সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

NYC
৩:০৬ অপরাহ্ন, ৪ আগস্ট ২০২৬

কুইন্সের ফ্লাশিংয়ে ডে কেয়ার নিয়ে প্রশ্ন, বছরে ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি মেডিকেইড বিল

নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সের ফ্লাশিং এলাকায় পরিচালিত একাধিক সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার (SADC) কেন্দ্রের মেডিকেইড বিলিং নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। নিউইয়র্ক পোস্টের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মাত্র এক মাইল এলাকার মধ্যে থাকা ৭৭টি ডে কেয়ার কেন্দ্র বছরে ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মেডিকেইড বিল করছে, যা পুরো নিউইয়র্ক স্টেটের সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার ব্যয়ের […]

কুইন্সের ফ্লাশিংয়ে ডে কেয়ার নিয়ে প্রশ্ন, বছরে ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি মেডিকেইড বিল

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সের ফ্লাশিং এলাকায় পরিচালিত একাধিক সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার (SADC) কেন্দ্রের মেডিকেইড বিলিং নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। নিউইয়র্ক পোস্টের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মাত্র এক মাইল এলাকার মধ্যে থাকা ৭৭টি ডে কেয়ার কেন্দ্র বছরে ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মেডিকেইড বিল করছে, যা পুরো নিউইয়র্ক স্টেটের সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার ব্যয়ের প্রায় ১৪ শতাংশ।

সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার কেন্দ্রগুলো মূলত এমন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য পরিচালিত হয়, যাদের শারীরিক বা মানসিক সীমাবদ্ধতার কারণে সাধারণ প্রবীণ কেন্দ্রের তুলনায় বেশি পরিচর্যা ও সহায়তা প্রয়োজন। এসব কেন্দ্রের সেবা মেডিকেইডের মাধ্যমে অর্থায়ন করা হয়।
অনুসন্ধানে নিউইয়র্ক পোস্টের সাংবাদিকরা ফ্লাশিংয়ের কয়েকটি বড় ডে কেয়ার কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ছয় বছরে মেডিকেইড থেকে ২০ থেকে ৪০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিল পাওয়া কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের দরজা বন্ধ পাওয়া যায়। আবার যেসব কেন্দ্র খোলা ছিল, সেখানেও অনেক কক্ষ ফাঁকা ছিল এবং সেবাগ্রহীতাদের উপস্থিতি দেখা যায়নি।

এর মধ্যে লিভিংওয়েল ডে কেয়ার ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় ২৭ মিলিয়ন ডলার মেডিকেইড অর্থ পেয়েছে বলে সরকারি তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সাংবাদিকরা সেখানে গিয়ে কোনো প্রবীণ সেবাগ্রহীতাকে দেখতে পাননি। প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মী এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান এবং সাংবাদিকদের চলে যেতে বলেন। তবে প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি।

একইভাবে বাও কাং অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় ৩২ মিলিয়ন ডলার মেডিকেইড বিল করেছে। প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মী জানান, প্রতিদিন এক থেকে দুইশ মানুষ সেখানে আসেন। তবে সরকারি বিলিংয়ের তথ্য সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান এবং সাংবাদিকদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেননি।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ প্রায় ১২০ মিলিয়ন ডলারের মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগে দুটি ডে কেয়ার কেন্দ্র ও একটি ফার্মেসি সংশ্লিষ্ট মামলার ঘোষণা দেয়। অভিযোগে বলা হয়, প্রবীণদের নগদ অর্থ ও বিভিন্ন উপহার দিয়ে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির নামে অর্থ আদায় করা হতো।

স্থানীয় এক ফার্মেসি মালিক কেনি চ্যান নিউইয়র্ক পোস্টকে জানান, অনেক প্রবীণ তার কাছে এসে জানতে চান তারা কোনো বিশেষ ‘বেনিফিট’ পাবেন কি না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই শব্দটি স্থানীয়ভাবে এমন একটি অবৈধ ব্যবস্থাকে বোঝাতে ব্যবহার করা হয়, যেখানে অর্থ বা অন্য সুবিধার বিনিময়ে কোনো ব্যক্তির নামে মেডিকেইড থেকে বিল করা হয়। চ্যানের দাবি, তিনি এমন সুবিধা দেন না, ফলে ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

নিউইয়র্ক পোস্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ফ্লাশিংয়ের সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার কেন্দ্রগুলো মোট ৭৩৩ মিলিয়ন ডলার মেডিকেইড অর্থ পেয়েছে বা বিল করেছে। তবে প্রতিবেদনে একাধিকবার উল্লেখ করা হয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠানের বিলিংয়ের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, তাদের সবাইকে প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়নি।
এদিকে নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর জন লিউ বলেছেন, ফ্লাশিংয়ে বিপুলসংখ্যক প্রবীণ বাসিন্দা থাকলেও সরকারি সিনিয়র সেন্টারের সংখ্যা খুবই কম। তার মতে, এই ঘাটতির কারণেই বেসরকারি ডে কেয়ার কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও পুরো ফ্লাশিং এলাকার সব প্রতিষ্ঠানকে একইভাবে দেখা উচিত নয়।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সার্ভিসেসের প্রশাসক ডা. মেহমেত ওজ নিউইয়র্কের তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে কিছু সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার কেন্দ্র অপরাধী চক্রের অর্থ আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে এবং অবৈধ পদ্ধতিতে মেডিকেইড থেকে বিপুল অর্থ নেওয়া হচ্ছে।

তবে নিউইয়র্ক পোস্টের অনুসন্ধানেও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, উল্লিখিত সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। অনুসন্ধানটি মূলত মেডিকেইড ব্যয়, সেবাগ্রহীতাদের উপস্থিতি এবং সরকারি তদারকির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ