সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

NYC
২:৩৪ অপরাহ্ন, ১০ আগস্ট ২০২৬

নায়ক থেকে গায়ক, নিউইয়র্কের মঞ্চে অপূর্বর কণ্ঠে মুগ্ধ দর্শক

অভিনেতা হিসেবে জনপ্রিয়তার পর এবার গায়ক হিসেবেও দর্শকের প্রশংসা পেলেন জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। নিউইয়র্কে নিজের প্রথম একক সংগীত সন্ধ্যায় দুই ঘণ্টার বেশি সময় গান পরিবেশন করে প্রবাসী দর্শকদের মুগ্ধ করেন তিনি। গানের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবন ও অভিনয় ক্যারিয়ারের নানা গল্পও শোনান উপস্থিত দর্শকদের। গত ৮ আগস্ট নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয় ‘অপূর্ব লাইভ মিউজিক্যাল নাইট’। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে পর্দায় […]

নায়ক থেকে গায়ক, নিউইয়র্কের মঞ্চে অপূর্বর কণ্ঠে মুগ্ধ দর্শক

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

অভিনেতা হিসেবে জনপ্রিয়তার পর এবার গায়ক হিসেবেও দর্শকের প্রশংসা পেলেন জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। নিউইয়র্কে নিজের প্রথম একক সংগীত সন্ধ্যায় দুই ঘণ্টার বেশি সময় গান পরিবেশন করে প্রবাসী দর্শকদের মুগ্ধ করেন তিনি। গানের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবন ও অভিনয় ক্যারিয়ারের নানা গল্পও শোনান উপস্থিত দর্শকদের।

গত ৮ আগস্ট নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয় ‘অপূর্ব লাইভ মিউজিক্যাল নাইট’। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে পর্দায় নায়ক হিসেবে পরিচিত অপূর্ব এদিন মঞ্চে হাজির হন গায়ক হিসেবে। তার পরিবেশনা ঘিরে শুরু থেকেই দর্শকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক আগ্রহ।

উপস্থাপক শামীম সাহেদের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে গান পরিবেশনের পাশাপাশি দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথনে অংশ নেন অপূর্ব। অভিনয়জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত স্মৃতি ও জীবনের নানা অধ্যায় উঠে আসে সেই আড্ডায়।

অনুষ্ঠানের আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয় নিজের বাবাকে নিয়ে স্মৃতিচারণের সময়। বাবাকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অপূর্ব। তার সঙ্গে আবেগে যুক্ত হন উপস্থিত দর্শকদের অনেকেও।

অনুষ্ঠান শেষে অপূর্বর গায়কি নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানান দর্শকরা। একজন দর্শক বলেন, অপূর্বর গান শুনতে এসে তার প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ভালো লেগেছে। কণ্ঠ ও পরিবেশনা দুটিই তাকে মুগ্ধ করেছে।

আরেক দর্শক বলেন, “অপূর্বর গান অপূর্ব হয়েছে। আজকের অনুষ্ঠান আসলেই অপূর্ব।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা আবদুন নূর সজলও। দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও বন্ধু অপূর্বর গান শোনার অভিজ্ঞতা তার আগেও হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে নিউইয়র্কে সরাসরি মঞ্চে অপূর্বর পরিবেশনা দেখে মুগ্ধ সজল।

তিনি বলেন, “অপূর্ব আমার বন্ধু, আমার কলিগ। আমরা একসঙ্গে অনেক কাজ করেছি। অপূর্ব আমাদের স্টেজে অনেক সুন্দর সুন্দর গান গাইত। কিন্তু আজকে লাইভ গান শুনেছি। একজন সহশিল্পী হিসেবে বলব, অপূর্বর গানও অপূর্বর মতোই।”

অভিনেতার আরও কয়েকজন সহকর্মীও জানান, শুটিংয়ের সময় থেকেই অপূর্বর গান গাওয়ার বিষয়টি তাদের পরিচিত। দীর্ঘ শুটিংয়ের বিরতিতে বিভিন্ন সময় তার গান শুনেছেন তারা। তবে নিউইয়র্কের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে সংগীতশিল্পী হিসেবে দর্শকদের সামনে নিজেকে তুলে ধরলেন অপূর্ব।

প্রথম একক সংগীত সন্ধ্যায় দর্শকদের এমন সাড়া পাবেন, তা নিয়ে অনুষ্ঠান শুরুর আগে কিছুটা অনিশ্চয়তায় ছিলেন অপূর্ব। তবে মঞ্চে ওঠার পর দর্শকদের উচ্ছ্বাস তার সেই সংশয় দূর করে দেয়।

নিজের অনুভূতি জানিয়ে অপূর্ব বলেন, “ভীষণ ভালো লাগছে। আমার নিজের প্রত্যাশা খুব কম ছিল। মনে হচ্ছিল, আসলে মানুষের মন জয় করতে পারব কি না। এত ভালোবাসা পাব, এটা আমার কল্পনারও বাইরে ছিল।”

দর্শকদের ভালোবাসা তাকে সংগীত নিয়ে আরও এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছে বলেও জানান তিনি। নিউইয়র্কের পর যুক্তরাষ্ট্রের অন্য শহরগুলোতেও গান নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন এই অভিনেতা।

তবে সেটি নির্ভর করবে দর্শকদের আগ্রহের ওপর। অপূর্ব বলেন, “এটা আসলে দর্শকদের আগ্রহের ওপর নির্ভর করবে। তারা আমাকে দেখতে চান কি না। যদি আমার মনে হয় তারা আমাকে চান, তাহলে অবশ্যই হয়তো আবার তাদের সামনে হাজির হব।”

অভিনেতা হিসেবে দীর্ঘদিনের পরিচিতির পর সংগীতের মঞ্চে প্রথম একক আয়োজনেই ইতিবাচক সাড়া পেলেন অপূর্ব। নিউইয়র্কের এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে তার সংগীতচর্চা ও মঞ্চ পরিবেশনার পরিধি আরও বাড়ায় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ