মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন অর্থনৈতিক অবরোধ মোকাবিলায় নিজেদের সক্ষমতার কথা জানালেও অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হলে দেশে নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে ইরান সরকার। দেশটির একজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক চাপ সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে, যা তাদের আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য করবে। সোমবার ইরানের কট্টরপন্থি […]
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন অর্থনৈতিক অবরোধ মোকাবিলায় নিজেদের সক্ষমতার কথা জানালেও অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হলে দেশে নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে ইরান সরকার। দেশটির একজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক চাপ সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে, যা তাদের আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য করবে।
সোমবার ইরানের কট্টরপন্থি পুলিশ কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমদ-রেজা রাদান তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে বলেন, শত্রুপক্ষ মানুষের জীবিকা, জ্বালানি, অর্থনীতি ও বেকারত্বের মতো বিষয়কে কাজে লাগিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।
ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ চালুর ঘোষণা দেওয়ার পরই এই সতর্কবার্তা সামনে এলো। কর্মসূচিটির লক্ষ্য হলো ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও বিচ্ছিন্ন করা এবং দেশটির সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যে যুক্ত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর দ্বিতীয় স্তরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা।
ইরান বর্তমানে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চলতি সপ্তাহে দেশটির খোলা বাজারে মার্কিন ডলারের দাম সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে প্রতি ডলারে ২০ লাখ রিয়াল ছাড়িয়ে গেছে।
অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাবে সাধারণ মানুষ ওষুধ ও পেট্রোলের মতো জরুরি পণ্যের ঘাটতিতেও ভুগছেন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ইরানের অর্থনীতি ৫ দশমিক ৪ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। একই সময়ে দেশটির মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৬৮ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছেছে।
বিশেষ করে পেট্রোলের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতিকে ইরান সরকার বড় ধরনের রাজনৈতিক ঝুঁকি হিসেবে দেখছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে ইরানের জ্বালানি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। তেহরান, মাশহাদ ও কারমানের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনও দেখা গেছে।
পেট্রোলের দাম নিয়ে ইরানের অতীত অভিজ্ঞতাও সরকারের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ২০১৯ সালে হঠাৎ করে পেট্রোলের দাম বাড়ানোর পর দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই আন্দোলনে শত শত মানুষ নিহত হন।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বর ও ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে হওয়া রক্তক্ষয়ী সরকারবিরোধী বিক্ষোভের স্মৃতিও এখনো ইরানের মানুষের মধ্যে তাজা। ওই আন্দোলনে ইরানি কর্তৃপক্ষের হিসাবে ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাবে নিহতের সংখ্যা ছিল কয়েক হাজার।
সাম্প্রতিক আন্দোলনের রক্তক্ষয়ী পরিণতি ইরানজুড়ে শোক ও ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন করে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া, জ্বালানি সংকট, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সেই ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সরকার।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে। পুলিশ কমান্ডার রাদান দ্রুত সাড়াদানকারী দল এবং আধা-সামরিক বাহিনী বাসিজকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সমাজের ‘অন্ধকার স্তরগুলোতে’ নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সরকারের আশঙ্কা, অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে নতুন করে আন্দোলন সংগঠিত হতে পারে।
এদিকে ইরান সরকার প্রকাশ্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতিরোধের কথা বলছে। তবে অর্থনৈতিক চাপ দীর্ঘস্থায়ী হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর এর প্রভাব রাজনৈতিক অস্থিরতার নতুন কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তারাই।
সূত্র: আল-মনিটর