রতীক না থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অংশ নিতে হবে এবং যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থী নির্বাচনে অগ্রাধিকার দিতে হবে। শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রংপুর বিভাগের […]
ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দলীয় প্রতীক না থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অংশ নিতে হবে এবং যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থী নির্বাচনে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রংপুর বিভাগের নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, রংপুর জেলা ও রংপুর মহানগর বিএনপির নেতাদের সঙ্গে এক সাংগঠনিক বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন তিনি। বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে শুরু হওয়া বৈঠক রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত চলে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার না হলেও দল-সমর্থিত একক প্রার্থী নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ব্যক্তির জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে প্রধান বিবেচ্য হিসেবে দেখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমান তৃণমূল নেতাদের উদ্দেশে বলেন, নির্বাচনে সফল হতে হলে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, বিভেদ ও ব্যক্তিগত বিরোধ দূর করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি নির্বাচনী প্রস্তুতির পাশাপাশি দলকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের দায়িত্ব প্রথমে থানা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের ওপর থাকবে। সেখানে মতৈক্য না হলে বিষয়টি জেলা পর্যায়ে যাবে। জেলা পর্যায়েও সমাধান না হলে বিভাগীয় নেতারা সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করবেন। সবশেষে প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রার্থী চূড়ান্ত করবে।
সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়েও বৈঠকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকজন নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন সাংগঠনিক কমিটি গঠনের কাজ ধীরগতিতে পরিচালনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দলীয় অসন্তোষ বা বিভাজন তৈরি হলে তা নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে দলের নেতৃত্ব।
বিএনপির রংপুর বিভাগের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বৈঠকে মূলত তৃণমূল পর্যায়ের সাংগঠনিক অবস্থা, নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে একক প্রার্থী নিশ্চিত করা গেলে দলীয়ভাবে তাকে সমর্থন দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়েছে।
গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. মঈনুল হাসান সাদিক বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সব ধরনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ দূর করার নির্দেশ দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনী মাঠে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন যাতে অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশে সম্পন্ন হয় এবং দল ও সরকার কোনো বিতর্কে না জড়ায়, সে বিষয়েও আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, এটি বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক সাংগঠনিক বৈঠকের অংশ। এসব বৈঠকের মাধ্যমে তারেক রহমান মাঠপর্যায়ের নেতাদের কাছ থেকে সংগঠনের বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে জানছেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।
এর আগে গত ১৮ জুলাই রংপুর বিভাগের দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার নেতাদের সঙ্গে একই ধরনের বৈঠক করেছিলেন তারেক রহমান। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য জেলার নেতাদের সঙ্গেও সাংগঠনিক বৈঠক করবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।