সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
১২:৩৭ অপরাহ্ন, ১৯ আগস্ট ২০২৬

হরমুজ যুক্তরাষ্ট্রের হলে ক্যালিফোর্নিয়াও ইরানের: ট্রাম্পকে ব্যঙ্গাত্মক জবাব তেহরানের

হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভূখণ্ড হিসেবে দেখিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশিত মানচিত্রের পাল্টা ব্যঙ্গাত্মক জবাব দিয়েছে ইরান। দেশটির হায়দরাবাদ কনস্যুলেটের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে ক্যালিফোর্নিয়াকে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যালে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন। সেখানে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ […]

হরমুজ যুক্তরাষ্ট্রের হলে ক্যালিফোর্নিয়াও ইরানের: ট্রাম্পকে ব্যঙ্গাত্মক জবাব তেহরানের

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভূখণ্ড হিসেবে দেখিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশিত মানচিত্রের পাল্টা ব্যঙ্গাত্মক জবাব দিয়েছে ইরান। দেশটির হায়দরাবাদ কনস্যুলেটের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে ক্যালিফোর্নিয়াকে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যালে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন। সেখানে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে বৃত্ত দিয়ে চিহ্নিত করে নিচে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ লেখা ছিল। এর মাধ্যমে যুদ্ধ শেষে হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার বিষয়ে তার আগের বক্তব্যেরই পুনরাবৃত্তি করেন তিনি। হোয়াইট হাউসও পরে এক্সে ট্রাম্পের সেই পোস্টটি শেয়ার করে।

এর পাল্টা হিসেবে ভারতের হায়দরাবাদে অবস্থিত ইরানের কনস্যুলেট যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানচিত্র পোস্ট করে ক্যালিফোর্নিয়াকে নীল রঙে চিহ্নিত করে তার পাশে লেখে, ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের নতুন ভূখণ্ড’। ঘটনাটি স্পষ্টতই ট্রাম্পের দাবিকে ব্যঙ্গ করে দেওয়া একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ক্যালিফোর্নিয়া বেছে নেওয়ার বিষয়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ইরানি-আমেরিকানদের বড় একটি অংশ ক্যালিফোর্নিয়ায়, বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকায় বসবাস করেন। এ কারণেই ইরানের পাল্টা মানচিত্রে অঙ্গরাজ্যটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের এই অবস্থান অবশ্য নতুন নয়। এর আগে ১৪ আগস্ট নিউইয়র্কে এক বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, ইরানকে পরাজিত করার পর তিনি খুব শিগগির হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করবেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে জলপথটি কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং মার্কিন অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ সেখানে চলাচল করতে পারবে না।

ইরান শুরু থেকেই ট্রাম্পের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে আসছে। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট, বিমানবাহী রণতরি পাঠানো কিংবা কোনো আদেশ জারি করে হরমুজ প্রণালি দখল করা সম্ভব নয়। তার ভাষ্য, হরমুজ ‘ইরানের ছিল, আছে এবং থাকবে’।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। তাই জলপথটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি অবস্থান আন্তর্জাতিক রাজনীতির পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

ইরানের পাল্টা মানচিত্র প্রকাশ মূলত বাস্তবে কোনো ভূখণ্ড দখলের ঘোষণা নয়; বরং ট্রাম্পের একতরফা ভূখণ্ড দাবি নিয়ে তেহরানের ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া। তবে দুই দেশের মধ্যে চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এমন পাল্টাপাল্টি বার্তা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে।

তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, এপি ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ