ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আসন্ন নিউইয়র্ক সফর ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নেতানিয়াহুর নিউইয়র্কে আসার কথা রয়েছে। তাকে ঘিরে বড় ধরনের বিক্ষোভের আশঙ্কায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, […]
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আসন্ন নিউইয়র্ক সফর ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নেতানিয়াহুর নিউইয়র্কে আসার কথা রয়েছে। তাকে ঘিরে বড় ধরনের বিক্ষোভের আশঙ্কায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির নেতানিয়াহুবিরোধী অবস্থান এবং সাম্প্রতিক বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। এক পুলিশ কর্মকর্তা সম্ভাব্য পরিস্থিতিকে ‘বারুদের স্তূপের’ সঙ্গে তুলনা করে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তার মতে, বড় ধরনের বিক্ষোভ বা সহিংসতা দেখা দিলে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
মামদানি দীর্ঘদিন ধরেই গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও নীতির সমালোচনা করে আসছেন। নির্বাচনী প্রচারের সময় তিনি বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তার করা উচিত।
তবে গত জুলাইয়ে আইনি পর্যালোচনার পর মামদানি স্বীকার করেন, নিউইয়র্ক সিটি সরকারের নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করার আইনগত ক্ষমতা নেই। এরপর তিনি এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের প্রশ্নে আইনি জটিলতাও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সংবিধির সদস্য নয়। একই সঙ্গে জাতিসংঘের কার্যক্রমে অংশ নিতে নিউইয়র্কে আসা বিদেশি প্রতিনিধিদের প্রবেশ ও নিরাপত্তার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতাও রয়েছে। ফলে মামদানির আগের অবস্থান বাস্তবে কার্যকর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আইনি বাধা রয়েছে।
নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর সফরের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে।
তবে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, সফরের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন হবে, তা সম্ভাব্য হুমকি ও পরিস্থিতির মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করবে।
এ ক্ষেত্রে ‘বারুদের স্তূপ’ মন্তব্যটি নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্রের মূল্যায়ন। এটি নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত নিরাপত্তা সিদ্ধান্ত নয়। নেতানিয়াহুর সফর ঘিরে প্রকৃত নিরাপত্তা ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।