সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

NYC
৬:৩৪ অপরাহ্ন, ১৪ আগস্ট ২০২৬

নিউইয়র্কে ৩৫০ বছরের পুরোনো জর্জ ওয়াশিংটনের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি বিক্রি হচ্ছে ৮০ লাখ ডলারে

নিউইয়র্কের স্কোটিয়া এলাকায় ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি প্রাচীন ম্যানশন এবার বিক্রির জন্য উঠেছে। মোহক নদীর তীরে অবস্থিত ‘গ্লেন স্যান্ডার্স ম্যানশন’-এর দাম চাওয়া হয়েছে ৮০ লাখ ডলার। প্রায় সাড়ে তিন শত বছরের পুরোনো এই সম্পত্তিকে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের টিকে থাকা সবচেয়ে প্রাচীন বসতবাড়িগুলোর একটি হিসেবে ধরা হয়। এই বাড়ির ইতিহাসের শুরু ১৬৫৮ সালে। স্কটিশ ব্যবসায়ী […]

নিউইয়র্কে ৩৫০ বছরের পুরোনো জর্জ ওয়াশিংটনের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি বিক্রি হচ্ছে ৮০ লাখ ডলারে

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ মিনিটে পড়ুন |

নিউইয়র্কের স্কোটিয়া এলাকায় ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি প্রাচীন ম্যানশন এবার বিক্রির জন্য উঠেছে। মোহক নদীর তীরে অবস্থিত ‘গ্লেন স্যান্ডার্স ম্যানশন’-এর দাম চাওয়া হয়েছে ৮০ লাখ ডলার। প্রায় সাড়ে তিন শত বছরের পুরোনো এই সম্পত্তিকে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের টিকে থাকা সবচেয়ে প্রাচীন বসতবাড়িগুলোর একটি হিসেবে ধরা হয়।

এই বাড়ির ইতিহাসের শুরু ১৬৫৮ সালে। স্কটিশ ব্যবসায়ী আলেকজান্ডার লিন্ডসে গ্লেন মোহক নদীর তীরে তখন একটি ছোট পাথরের বাড়ি নির্মাণ করেন। নিজের জন্মভূমির স্মৃতি ধরে রাখতে তিনি আশপাশের এলাকার নাম রাখেন ‘স্কোটিয়া’। সেই এক কক্ষের পুরোনো বাড়িটির অংশ পরবর্তী সময়ে নির্মিত ম্যানশনের মধ্যেও রয়ে গেছে।

দীর্ঘ সময় ধরে সম্পত্তিটি গ্লেন পরিবারের হাতেই ছিল। প্রায় ২৬৬ বছর মালিকানা ধরে রাখার পর ১৯৬২ সালে পরিবারটি এটি বিক্রি করে দেয়। বর্তমান মালিকের ছেলে এবং বাড়িটির বিক্রয় প্রতিনিধি অ্যাঞ্জেলো মাইকেল ম্যাজোন জুনিয়রও এর দীর্ঘ ইতিহাসের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গণহত্যার সময়ও টিকে ছিল বাড়িটি

ম্যানশনটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বেশ কিছু ঐতিহাসিক কাহিনি। পারিবারিকভাবে প্রচলিত একটি গল্প অনুযায়ী, ফরাসি বন্দীদের প্রতি গ্লেন পরিবারের সহানুভূতির কারণেই ১৬৯০ সালের ‘স্কেনেকট্যাডি গণহত্যা’ থেকে বাড়িটি রক্ষা পেয়েছিল।

কিংবদন্তি অনুযায়ী, ঘটনার পরদিন সকালে ফরাসি কর্মকর্তারা নদী পার হয়ে এই বাড়িতে এসেছিলেন এবং সেখানে প্রাতরাশ করেছিলেন।

বর্তমান ম্যানশনটির মূল কাঠামো অবশ্য পরে তৈরি হয়। ক্যাপ্টেন জোহানেস ‘জন’ গ্লেন ১৭১৩ সালে ভবনটি নির্মাণ করেন। পুরোনো ১৬৫৮ সালের বাড়ির পাথর, কাঠ ও দরজার কিছু অংশ ব্যবহার করেই নতুন ভবনটি তৈরি করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

১৯৮৮ সালে রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী অ্যাঞ্জেলো ম্যাজোন সিনিয়র সম্পত্তিটি কিনে নেন। পরের বছর এটিকে তার ‘ম্যাজোন হসপিটালিটি’-এর প্রধান স্থাপনা হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন।

চার দশকের ব্যবসা শেষে বিক্রির সিদ্ধান্ত

বর্তমানে ৭৫ বছর বয়সী ম্যাজোন সিনিয়র সম্পত্তিটি বিক্রি করতে চাইছেন মূলত বয়সের কারণে। চার থেকে পাঁচ দশকের ব্যবসায়িক প্রচেষ্টায় তিনি তার প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৭ কোটি ডলারের ব্যবসায় পরিণত করেছেন। কিন্তু পরিবারের মধ্যে ব্যবসার দায়িত্ব নেওয়ার মতো উত্তরসূরি না থাকায় এখন সম্পত্তি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

তার ছেলে ম্যাজোন জুনিয়র পেশায় একজন অপেরা গায়ক এবং রিয়েল এস্টেট এজেন্ট।

ওয়াশিংটন ও ভবিষ্যৎ ফরাসি রাজার স্মৃতি

বাড়িটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে এখানে অবস্থান করা বিখ্যাত ব্যক্তিদের কারণে।

১৭৭৫ সালে জর্জ ওয়াশিংটন ওই অঞ্চলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিদর্শনের সময় ম্যানশনটিতে থেমেছিলেন বলে ঐতিহাসিক প্রমাণ রয়েছে। সেখানে তিনি একটি চা-চক্রেও অংশ নিয়েছিলেন।

এর কয়েক দশক পর, ফরাসি বিপ্লবের পর নির্বাসিত অবস্থায় ভবিষ্যৎ ফরাসি রাজা লুইস ফিলিপও এই বাড়িতে অবস্থান করেন। তার স্মৃতিতে ম্যানশনের একটি কক্ষ এখনো সংরক্ষিত রয়েছে।

বাড়িটির ভেতরে এখনো টিকে আছে পুরোনো জানালা, মেঝে, কাঠের কড়িকাঠ এবং ১৭১৩ সালের মূল দরজা। এসব উপাদানই ভবনটির ঐতিহাসিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়েছে।

‘ভূতের বাড়ি’ হিসেবেও পরিচিত

গ্লেন স্যান্ডার্স ম্যানশনকে ঘিরে শুধু ইতিহাস নয়, রয়েছে নানা অতিপ্রাকৃত গল্পও।

বাড়ির কর্মী ও পরিবারের সদস্যদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, সেখানে লাল পোশাক পরা এক নারীর অবয়ব দেখা যায়। ধারণা করা হয়, তিনি আলেকজান্ডার গ্লেনের নাতনি ডেবোরা গ্লেন।

এ ছাড়া বাড়ির ভেতরে হঠাৎ সব আলো জ্বলে ওঠা কিংবা কোনো দৃশ্যমান কারণ ছাড়াই পর্দা নড়ে ওঠার মতো ঘটনার কথাও শোনা যায়।

তবে ম্যানশনের বিক্রয় প্রতিনিধিদের বক্তব্য, এখানকার ‘ভূত’ নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তাদের ভাষায়, এসব অদৃশ্য বাসিন্দা বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ এবং কারও ক্ষতি করে না।

শুধু বাড়ি নয়, রয়েছে উন্নয়নের সুযোগও

প্রায় তিন একর জমির ওপর অবস্থিত সম্পত্তিটিতে রয়েছে ঐতিহাসিক মূল ভবন এবং একটি ২২ কক্ষের সরাইখানা। মূল ঐতিহাসিক বাড়িটির আয়তন প্রায় ২ হাজার ৮০০ বর্গফুট।

নতুন ক্রেতার জন্য রয়েছে আরও একটি বড় সুযোগ। সম্পত্তির সঙ্গে নিচতলায় রেস্তোরাঁ এবং ৯৫টি অ্যাপার্টমেন্ট ইউনিটের একটি কমপ্লেক্স নির্মাণের পূর্বানুমোদিত সুবিধাও রাখা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী ভবনটি ভেঙে ফেলার ক্ষেত্রে সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে বর্তমান মালিকের প্রত্যাশা, নতুন ক্রেতা ম্যানশনটির ঐতিহাসিক মূল্য বিবেচনায় নিয়ে এটি সংরক্ষণ করবেন।

কারণ এই বাড়িটি শুধু একটি দামি রিয়েল এস্টেট সম্পত্তি নয়—এর দেয়াল, দরজা, কাঠের কাঠামো আর পুরোনো কক্ষের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নিউইয়র্কের প্রায় সাড়ে তিন শত বছরের ইতিহাস।

নিউইয়র্কের স্কোটিয়া এলাকায় ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি প্রাচীন ম্যানশন এবার বিক্রির জন্য উঠেছে। মোহক নদীর তীরে অবস্থিত ‘গ্লেন স্যান্ডার্স ম্যানশন’-এর দাম চাওয়া হয়েছে ৮০ লাখ ডলার। প্রায় সাড়ে তিন শত বছরের পুরোনো এই সম্পত্তিকে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের টিকে থাকা সবচেয়ে প্রাচীন বসতবাড়িগুলোর একটি হিসেবে ধরা হয়।

এই বাড়ির ইতিহাসের শুরু ১৬৫৮ সালে। স্কটিশ ব্যবসায়ী আলেকজান্ডার লিন্ডসে গ্লেন মোহক নদীর তীরে তখন একটি ছোট পাথরের বাড়ি নির্মাণ করেন। নিজের জন্মভূমির স্মৃতি ধরে রাখতে তিনি আশপাশের এলাকার নাম রাখেন ‘স্কোটিয়া’। সেই এক কক্ষের পুরোনো বাড়িটির অংশ পরবর্তী সময়ে নির্মিত ম্যানশনের মধ্যেও রয়ে গেছে।

দীর্ঘ সময় ধরে সম্পত্তিটি গ্লেন পরিবারের হাতেই ছিল। প্রায় ২৬৬ বছর মালিকানা ধরে রাখার পর ১৯৬২ সালে পরিবারটি এটি বিক্রি করে দেয়। বর্তমান মালিকের ছেলে এবং বাড়িটির বিক্রয় প্রতিনিধি অ্যাঞ্জেলো মাইকেল ম্যাজোন জুনিয়রও এর দীর্ঘ ইতিহাসের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গণহত্যার সময়ও টিকে ছিল বাড়িটি

ম্যানশনটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বেশ কিছু ঐতিহাসিক কাহিনি। পারিবারিকভাবে প্রচলিত একটি গল্প অনুযায়ী, ফরাসি বন্দীদের প্রতি গ্লেন পরিবারের সহানুভূতির কারণেই ১৬৯০ সালের ‘স্কেনেকট্যাডি গণহত্যা’ থেকে বাড়িটি রক্ষা পেয়েছিল।

কিংবদন্তি অনুযায়ী, ঘটনার পরদিন সকালে ফরাসি কর্মকর্তারা নদী পার হয়ে এই বাড়িতে এসেছিলেন এবং সেখানে প্রাতরাশ করেছিলেন।

বর্তমান ম্যানশনটির মূল কাঠামো অবশ্য পরে তৈরি হয়। ক্যাপ্টেন জোহানেস ‘জন’ গ্লেন ১৭১৩ সালে ভবনটি নির্মাণ করেন। পুরোনো ১৬৫৮ সালের বাড়ির পাথর, কাঠ ও দরজার কিছু অংশ ব্যবহার করেই নতুন ভবনটি তৈরি করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

১৯৮৮ সালে রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী অ্যাঞ্জেলো ম্যাজোন সিনিয়র সম্পত্তিটি কিনে নেন। পরের বছর এটিকে তার ‘ম্যাজোন হসপিটালিটি’-এর প্রধান স্থাপনা হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন।

চার দশকের ব্যবসা শেষে বিক্রির সিদ্ধান্ত

বর্তমানে ৭৫ বছর বয়সী ম্যাজোন সিনিয়র সম্পত্তিটি বিক্রি করতে চাইছেন মূলত বয়সের কারণে। চার থেকে পাঁচ দশকের ব্যবসায়িক প্রচেষ্টায় তিনি তার প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৭ কোটি ডলারের ব্যবসায় পরিণত করেছেন। কিন্তু পরিবারের মধ্যে ব্যবসার দায়িত্ব নেওয়ার মতো উত্তরসূরি না থাকায় এখন সম্পত্তি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

তার ছেলে ম্যাজোন জুনিয়র পেশায় একজন অপেরা গায়ক এবং রিয়েল এস্টেট এজেন্ট।

ওয়াশিংটন ও ভবিষ্যৎ ফরাসি রাজার স্মৃতি

বাড়িটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে এখানে অবস্থান করা বিখ্যাত ব্যক্তিদের কারণে।

১৭৭৫ সালে জর্জ ওয়াশিংটন ওই অঞ্চলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিদর্শনের সময় ম্যানশনটিতে থেমেছিলেন বলে ঐতিহাসিক প্রমাণ রয়েছে। সেখানে তিনি একটি চা-চক্রেও অংশ নিয়েছিলেন।

এর কয়েক দশক পর, ফরাসি বিপ্লবের পর নির্বাসিত অবস্থায় ভবিষ্যৎ ফরাসি রাজা লুইস ফিলিপও এই বাড়িতে অবস্থান করেন। তার স্মৃতিতে ম্যানশনের একটি কক্ষ এখনো সংরক্ষিত রয়েছে।

বাড়িটির ভেতরে এখনো টিকে আছে পুরোনো জানালা, মেঝে, কাঠের কড়িকাঠ এবং ১৭১৩ সালের মূল দরজা। এসব উপাদানই ভবনটির ঐতিহাসিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়েছে।

‘ভূতের বাড়ি’ হিসেবেও পরিচিত

গ্লেন স্যান্ডার্স ম্যানশনকে ঘিরে শুধু ইতিহাস নয়, রয়েছে নানা অতিপ্রাকৃত গল্পও।

বাড়ির কর্মী ও পরিবারের সদস্যদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, সেখানে লাল পোশাক পরা এক নারীর অবয়ব দেখা যায়। ধারণা করা হয়, তিনি আলেকজান্ডার গ্লেনের নাতনি ডেবোরা গ্লেন।

এ ছাড়া বাড়ির ভেতরে হঠাৎ সব আলো জ্বলে ওঠা কিংবা কোনো দৃশ্যমান কারণ ছাড়াই পর্দা নড়ে ওঠার মতো ঘটনার কথাও শোনা যায়।

তবে ম্যানশনের বিক্রয় প্রতিনিধিদের বক্তব্য, এখানকার ‘ভূত’ নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তাদের ভাষায়, এসব অদৃশ্য বাসিন্দা বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ এবং কারও ক্ষতি করে না।

শুধু বাড়ি নয়, রয়েছে উন্নয়নের সুযোগও

প্রায় তিন একর জমির ওপর অবস্থিত সম্পত্তিটিতে রয়েছে ঐতিহাসিক মূল ভবন এবং একটি ২২ কক্ষের সরাইখানা। মূল ঐতিহাসিক বাড়িটির আয়তন প্রায় ২ হাজার ৮০০ বর্গফুট।

নতুন ক্রেতার জন্য রয়েছে আরও একটি বড় সুযোগ। সম্পত্তির সঙ্গে নিচতলায় রেস্তোরাঁ এবং ৯৫টি অ্যাপার্টমেন্ট ইউনিটের একটি কমপ্লেক্স নির্মাণের পূর্বানুমোদিত সুবিধাও রাখা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী ভবনটি ভেঙে ফেলার ক্ষেত্রে সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে বর্তমান মালিকের প্রত্যাশা, নতুন ক্রেতা ম্যানশনটির ঐতিহাসিক মূল্য বিবেচনায় নিয়ে এটি সংরক্ষণ করবেন।

কারণ এই বাড়িটি শুধু একটি দামি রিয়েল এস্টেট সম্পত্তি নয়—এর দেয়াল, দরজা, কাঠের কাঠামো আর পুরোনো কক্ষের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নিউইয়র্কের প্রায় সাড়ে তিন শত বছরের ইতিহাস।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ