এআই দিয়ে তৈরি ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্টে থাকা দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক ব্যবহারের নীতিতে পরিবর্তন আনছে গুগল। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, শিগগিরই ব্যবহারকারীরা চাইলে গুগলের জেনারেটিভ এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্টে থাকা দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক বন্ধ করে দিতে পারবেন। গুগলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জশ উডওয়ার্ডের ঘোষণা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে ন্যানো ব্যানানা, অমনি ও লিরিয়া—এই তিনটি জেনারেটিভ মডেলের তৈরি কনটেন্টে ফিচারটি চালু […]
ছবি: সংগৃহীত
এআই দিয়ে তৈরি ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্টে থাকা দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক ব্যবহারের নীতিতে পরিবর্তন আনছে গুগল। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, শিগগিরই ব্যবহারকারীরা চাইলে গুগলের জেনারেটিভ এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্টে থাকা দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক বন্ধ করে দিতে পারবেন।
গুগলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জশ উডওয়ার্ডের ঘোষণা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে ন্যানো ব্যানানা, অমনি ও লিরিয়া—এই তিনটি জেনারেটিভ মডেলের তৈরি কনটেন্টে ফিচারটি চালু করা হবে। এর জন্য একটি টগোল অপশন থাকবে, যার মাধ্যমে কনটেন্টে দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক রাখা বা সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন ব্যবহারকারী।
গুগলের তথ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে জেমিনাই এবং প্রতিষ্ঠানটির ভিডিও এডিটিং প্ল্যাটফর্ম ফ্লো-তেও ওয়াটারমার্ক নিয়ন্ত্রণের একই ধরনের ব্যবস্থা চালু হতে পারে। ফিচারটি সবার জন্য উন্মুক্ত হলে সেটিংসের ‘মিডিয়া ওয়াটারমার্ক’ অপশন থেকেই এটি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
তবে দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক সরিয়ে ফেললেও এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট শনাক্তের অন্য ব্যবস্থা থাকবে। গুগল জানিয়েছে, সিন্থআইডি-এর অদৃশ্য ওয়াটারমার্ক এবং সি২পিএ মেটাডেটা কনটেন্টের সঙ্গে বহাল থাকবে। ফলে প্রয়োজন হলে আলাদা যাচাইয়ের মাধ্যমে কোনো ছবি বা ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি কি না, তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
গুগলের যুক্তি, দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক অনেক সময় পেশাদার বা সৃজনশীল কাজে ব্যবহৃত কনটেন্টের উপযোগিতা কমিয়ে দিতে পারে। তাই ব্যবহারকারীর সৃজনশীল স্বাধীনতা বজায় রাখার পাশাপাশি কনটেন্টের উৎস শনাক্ত করার প্রযুক্তিও সক্রিয় রাখার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
তবে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। সমালোচকদের মতে, সাধারণ মানুষের কাছে এআই কনটেন্ট চেনার সবচেয়ে সহজ দৃশ্যমান সংকেতটি সরিয়ে দেওয়ার সুযোগ থাকলে বিভ্রান্তিকর বা নিম্নমানের এআই কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
সব জায়গায় অবশ্য ওয়াটারমার্ক বন্ধ করার সুযোগ থাকবে না। যেসব দেশে এআই কনটেন্ট শনাক্তকরণে দৃশ্যমান চিহ্ন ব্যবহারের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেখানে স্থানীয় আইন অনুযায়ী এই সুবিধা সীমিত থাকতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো অঞ্চলে বাস্তবসম্মত এআই-নির্মিত কনটেন্ট শনাক্ত ও লেবেল করার বিষয়ে নির্দিষ্ট স্বচ্ছতা-সংক্রান্ত বিধান রয়েছে।
গুগলের ঘোষণার কয়েক দিন আগেই অ্যান্থ্রপিক তাদের ক্লড এআই দিয়ে তৈরি লেখা ও ফাইলে মেশিন-পাঠযোগ্য ওয়াটারমার্ক যুক্ত করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন এআই স্বচ্ছতা বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার বিষয়টিও এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ।
ফলে একই সময়ে দুই বড় এআই প্রতিষ্ঠানের অবস্থানে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। অ্যান্থ্রপিক যেখানে এআই-নির্মিত কনটেন্ট শনাক্ত করার সক্ষমতা আরও জোরদার করছে, গুগল সেখানে দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ককে ব্যবহারকারীর নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার পথে এগোচ্ছে।
এতে বোঝা যাচ্ছে, এআই কনটেন্টের স্বচ্ছতা ও শনাক্তযোগ্যতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো অভিন্ন কোনো নীতিতে পৌঁছাতে পারেনি। বরং ব্যবহারকারীর সৃজনশীল স্বাধীনতা, কনটেন্টের উৎস শনাক্তকরণ এবং বিভিন্ন দেশের আইনি বাধ্যবাধকতার মধ্যে ভারসাম্য তৈরির আলাদা আলাদা পথ বেছে নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো।