আফগানিস্তানের কাবুল ও কান্দাহার অঞ্চলে পাকিস্তানের বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দেশটির বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। এই হামলাকে তারা আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের প্রতি স্পষ্ট অবজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক আইনের গম্ভীর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করেছে। বৃহস্পতিবার আফগান হিউম্যান রাইটস অ্যালায়েন্সের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাধারণ জনগণ ‘সন্ত্রাস চালিত রাজনীতির’ খেসারত দিচ্ছে। এই হামলায় নিরীহ মানুষের রক্তপাতের পাশাপাশি জাতীয় সার্বভৌমত্বের […]
আফগানিস্তানের কাবুল ও কান্দাহার অঞ্চলে পাকিস্তানের বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দেশটির বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। এই হামলাকে তারা আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের প্রতি স্পষ্ট অবজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক আইনের গম্ভীর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করেছে।
বৃহস্পতিবার আফগান হিউম্যান রাইটস অ্যালায়েন্সের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাধারণ জনগণ ‘সন্ত্রাস চালিত রাজনীতির’ খেসারত দিচ্ছে। এই হামলায় নিরীহ মানুষের রক্তপাতের পাশাপাশি জাতীয় সার্বভৌমত্বের পবিত্রতা লঙ্ঘিত হয়েছে, যা সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য।
বিবৃতিতে এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ আফগানিস্তানের আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সরাসরি আঘাত। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে তালেবানের বিভিন্ন উপদলের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে আসছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা উত্তেজনাকে বাড়িয়ে তুলেছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর জোট সামগ্রিকভাবে একটি টেকসই আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তারা নিরাপত্তার জন্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণ ও জঙ্গিবাদের অন্তর্নিহিত কারণ মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সতর্কবার্তাও দিয়েছে তারা। তাদের মতে, সন্ত্রাসবাদ দ্রুতই আফগানিস্তানের সীমানা পেরিয়ে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের পর গত দুই সপ্তাহে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও সরাসরি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকশ মানুষ নিহত এবং হাজারো মানুষ আহত হয়েছে।
পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে যে, আফগানিস্তানের সঙ্গে সংযুক্ত ২,৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে কাবুল পৃষ্ঠপোষকতা করছে। এই মদদ বন্ধের দাবি পাকিস্তান বহুদিন ধরে করে আসছে। দুই সপ্তাহ আগে পাকিস্তান কাবুলে বিমান হামলা চালানোয় উত্তেজনা তীব্র হয়।
এর উত্তরে আফগান সেনারা সীমান্তে পাকিস্তানি সেনাদের ওপর হামলা চালায়, যা বড় সংঘর্ষে পরিণত হয় এবং বহু প্রাণহানির কারণ হয়। যদিও আফগানিস্তান শুরু থেকেই দাবি করে আসছে তারা কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সাহায্য করে না।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য সুরক্ষা ও কূটনীতি জরুরি
এই সংঘর্ষ এবং বিমান হামলা কেবল দুই দেশের মধ্যকার সীমান্ত সমস্যার প্রতিফলন নয়, বরং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি। আফগানিস্তান- পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এই উত্তেজনা কেবল সীমান্ত নিরাপত্তার ইস্যুতে সীমাবদ্ধ নয়; এতে রয়েছে রাজনৈতিক ও সামরিক কূটনীতির জটিলতা।
আফগান জনগণের জীবনের নিরাপত্তা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা নেয়া অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি উভয় দেশের মধ্যে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ না করা পর্যন্ত এই ধরনের সংঘর্ষের অবসান কঠিন হবে।
এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে, শুধু আঞ্চলিক নয়, বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তার জন্যও হুমকি সৃষ্টি হতে পারে। তাই, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আহ্বান অনুযায়ী সন্ত্রাসবাদের মূল কারণগুলো মোকাবেলা করা অত্যন্ত জরুরি।