সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
২:০৫ অপরাহ্ন, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

৭৩ বছর পর আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বোর্ড অব গভর্নরসের নেতৃত্বে পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের (ডব্লিউবিজি) বোর্ড অব গভর্নরসের আগামী বছরের চেয়ারম্যান হিসেবে পাকিস্তানের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ১৯৫৩ সালের পর প্রথমবারের মতো দেশটি এ দায়িত্ব পেতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয়। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার পূর্ণাঙ্গ […]

৭৩ বছর পর আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বোর্ড অব গভর্নরসের নেতৃত্বে পাকিস্তান

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের (ডব্লিউবিজি) বোর্ড অব গভর্নরসের আগামী বছরের চেয়ারম্যান হিসেবে পাকিস্তানের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ১৯৫৩ সালের পর প্রথমবারের মতো দেশটি এ দায়িত্ব পেতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয়।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে পরবর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে পাকিস্তানের নাম ঘোষণা করা হয়। দেশটির অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রী আহাদ খান চিমা বর্তমানে বিশ্বব্যাংক গ্রুপে পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিশ্ব অর্থনীতির আলোচনায় ভূমিকা রাখার সুযোগ

১২ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এ বার্ষিক সম্মেলনে ১৯১টি দেশের ১৫ হাজারের বেশি প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ী নেতারা রয়েছেন।

পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয় এ অর্জনকে ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এ দায়িত্ব বিশ্ব অর্থনীতি ও উন্নয়নসংক্রান্ত আলোচনায় পাকিস্তানের অবদান রাখার সুযোগ তৈরি করবে। পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা এগিয়ে নিতেও সহায়তা করবে।

অধিবেশন শেষে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের করপোরেট সচিবালয়ের প্রতিনিধিরা আহাদ খান চিমাকে চেয়ারম্যান পদের দায়িত্ব ও নিয়মকানুন সম্পর্কে অবহিত করেন। দায়িত্ব পালনের সময় প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক সহায়তা ও সমন্বয় নিয়ে আলোচনার জন্য তিনি বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সহসভাপতি ও করপোরেট সচিব আরাধনা কুমার-কাপুরের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

এ ছাড়া বিদায়ী চেয়ারম্যান ও প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর কার্লোস কারভালহো স্পাল্ডিংয়ের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন চিমা। সফলভাবে দায়িত্ব পালন করায় তাঁকে অভিনন্দন জানান পাকিস্তানের এই মন্ত্রী এবং তাঁর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। বৈঠকে আগামী বছরের অগ্রাধিকার ও নতুন দায়িত্বের বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থে কাজ করার অঙ্গীকার

পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকে আহাদ খান চিমা বিশ্বমঞ্চে উন্নয়নশীল দেশগুলোর দাবি ও কণ্ঠস্বর আরও জোরালো করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন অর্থায়ন সহজ করা, বহুপাক্ষিক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো এবং টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির জন্য বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, দায়িত্বশীল বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ও আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক এবং সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করতে চায় পাকিস্তান।

অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠক মুহাম্মদ আওরঙ্গজেবের

এদিকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম পিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংককে সম্মেলন চলাকালে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর আয়োজিত এক নৈশভোজে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব।

বার্ষিক সভার আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির বাইরে আয়োজিত এ নৈশভোজে দুই পক্ষের মধ্যে সৌজন্য বিনিময় ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়।

আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় অংশ নিতে বর্তমানে ব্যাংককে অবস্থান করছেন আওরঙ্গজেব। তিনি পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, নীতিনির্ধারক ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করছেন।

আইএমএফের ১২০ কোটি ডলার পাওয়ার পথে পাকিস্তান

পাকিস্তান বর্তমানে আইএমএফের ৭০০ কোটি ডলারের এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি (ইএএফ) এবং ১৪০ কোটি ডলারের রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (আরএসএফ) কর্মসূচির আওতায় রয়েছে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে ইএএফের চতুর্থ পর্যালোচনা এবং আরএসএফের তৃতীয় পর্যালোচনা শেষে আইএমএফ ও পাকিস্তানের কর্মকর্তারা পর্যায়ক্রমিক পর্যালোচনা নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছান। এর ফলে আইএমএফের তহবিল থেকে প্রায় ১২০ কোটি ডলার পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে পাকিস্তান।

সূত্র: ডন, পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয় ও পিটিভি।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ