হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে নতুন করে সাইবার হামলার চেষ্টা চালানোর অভিযোগে ইসরায়েলভিত্তিক স্পাইওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনএসও গ্রুপের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা। সোমবার (৮ জুন) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মেটা জানায়, তাদের মালিকানাধীন মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ সম্প্রতি এনএসও-সংশ্লিষ্ট নতুন একটি লক্ষ্যভিত্তিক সাইবার হামলার প্রচেষ্টা শনাক্ত ও প্রতিহত করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের […]
ছবি: সংগৃহীত
হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে নতুন করে সাইবার হামলার চেষ্টা চালানোর অভিযোগে ইসরায়েলভিত্তিক স্পাইওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনএসও গ্রুপের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা।
সোমবার (৮ জুন) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মেটা জানায়, তাদের মালিকানাধীন মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ সম্প্রতি এনএসও-সংশ্লিষ্ট নতুন একটি লক্ষ্যভিত্তিক সাইবার হামলার প্রচেষ্টা শনাক্ত ও প্রতিহত করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এনএসও আবারও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারী ও প্ল্যাটফর্মকে লক্ষ্য করে আক্রমণের চেষ্টা চালিয়েছে।
মেটা হলো বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, যার মালিকানায় রয়েছে ফেসবুক, মেসেঞ্জার, ইনস্টাগ্রাম, থ্রেডস এবং হোয়াটসঅ্যাপ। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরেই এনএসও গ্রুপের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে আসছে।
মেটার তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলাগুলো ছিল আগের মতোই ‘ওয়ান-ক্লিক ফিশিং’ কৌশলভিত্তিক। এ ধরনের হামলায় ব্যবহারকারীদের প্রতারণামূলক লিংকে ক্লিক করতে প্রলুব্ধ করা হয়। ব্যবহারকারী একবার ওই লিংকে প্রবেশ করলেই তার ডিভাইস, ব্যক্তিগত তথ্য কিংবা অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের হামলা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ ব্যবহারকারীরা অনেক সময় বুঝতেই পারেন না যে তারা একটি সাইবার আক্রমণের শিকার হয়েছেন। ফলে ব্যক্তিগত তথ্য, যোগাযোগের তথ্য, ছবি, নথি এবং অন্যান্য সংবেদনশীল ডেটা হ্যাকারদের হাতে চলে যেতে পারে।
মেটা জানিয়েছে, তদন্তের সময় তারা এনএসও গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে সন্দেহ করা একাধিক টেস্ট অ্যাকাউন্ট ও গ্রুপ শনাক্ত করে। পরবর্তীতে সেগুলো হোয়াটসঅ্যাপ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার এরই মধ্যে এনএসও গ্রুপকে জাতীয় নিরাপত্তা এবং পররাষ্ট্রনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। মার্কিন প্রশাসনের মতে, প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তি বিভিন্ন দেশে সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, রাজনৈতিক কর্মী এবং বিরোধী মতাবলম্বীদের ওপর নজরদারির কাজে ব্যবহৃত হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে আলোচিত এনএসও গ্রুপের সবচেয়ে পরিচিত পণ্য হলো ‘পেগাসাস’ স্পাইওয়্যার। এই সফটওয়্যার ব্যবহার করে মোবাইল ফোনে গোপনে প্রবেশ করে ব্যবহারকারীর কল, বার্তা, ছবি, ভিডিও, অবস্থান এবং অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও প্রতিষ্ঠানটি বরাবরই দাবি করে এসেছে যে তাদের প্রযুক্তি কেবল সন্ত্রাসবাদ ও গুরুতর অপরাধ দমনের উদ্দেশ্যে সরকারগুলোর কাছে সরবরাহ করা হয়।
এর আগে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত এনএসও গ্রুপকে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে কোনো ধরনের সাইবার হামলা পরিচালনা না করার নির্দেশ দেন। আদালত তখন প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞাও জারি করেন।
মেটার ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতের সেই নির্দেশনা কার্যকর থাকা অবস্থাতেই এনএসও আবারও একই ধরনের কার্যক্রমে জড়িত হয়েছে। এ কারণে আদালত অবমাননার অভিযোগে নতুন করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
মেটা আরও জানিয়েছে, গত মাসে ১২টি মানবাধিকার সংগঠন, নিরাপত্তা গবেষক এবং ডিজিটাল অধিকারকর্মীদের একটি জোট এনএসও গ্রুপের আপিলের বিরুদ্ধে আদালতে মতামত জমা দিয়েছে। তারা আদালতের জারি করা স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
প্রযুক্তি ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলার ফলাফল বিশ্বব্যাপী নজরদারি প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা শিল্পের ভবিষ্যতের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এটি নির্ধারণ করবে বেসরকারি স্পাইওয়্যার কোম্পানিগুলোর কার্যক্রমের সীমা কোথায় হওয়া উচিত।
তবে এনএসও গ্রুপ এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সূত্র: রয়টার্স