সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

প্রধান খবর
১২:১৭ পিএম, ২১ জুলাই ২০২৬

২০ বছরে ১ নম্বর থেকে নেমে ১০-এ, যেভাবে গুরুত্ব হারাচ্ছে মার্কিন পাসপোর্ট

একসময় বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করে রাখা যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট এখন সেই অবস্থান হারিয়েছে। ‘হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স’-এর ২০তম বার্ষিকী প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০০৬ সালে ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বের এক নম্বর অবস্থানে থাকা মার্কিন পাসপোর্ট ২০২৬ সালে নেমে এসেছে ১০ম স্থানে। হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে একজন মার্কিন নাগরিক ভিসামুক্ত বা […]

২০ বছরে ১ নম্বর থেকে নেমে ১০-এ, যেভাবে গুরুত্ব হারাচ্ছে মার্কিন পাসপোর্ট

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

একসময় বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করে রাখা যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট এখন সেই অবস্থান হারিয়েছে। ‘হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স’-এর ২০তম বার্ষিকী প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০০৬ সালে ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বের এক নম্বর অবস্থানে থাকা মার্কিন পাসপোর্ট ২০২৬ সালে নেমে এসেছে ১০ম স্থানে।

হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে একজন মার্কিন নাগরিক ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় বিশ্বের ১৮০টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। ২০০৬ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৩০টি। যদিও ভিসামুক্ত গন্তব্যের সংখ্যা বেড়েছে, তবে অন্যান্য দেশের দ্রুত অগ্রগতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পিছিয়ে গেছে। কার্যত এই সূচকে যুক্তরাষ্ট্রের আগে রয়েছে ৩৬টি দেশ।

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট সিঙ্গাপুরের। দেশটির নাগরিকরা ১৯২টি দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশের সুযোগ পান।

গত দুই দশকে সবচেয়ে বড় অগ্রগতি দেখিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। বর্তমানে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে থাকা দেশটির নাগরিকরা ১৮৮টি গন্তব্যে ভিসামুক্ত ভ্রমণ করতে পারেন। ২০০৬ সালের তুলনায় ইউএই নতুন করে ১৫৩টি গন্তব্য তাদের ভিসামুক্ত তালিকায় যুক্ত করেছে।

১৮৭টি গন্তব্য নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সুইডেন। আর ১৮৬টি গন্তব্যে ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার নিয়ে যৌথভাবে চতুর্থ স্থানে রয়েছে বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও স্পেন।

হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের চেয়ারম্যান ক্রিশ্চিয়ান এইচ. কেলিন বলেন, একটি দেশের পাসপোর্টের শক্তি তার বৈশ্বিক কূটনৈতিক অবস্থান, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন। যেসব দেশের সঙ্গে অন্য রাষ্ট্রগুলো বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা সহযোগিতায় আগ্রহী, সাধারণত তাদের পাসপোর্টই বেশি শক্তিশালী হয়।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স’ ও ‘গ্লোবাল পিস ইনডেক্স’-এর তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, শান্তিপূর্ণ দেশগুলোর পাসপোর্ট সাধারণত সবচেয়ে শক্তিশালী। সিঙ্গাপুর, জাপান, সুইজারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড এর উদাহরণ।

তবে এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। গ্লোবাল পিস ইনডেক্সে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ১৩৪তম হলেও পাসপোর্টের শক্তির দিক থেকে দেশটি এখনও শীর্ষ দশে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক প্রভাব ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ফল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ২০ বছরে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও সবচেয়ে দুর্বল পাসপোর্টের মধ্যে ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তালিকার সর্বনিম্ন অবস্থানে থাকা আফগানিস্তানের নাগরিকরা বর্তমানে মাত্র ২২টি গন্তব্যে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় ভ্রমণ করতে পারেন, যা শীর্ষে থাকা সিঙ্গাপুরের তুলনায় ১৭০টি কম।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ