Advertise with us
সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

খেলাধুলা
৩:৫৭ পিএম, ২৩ মে ২০২৬

হাজারতম ম্যাচের দুয়ারে ‘গ্রেটেস্ট শো অন দ্য আর্থ’

ফুটবল বিশ্বকাপ মানে শুধু ট্রফির লড়াই নয়, এটি সময়ের বুকজুড়ে লেখা এক মহাকাব্য। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কোটি মানুষের আবেগ, কান্না, উল্লাস আর স্বপ্নের নাম ফিফা বিশ্বকাপ। ১৯৩০ সালে উরুগুয়ের মাটিতে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেটি ২০২৬ সালে পৌঁছাবে এক অনন্য মাইলফলকে—বিশ্বকাপের ১০০০তম ম্যাচে। উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপে ২০ জুন মন্টেরেতে তিউনিসিয়া ও জাপানের ম্যাচটি হবে […]

হাজারতম ম্যাচের দুয়ারে ‘গ্রেটেস্ট শো অন দ্য আর্থ’

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

ফুটবল বিশ্বকাপ মানে শুধু ট্রফির লড়াই নয়, এটি সময়ের বুকজুড়ে লেখা এক মহাকাব্য। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কোটি মানুষের আবেগ, কান্না, উল্লাস আর স্বপ্নের নাম ফিফা বিশ্বকাপ। ১৯৩০ সালে উরুগুয়ের মাটিতে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেটি ২০২৬ সালে পৌঁছাবে এক অনন্য মাইলফলকে—বিশ্বকাপের ১০০০তম ম্যাচে। উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপে ২০ জুন মন্টেরেতে তিউনিসিয়া ও জাপানের ম্যাচটি হবে ইতিহাসের সেই বিশেষ ১০০০তম লড়াই। আফ্রিকা ও এশিয়ার দুই প্রতিনিধির এই ম্যাচ বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখবে।

তবে এই হাজারতম ম্যাচের আগে বিশ্বকাপ দেখেছে অসংখ্য স্মরণীয় মাইলফলক। কিছু ম্যাচ কেবল ফলাফলের জন্য নয়, বরং ফুটবলের আবেগ, নাটকীয়তা ও ইতিহাসের কারণে হয়ে উঠেছে চিরস্মরণীয়।

১৯৩০ সালের ১৩ জুলাই উরুগুয়ে বিশ্বকাপে একসঙ্গে শুরু হয়েছিল দুটি ম্যাচ। যুক্তরাষ্ট্র ৩-০ গোলে হারায় বেলজিয়ামকে, আর ফ্রান্স ৪-১ গোলে পরাজিত করে মেক্সিকোকে। এই দুই ম্যাচই বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম ম্যাচ হিসেবে স্বীকৃত। ফ্রান্সের লুসিয়েন লরাঁ করেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম গোল। সেই মুহূর্ত থেকেই শুরু হয় ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহাযজ্ঞের পথচলা।

বিশ্বকাপের ১০০তম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫৪ সালের সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে অস্ট্রিয়া ৩-১ গোলে হারায় উরুগুয়েকে। তখন হয়তো কেউ ভাবেনি, ভবিষ্যতে এই টুর্নামেন্ট ফুটবলকে ছাড়িয়ে বৈশ্বিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠবে।

২০০তম ম্যাচটি ছিল ১৯৬৬ সালের এক ঐতিহাসিক ফাইনাল। ওয়েম্বলিতে স্বাগতিক ইংল্যান্ড অতিরিক্ত সময়ে পশ্চিম জার্মানিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে জেতে নিজেদের একমাত্র বিশ্বকাপ। সেই রাতে জিওফ হার্স্ট করেন ফাইনালের প্রথম হ্যাটট্রিক।

১৯৭৮ সালের আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে ৩০০তম ম্যাচের সম্মান ভাগ করে নেয় দুটি ম্যাচ। ইতালি হারায় অস্ট্রিয়াকে, আর পশ্চিম জার্মানি ড্র করে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে। তখন বিশ্বকাপ কেবল মাঠের ফুটবল নয়, কৌশলগত লড়াইয়েও পৌঁছে যায় নতুন উচ্চতায়।

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ৪০০তম ম্যাচে আর্জেন্টিনা ১-০ গোলে হারায় উরুগুয়েকে। পেদ্রো পাসকুল্লির গোলে আসে জয়। সেই বিশ্বকাপ পরে হয়ে ওঠে ডিয়েগো ম্যারাডোনার ব্যক্তিগত মহাকাব্য—যেখানে ‘হ্যান্ড অব গড’ ও শতাব্দীর সেরা গোল ইতিহাস হয়ে আছে।

১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে ৫০০তম ম্যাচের দিনে ছিল নাটকীয়তা। নাইজেরিয়া হারায় গ্রিসকে, আর বুলগেরিয়া চমকে দেয় আর্জেন্টিনাকে। সেই সময় ম্যারাডোনার ডোপ টেস্ট বিতর্কে কাঁপছিল ফুটবল বিশ্ব।

২০০২ সালের দক্ষিণ কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপে ফ্রান্স ও উরুগুয়ের গোলশূন্য ড্র ছিল ৬০০তম ম্যাচ। এটিই একমাত্র শততম মাইলফলক ম্যাচ যেখানে কোনো গোল হয়নি। শিরোপাধারী ফ্রান্স পুরো টুর্নামেন্টেই গোল করতে ব্যর্থ হয়ে বিদায় নেয়।

২০০৬ সালের জার্মান বিশ্বকাপে ৭০০তম ম্যাচে ফ্রান্স ৩-১ গোলে হারায় স্পেনকে। জিনেদিন জিদান, রিবেরি ও ভিয়েরার দাপটে ফরাসিরা আবারও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শক্তি দেখায়।

২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে ৮০০তম ম্যাচটি ছিল জার্মানি ও ঘানার মধ্যে ২-২ গোলের ড্র। মিরোস্লাভ ক্লোসে সেই ম্যাচে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ গোলটি করেন।

২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনাল ছিল ৯০০তম ম্যাচ। ফ্রান্স ৪-২ গোলে হারায় ক্রোয়েশিয়াকে। এমবাপ্পে, পগবা ও গ্রিজমানদের উজ্জ্বলতায় দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় ফরাসিরা।

এখন অপেক্ষা ১০০০তম ম্যাচের। প্রথম বাঁশি থেকে হাজারতম ম্যাচ—বিশ্বকাপ যেন সময়ের সঙ্গে বেড়ে ওঠা এক জীবন্ত ইতিহাস। এখানে মহাকাব্য লিখেছেন পেলে, ম্যারাডোনা, জিদান, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পেদের মতো কিংবদন্তিরা। ২০২৬ বিশ্বকাপে তিউনিসিয়া ও জাপান যখন মাঠে নামবে, সেটি শুধু একটি ম্যাচই হবে না—প্রায় এক শতাব্দীর ফুটবল ইতিহাসের এক মহামুহূর্ত হয়ে থাকবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ