নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির বিরুদ্ধে শহরে ইহুদিবিদ্বেষের পরিবেশ আরও উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন প্রভাবশালী ইহুদি সংগঠনের কর্মকর্তা কারেন স্নেইয়ার ড্রেসবাখ। তাঁর দাবি, মামদানিকে ভোট দেওয়া অনেক ইহুদি এখন নিজেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুতপ্ত। ইসরায়েল বিষয়ে মেয়রের ধারাবাহিক কঠোর অবস্থানের কারণে নিউইয়র্কের ইহুদি সম্প্রদায়ের একটি অংশের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতিও বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। কারেন স্নেইয়ার ড্রেসবাখ […]
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির বিরুদ্ধে শহরে ইহুদিবিদ্বেষের পরিবেশ আরও উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন প্রভাবশালী ইহুদি সংগঠনের কর্মকর্তা কারেন স্নেইয়ার ড্রেসবাখ। তাঁর দাবি, মামদানিকে ভোট দেওয়া অনেক ইহুদি এখন নিজেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুতপ্ত। ইসরায়েল বিষয়ে মেয়রের ধারাবাহিক কঠোর অবস্থানের কারণে নিউইয়র্কের ইহুদি সম্প্রদায়ের একটি অংশের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতিও বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
কারেন স্নেইয়ার ড্রেসবাখ পার্ক ইস্ট সিনাগগের রাব্বি আর্থার স্নেইয়ারের মেয়ে। তিনি অ্যাপিল অব কনশেন্স ফাউন্ডেশনের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট। সম্প্রতি ডব্লিউএবিসির একটি অনুষ্ঠানে কথা বলার সময় তিনি মামদানির ইসরায়েলবিষয়ক বক্তব্য ও নীতির সমালোচনা করেন।
মামদানি ইসরায়েলের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত। তিনি বয়কট, ডিভেস্টমেন্ট অ্যান্ড স্যাংশনস বা বিডিএস আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরেরও বিরোধিতা করেছেন। এসব অবস্থানকে ঘিরে নিউইয়র্কের ইহুদি সম্প্রদায়ের একটি অংশের সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
ড্রেসবাখের অভিযোগ, মামদানির বক্তব্যের প্রভাব কেবল ইসরায়েল-সংক্রান্ত রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; নিউইয়র্কে বসবাসরত ইহুদিদের মধ্যেও এর প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে ইহুদি উপাসনালয় ও প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও হামলার ঘটনাগুলো নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বাবা রাব্বি আর্থার স্নেইয়ারও ইহুদি উপাসনালয়কে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন।
এদিকে, নিউইয়র্কের ইহুদি নেতাদের সঙ্গে মামদানির সম্পর্ক এবং ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলার বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। ১০ জন রাব্বির সঙ্গে আগস্টে সিটি হলে প্রায় এক ঘণ্টার একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন মেয়র। সেখানে বিভিন্ন ধারার ইহুদি ধর্মীয় নেতারা নিউইয়র্কের ইহুদিদের নিরাপত্তা এবং ইসরায়েল বিষয়ে মামদানির বক্তব্যের প্রভাব নিয়ে নিজেদের উদ্বেগ তুলে ধরেন।
বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকজন রাব্বির ভাষ্য, ইসরায়েল নিয়ে মামদানির বক্তব্য নিউইয়র্কের ইহুদি সম্প্রদায়ের একটি অংশকে বিচ্ছিন্ন ও নিরাপত্তাহীন করে তুলছে। তাঁদের কেউ কেউ মেয়রকে বক্তব্যের ধরন ও ঘনত্ব পরিবর্তনের আহ্বান জানান।
তবে বৈঠকটির বিষয়ে মেয়র প্রশাসনের বক্তব্য ছিল তুলনামূলক ইতিবাচক। মামদানি বৈঠকটিকে বিভিন্ন ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ‘খোলামেলা ও গঠনমূলক’ আলোচনা হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নিউইয়র্কের প্রতিটি ইহুদি নাগরিকের জন্য তাঁর দরজা খোলা এবং শহরকে এমন একটি জায়গা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসন কাজ করছে, যেখানে সবাই নিরাপদ বোধ করবেন।
মামদানি প্রশাসন আরও জানিয়েছে, সব ধরনের ঘৃণা ও বৈষম্য মোকাবিলায় তারা কাজ করছে। ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলায় সিটির বিশেষ দপ্তরের কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং ঘৃণাজনিত অপরাধ প্রতিরোধে অর্থায়ন বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে প্রশাসন।
এর পরও ইসরায়েল বিষয়ে মামদানির অবস্থান এবং নিউইয়র্কে ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগকে কেন্দ্র করে বিতর্ক থামেনি। মেয়রের বক্তব্য ইহুদিবিদ্বেষকে উৎসাহিত করছে কি না—এ নিয়ে যেমন অভিযোগ উঠছে, তেমনি তাঁর প্রশাসনও ঘৃণা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরছে।
নিউইয়র্কের রাজনীতিতে এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, ইসরায়েল বিষয়ে মামদানির কঠোর অবস্থান এবং তাঁর প্রশাসনের সঙ্গে ইহুদি সম্প্রদায়ের একটি অংশের দূরত্ব ভবিষ্যতে কতটা বাড়ে।
সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট