সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
৪:৫৩ অপরাহ্ন, ২৮ জুলাই ২০২৬

ট্রাম্প-ফিফা সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক, ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে কংগ্রেসে তদন্তের উদ্যোগ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের সঙ্গে ফিফার সম্পর্ক নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য জেমি রাসকিন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছেন। রোববার ইনফান্তিনোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে রাসকিন ফিফা ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে হওয়া যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন, উপহার, সুবিধা কিংবা অন্য […]

ট্রাম্প-ফিফা সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক, ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে কংগ্রেসে তদন্তের উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের সঙ্গে ফিফার সম্পর্ক নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য জেমি রাসকিন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছেন।

রোববার ইনফান্তিনোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে রাসকিন ফিফা ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে হওয়া যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন, উপহার, সুবিধা কিংবা অন্য যেকোনো ধরনের সম্পর্কের তথ্য চেয়েছেন। একই সঙ্গে নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারে অবস্থিত ফিফার কার্যালয়ে কারা যাতায়াত করেছেন, সেই সংক্রান্ত দর্শনার্থীর নথিও জমা দিতে বলা হয়েছে। ইনফান্তিনোকে কংগ্রেসে লিখিত রেকর্ডভিত্তিক সাক্ষাৎকার দেওয়ার অনুরোধও জানানো হয়েছে।

বিশ্বকাপকে ঘিরে ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয় গত বছরের ডিসেম্বরে। সে সময় ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে নতুন চালু হওয়া ফিফা পিস প্রাইজ প্রদান করা হয়। সমালোচকদের অভিযোগ, অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য প্রশাসনের নির্দেশে কেনেডি সেন্টারের সংস্কারকাজ তড়িঘড়ি করে শেষ করা হয়েছিল। এর আগে নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারে ফিফার নতুন কার্যালয় উদ্বোধনও আলোচনার জন্ম দেয়।

বিশ্বকাপ চলাকালে বিতর্ক আরও বাড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনকে ঘিরে। অভিযোগ অনুযায়ী, বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে তার লাল কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য ট্রাম্প একাধিকবার ইনফান্তিনোর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ফিফা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে বিষয়টি আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করে এবং কয়েকটি জাতীয় ফুটবল সংস্থা আপত্তি জানায়।

স্পেনের শিরোপা জয়ের মাধ্যমে শেষ হওয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে ট্রাম্প, কানাডা ও মেক্সিকোর নেতাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ইনফান্তিনো। দুজনকে একসঙ্গে ভিআইপি গ্যালারিতে খেলা দেখতে দেখা যায়। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মাঠে নামার সময় দর্শকদের একাংশ তাদের উদ্দেশে দুয়োও দেয়।

রাসকিন তার চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করেছেন, যেখানে বৈশ্বিক ফুটবল দুর্নীতির তদন্তে অভিযুক্ত কয়েকজনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়। এর মধ্যে ২০১৫ সালের বহুল আলোচিত ফিফা দুর্নীতি মামলার কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা ও ক্রীড়া বিপণন প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীর নামও ছিল।

চিঠিতে তিনি দাবি করেন, ফিফার নেতৃত্বে আসার পর ইনফান্তিনো সংস্থার নৈতিক জবাবদিহির কাঠামো দুর্বল করেছেন এবং নীতিশাস্ত্র কমিটির বেশ কয়েকজন সদস্যকে সরিয়ে দিয়েছেন। তার অভিযোগ, এর ফলে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আইন অধ্যাপক এবং ফিফার সাবেক নীতিশাস্ত্র কমিটির এক সদস্য এই সম্পর্ককে “বৈধ ঘুষ” বলেও অভিহিত করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রাসকিন। তার দাবি, ডাইনামিক প্রাইসিং ব্যবস্থার কারণে টিকিটের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় অনেক সমর্থক ম্যাচ দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলও তদন্ত করছেন।

রাসকিনের অভিযোগ, ফিফা ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে টিকিট বিক্রিতে অতিরিক্ত মূল্য আদায় এবং বিতর্কিত বিক্রয় কৌশল অনুসরণ করেছে, যার আর্থিক চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ দর্শকদেরই বহন করতে হয়েছে।

চিঠিতে আগামী ৯ আগস্টের মধ্যে চাওয়া নথিপত্র জমা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় রিপাবলিকানদের সমর্থন ছাড়া ইনফান্তিনোকে বাধ্যতামূলকভাবে হাজির করানোর ক্ষমতা রাসকিনের নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপ শেষ হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ফিফার সম্পর্ক সামনে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ২০৩১ সালের নারী বিশ্বকাপ আয়োজনের অন্যতম সম্ভাব্য স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি ২০৩৮ সালের পুরুষ বিশ্বকাপও দেশটিতে আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।

এদিকে সমালোচনার জবাবে সোমবার ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে ইনফান্তিনো অভিযোগ করেন, তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঘৃণা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তিনি ২০২৬ বিশ্বকাপকে ফিফার ইতিহাসের অন্যতম সফল আয়োজন বলেও দাবি করেন।

আগামী মার্চে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা সভাপতির নির্বাচনের আগে ২০০টির বেশি সদস্য দেশের সমর্থন পেয়েছেন ইনফান্তিনো। তবে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনসহ কয়েকটি সংস্থা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। নরওয়ে ইতোমধ্যে ফোলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘটনায় ফিফার নীতিশাস্ত্র বিভাগে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ