তুরস্কের বৃহত্তম শহর ইস্তাম্বুলে ভয়াবহ বন্যায় অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৪২ সালের পর শহরটিতে এটিই সবচেয়ে বড় বন্যা বিপর্যয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত আগের ৪৮ ঘণ্টায় ইস্তাম্বুলে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে, তা সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের ঐতিহাসিক গড় বৃষ্টিপাতের সম্মিলিত পরিমাণকেও ছাড়িয়ে গেছে। প্রবল বৃষ্টিতে […]
ছবি: সংগৃহীত
তুরস্কের বৃহত্তম শহর ইস্তাম্বুলে ভয়াবহ বন্যায় অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৪২ সালের পর শহরটিতে এটিই সবচেয়ে বড় বন্যা বিপর্যয়।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত আগের ৪৮ ঘণ্টায় ইস্তাম্বুলে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে, তা সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের ঐতিহাসিক গড় বৃষ্টিপাতের সম্মিলিত পরিমাণকেও ছাড়িয়ে গেছে।
প্রবল বৃষ্টিতে শহরের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক ও পার্ক তলিয়ে গেছে। স্রোতে ভেসে গেছে অসংখ্য যানবাহন। বন্যার ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা ও উদ্ধার তৎপরতায় হাজার হাজার কর্মী কাজ করছেন।
বুধবার রাতে প্রবল বর্ষণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি পরিদর্শনে গিয়ে তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চিফতচি বলেন, “আমরা আমাদের নাগরিকদের সহায়তায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তবে আমরাও ১৯৪২ সালের পর সবচেয়ে বড় বন্যা বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছি।”
শুক্রবার ইস্তাম্বুলের সারিয়ার জেলায় একটি সেতুর নিচ থেকে ৬৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে বন্যায় আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। নিহতদের মধ্যে ঝড়ের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যাওয়া এক কিশোরও রয়েছে।
ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের আগে সারিয়ার জেলার আয়াজাগা এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় চিফতচি জানিয়েছিলেন, আরও চারজন নিখোঁজ রয়েছেন।
বন্যার পানিতে শহরের বিভিন্ন এলাকার বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে সড়ক ও পার্ক। স্রোতে ভেসে যাওয়া বহু যানবাহন পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নিচে গিয়ে এক জায়গায় স্তূপ হয়ে পড়ে।
চিফতচি জানান, বন্যার কারণে ক্ষয়ক্ষতি ও অন্যান্য সমস্যা নিয়ে ৯ হাজার ৮৫০টি অভিযোগ বা প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করা এবং বাসিন্দাদের সহায়তায় ইস্তাম্বুলে ৪৬ হাজার কর্মী কাজ করছেন।
পরিবেশ, নগরায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মুরাত কুরুমও চিফতচির সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।
জলপথের কাছাকাছি নগর উন্নয়ন বন্যার তীব্রতা বাড়িয়ে থাকতে পারে—এমন উদ্বেগের বিষয়ে মুরাত কুরুম বলেন, এ সমস্যার সমাধান করা অত্যাবশ্যক।
আগামী মাসে তুরস্কের আনতালিয়া শহরে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সম্মেলন কপ-৩১ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করবেন কুরুম। বন্যার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের যোগসূত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা কোনো বিকল্প নয়, বরং এটি একটি প্রয়োজনীয়তা।
সূত্র: এবিসি নিউজ