উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি প্রথমে সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং পরে নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে। এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামীকাল শুক্রবার থেকে বৃষ্টি বাড়লেও শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত সারাদেশে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিম্নচাপের প্রভাবে শুরুতে উপকূলীয় […]
ছবি: সংগৃহীত
উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি প্রথমে সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং পরে নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে। এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামীকাল শুক্রবার থেকে বৃষ্টি বাড়লেও শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত সারাদেশে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিম্নচাপের প্রভাবে শুরুতে উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত বেশি হলেও পরবর্তী সময়ে দেশের মধ্যাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলেও এর প্রভাব বিস্তৃত হতে পারে। এ কারণে আগামী ১৯ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে কমবেশি বৃষ্টির প্রবণতা থাকতে পারে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি প্রথমে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়। পরে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে এটি স্থল নিম্নচাপ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূল ও তৎসংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছিল। এর প্রভাবে শুক্রবার উপকূলসহ সারাদেশে কমবেশি বৃষ্টি হতে পারে। তবে ১৫ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত উপকূলসহ সারাদেশে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বাড়তে পারে।
তিনি আরও জানান, দেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় চলতি মাসজুড়েই বিভিন্ন এলাকায় কমবেশি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
লঘুচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সামুদ্রিক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূল ও তৎসংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এটি পশ্চিমবঙ্গ উপকূল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে এবং আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।
এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
লঘুচাপের প্রভাবে রাজধানীসহ দেশের আকাশ বৃহস্পতিবার দিনভর মেঘাচ্ছন্ন ছিল। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রাতের মধ্যে রাজধানীতে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আগের দিনের তুলনায় বৃহস্পতিবার সারাদেশেই বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। দেশের সর্বোচ্চ ১৫১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে কক্সবাজারে। এ ছাড়া নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১৩৭, কক্সবাজারের কুতুবদিয়া ও লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ১১৩, ভোলায় ৮০, নোয়াখালীর মাইজদীকোর্টে ৭০, চট্টগ্রামে ৫৮ এবং পটুয়াখালীতে ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বৃষ্টিপাত বাড়ায় আগের দিনের তুলনায় দেশের তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে। ফলে দেশজুড়ে ভ্যাপসা গরমের অনুভূতিও কিছুটা কমেছে। বৃহস্পতিবার সিলেটে দেশের সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূলে অবস্থানরত লঘুচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে গিয়ে প্রথমে সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং পরে নিম্নচাপে রূপ নেয়। এটি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।
এদিকে মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, নিম্নচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।
এর প্রভাবে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে এবং বর্ধিত পাঁচ দিনেও এই প্রবণতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।