হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট থেকে প্রায় ১৯ কেজি স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত জোরদার করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্তের অংশ হিসেবে ফ্লাইটটির পাইলট, কেবিন ক্রু, প্রকৌশলী, ক্লিনারসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তার তালিকা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আলোচিত বিমানটি সরেজমিনে পরিদর্শনের অনুমতিও চেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। সোমবার এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি […]
ছবি: সংগৃহীত
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট থেকে প্রায় ১৯ কেজি স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত জোরদার করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্তের অংশ হিসেবে ফ্লাইটটির পাইলট, কেবিন ক্রু, প্রকৌশলী, ক্লিনারসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তার তালিকা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আলোচিত বিমানটি সরেজমিনে পরিদর্শনের অনুমতিও চেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
সোমবার এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বিমানবন্দর থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) শরিফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তদন্তের স্বার্থে ফ্লাইটটি সরেজমিনে পরিদর্শনের প্রয়োজন রয়েছে। এজন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ফ্লাইট পরিচালনায় দায়িত্ব পালনকারী পাইলট, কেবিন ক্রু, ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ক্লিনার সেকশনসহ সংশ্লিষ্ট সবার তালিকা চাওয়া হয়েছে। তালিকা হাতে পাওয়ার পর পর্যায়ক্রমে প্রত্যেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
শরিফ হোসেন আরও বলেন, আলোচিত এই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এই এয়ারলাইন্সকে ব্যবহার করে যারা স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে স্বর্ণ পাচারের ধরন বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কারও সম্পৃক্ততার সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তবে তদন্ত এখনো চলমান থাকায় এ মুহূর্তে কারও নাম প্রকাশ করা সমীচীন হবে না। প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের পর তদন্ত আরও এগিয়ে নেওয়া হবে।
গত ২ জুলাই দুবাই থেকে ঢাকায় আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে যৌথ বাহিনীর অভিযানে কার্গো হোল্ড থেকে ১৮ কেজি ৭২০ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের ডিজিএফআই, এভিয়েশন সিকিউরিটি, কাস্টমস এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিরাপত্তা বিভাগ যৌথভাবে অভিযানটি পরিচালনা করে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, একই কৌশলে গত মার্চ মাসেও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আরেকটি ফ্লাইট থেকে প্রায় ১৮ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছিল। পরপর দুটি ঘটনায় একই ধরনের পদ্ধতি ব্যবহারের কারণে তদন্তকারীদের ধারণা, একটি সংঘবদ্ধ চক্র একই রুট ও একই ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করে বড় আকারের স্বর্ণ চোরাচালানের চেষ্টা করছে।
বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মার্চ মাসের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত প্রকাশ করা হচ্ছে না। পরপর দুটি ঘটনায় একই চক্র জড়িত কি না এবং তাদের সহযোগীরা কারা—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা।
সূত্র: বাসস