জাপানে তীব্র বাতাস ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়ে এবার চীনের পূর্ব উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে টাইফুন ডলফিন। ঝড়ের প্রভাবে ওকিনাওয়ায় কয়েকজন আহত হওয়ার পাশাপাশি দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ৫০ হাজারের বেশি বাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় চীনের পূর্বাঞ্চলে এরই মধ্যে বন্দর বন্ধ, ফেরি চলাচল স্থগিত এবং বিমান চলাচলে বিধিনিষেধসহ একাধিক জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শনিবার (৮ […]
ছবি: সংগৃহীত
জাপানে তীব্র বাতাস ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়ে এবার চীনের পূর্ব উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে টাইফুন ডলফিন। ঝড়ের প্রভাবে ওকিনাওয়ায় কয়েকজন আহত হওয়ার পাশাপাশি দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ৫০ হাজারের বেশি বাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় চীনের পূর্বাঞ্চলে এরই মধ্যে বন্দর বন্ধ, ফেরি চলাচল স্থগিত এবং বিমান চলাচলে বিধিনিষেধসহ একাধিক জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) জাপানের কর্তৃপক্ষ জানায়, ওকিনাওয়ায় পাঁচজন বয়স্ক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন প্রবল বাতাসের ধাক্কায় পড়ে গিয়ে আহত হন। তবে কারও আঘাত গুরুতর নয়। কাগোশিমায়ও একজন আহত হয়েছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাগোশিমার প্রায় ৩৯ হাজার ভবন এবং ওকিনাওয়ায় ১২ হাজারের বেশি ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ঝড়ের কারণে দেশীয় বিভিন্ন বিমান সংস্থার পাশাপাশি জাপান এয়ারলাইনসও ওকিনাওয়াগামী এবং ওকিনাওয়া থেকে ছেড়ে যাওয়ার সব ফ্লাইট বাতিল করেছে।
টাইফুনটির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে ওকিনাওয়া ও কাগোশিমার আমামি দ্বীপপুঞ্জে। ঝড়টির কেন্দ্রের কাছে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬২ কিলোমিটার রেকর্ড করা হয়েছে। দমকা হাওয়ার সময় সেই গতি ঘণ্টায় ২১৬ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠেছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রোববার গভীর রাত থেকে সোমবার ভোরের মধ্যে টাইফুন ডলফিন চীনের উপকূলে আঘাত হানতে পারে। সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় চীন ঝড়টিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা ‘অরেঞ্জ’ ক্যাটাগরিতে রেখেছে। একই সঙ্গে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কায় জরুরি সাড়াদানের মাত্রা বাড়িয়ে লেভেল ৩ করা হয়েছে।
চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, ঝেজিয়াংয়ের ঝোউশান ও ফুজিয়ানের ফুডিংয়ের মধ্যবর্তী কোনো এলাকায় ঝড়টির আঘাত হানার সম্ভাবনা বেশি। ওই সময় ঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৩৮ থেকে ৪৫ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত চীনের পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসের প্রভাব থাকতে পারে।
সাংহাইসহ আশপাশের অঞ্চলও এই দুর্যোগের আওতায় পড়তে পারে। ঝেজিয়াংয়ের কিছু এলাকায় ৬০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঝেজিয়াং উপকূলে সর্বোচ্চ মাত্রার সতর্কতা জারি করে কর্তৃপক্ষ সব বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ করেছে। একই সঙ্গে ফেরি চলাচল স্থগিত, নির্মাণকাজ বন্ধ এবং মাছ ধরার নৌযানগুলোকে দ্রুত উপকূলে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিংবো লিশে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও রোববার সব ফ্লাইট স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সাংহাইয়ের ইয়াংশান বন্দর থেকে জাহাজগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ইয়াংজি নদীর বদ্বীপ অঞ্চলে রোববার থেকে কিছু রেলসেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের কর্তৃপক্ষও টাইফুনের গতিপথ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং প্রয়োজন হলে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
টাইফুনের প্রভাব থেকে বাদ যাচ্ছে না তাইওয়ানও। সেখানে ইতোমধ্যে ৭৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, যার বেশিরভাগই আন্তর্জাতিক রুটের। উত্তরাঞ্চলে সপ্তাহান্তে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও শনিবার পর্যন্ত কোনো এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
এদিকে তাইওয়ান প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে চীনের ট্রাফিক বিধি মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে বেইজিং। তবে তাইওয়ান এই নির্দেশকে ‘হাস্যকর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক জলসীমায় এ ধরনের বিধিনিষেধ আরোপের এখতিয়ার চীনের নেই।