সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

রাজনীতি
১:০০ অপরাহ্ন, ৭ নভেম্বর ২০২৬

৭ নভেম্বরকে বিপ্লব বলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে অস্বীকার করছে বিএনপি: হাসনাত আবদুল্লাহ

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে ৭ নভেম্বর উদ্‌যাপন করলেও ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে স্বীকৃতি দিতে বিএনপির অনীহা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তাঁর মতে, রাজনৈতিক সুবিধা অনুযায়ী ইতিহাসের ঘটনাকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করছে দলটি। শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে এনসিপির অস্থায়ী […]

৭ নভেম্বরকে বিপ্লব বলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে অস্বীকার করছে বিএনপি: হাসনাত আবদুল্লাহ

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে ৭ নভেম্বর উদ্‌যাপন করলেও ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে স্বীকৃতি দিতে বিএনপির অনীহা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তাঁর মতে, রাজনৈতিক সুবিধা অনুযায়ী ইতিহাসের ঘটনাকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করছে দলটি।

শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান: বর্তমানের প্রেক্ষাপটে ফিরে দেখা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি দিনটিকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করলেও এনসিপি একে সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান হিসেবে আখ্যা দিয়ে কর্মসূচি পালন করে।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিএনপির ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সৈনিকদের অংশগ্রহণ ও সাধারণ মানুষের সমর্থনে জিয়াউর রহমান গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্ত হন। এ নিয়ে তাঁদের আপত্তি নেই। তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি সৈনিকদের অংশগ্রহণ ছিল। এত ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা ও অর্জন থাকার পরও বিএনপি জুলাইয়ের ঘটনাকে গণঅভ্যুত্থান, এমনকি বিপ্লব হিসেবেও স্বীকৃতি দিতে চায় না।

তিনি বলেন, ৭ নভেম্বরের ঘটনায় জিয়াউর রহমানকে কেন্দ্র করে বিএনপি একক মালিকানা দাবি করতে পারে। কিন্তু ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের একক মালিকানা দাবি করার সুযোগ নেই। এ কারণেই কি ৭ নভেম্বরকে বিপ্লব বলা হলেও জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে স্বীকৃতি দিতে দলটির অনীহা—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

১৯৭৫-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত সংঘটিত অপকর্মের বিচার নিশ্চিত না করেই আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করেছিলেন জিয়াউর রহমান।

বিএনপিও একই পথে হাঁটছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। কারা অপরাধী আর কারা নিরপরাধ, তা নির্ধারণ করবে আদালত ও বিচারব্যবস্থা।

বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে হাসনাত আরও বলেন, ক্ষমতায় আসার নয় মাস পরও মূল্যস্ফীতি ১২ শতাংশে রয়েছে। প্রশাসন থেকে অর্থনীতি—সব ক্ষেত্রে আগামী এক বছর বিএনপি সরকার ব্যর্থ হবে বলে তিনি মনে করেন। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে এখনো ইতিহাসের দেওয়া সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আলোচনা সভায় এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন অভিযোগ করেন, ১৯৯০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জনগণের মুক্তির আন্দোলনের সঙ্গে বিএনপি বারবার প্রতারণা করেছে।

এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার বলেন, আওয়ামী লীগের জবাবদিহি নিশ্চিত না করে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পুনর্মিলনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক পুনর্বাসনে পরিণত হয়। বিএনপিকে একই ভুল দ্বিতীয়বার না করার আহ্বান জানান তিনি।

সারোয়ার তুষার আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে গুপ্তচর খুঁজছেন। তবে নিজের দলের ভেতরে কারা সরকারকে ভুল পথে পরিচালিত করছেন, সেটিও খতিয়ে দেখা উচিত।

এনসিপির মিডিয়া সম্পাদক ইয়াসির আরাফাতের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন দলের যুগ্ম সদস্যসচিব ফরিদুল হক এবং স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনজিলা ঝুমাসহ অন্য নেতারা।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ