সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

রাজনীতি
৫:১৫ পিএম, ৬ আগস্ট ২০২৬

শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন ঘিরে ভারতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন বিএনপির

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায় দেশটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। দলটির শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, এমন আয়োজনের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিবিসি বাংলাকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনাকে ভারত সরকার কেন গণমাধ্যমে কথা […]

শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন ঘিরে ভারতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন বিএনপির

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায় দেশটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। দলটির শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, এমন আয়োজনের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

বিবিসি বাংলাকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনাকে ভারত সরকার কেন গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দিল—এ বিষয়ে তাদের স্পষ্ট প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয়ে রয়েছেন। আশ্রয় নেওয়ার পরও তিনি বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। এমন অবস্থায় তাকে প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া ভারতের সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সালাহউদ্দিন আহমদের ভাষ্য, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত একজন ব্যক্তিকে এ ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া কতটা যৌক্তিক, সেটি ভারত সরকারের ব্যাখ্যা করা উচিত।

গত ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে নয়াদিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অডিও কলে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেন।

ঘটনাটির পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে বিএনপির নেতাদের মধ্যেও এ বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড নিয়ে ক্ষমা চাওয়া বা দুঃখ প্রকাশের বিষয়ে করা প্রশ্ন এড়িয়ে যান শেখ হাসিনা। অন্যদিকে, ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকা তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, জুলাই আন্দোলনের ঘটনাকে ঘিরে এক পক্ষকে দায়মুক্তি দেওয়া হলে অন্য পক্ষেরও একই ধরনের অধিকার থাকা উচিত।

এ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই আন্দোলনে গণহত্যার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অনুশোচনা বা ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়নি। বরং তারা বিদেশে অবস্থান করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে, যা জনগণের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত চলছে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দলটির বিষয়ে বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার জন্য আইনি ভিত্তিও তৈরি করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পক্ষে নয়। তবে আওয়ামী লীগের বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে এবং সরকার সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

তার মতে, আইনের পাশাপাশি জনগণও আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের বিচার করবে। দীর্ঘ সময় ধরে বিরোধী দল দমন, গুম, হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের কারণে জনগণের আস্থা দলটির ওপর আর নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির একাধিক সূত্রের দাবি, ভারতের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন ছাড়া নয়াদিল্লিতে এমন সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন সম্ভব নয়। এ কারণেই বিষয়টি নিয়ে সরকার ও দলটির শীর্ষ পর্যায়ে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ