সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

পরিবেশ
২:৫৯ অপরাহ্ন, ২৭ আগস্ট ২০২৬

সারাদেশে ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন, রোববার থেকে বাড়তে পারে বৃষ্টি

ভাদ্রের মাঝামাঝি সময়ে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে যাওয়ায় সারাদেশে তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে। কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে গেলেও আবহাওয়া অধিদপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে তা ঘোষণা করছে না। বৃষ্টির পরিমাণ কম থাকায় বৃহস্পতিবারও দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা বেড়েছে। এর সঙ্গে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরমে জনজীবন অনেকটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার দেশের […]

সারাদেশে ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন, রোববার থেকে বাড়তে পারে বৃষ্টি

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

ভাদ্রের মাঝামাঝি সময়ে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে যাওয়ায় সারাদেশে তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে। কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে গেলেও আবহাওয়া অধিদপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে তা ঘোষণা করছে না। বৃষ্টির পরিমাণ কম থাকায় বৃহস্পতিবারও দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা বেড়েছে। এর সঙ্গে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরমে জনজীবন অনেকটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে। এর আগের দিন রাজশাহী, চুয়াডাঙ্গা ও যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানীতেও তাপমাত্রা বেড়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যেখানে বুধবার তা ছিল ৩৪ দশমিক ১ ডিগ্রি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে সেটিকে মৃদু তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা মাঝারি তাপপ্রবাহ, ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি হলে তীব্র তাপপ্রবাহ এবং ৪২ ডিগ্রির বেশি হলে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়। সেই হিসাবে গত দুইদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু তাপপ্রবাহ বিরাজ করলেও আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে তা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

এ বিষয়ে আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি খুবই সাময়িক। শুক্রবার থেকেই তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসতে পারে। এ কারণে তাপপ্রবাহকে আলাদাভাবে উল্লেখ করা হচ্ছে না।

তিনি জানান, আগামী ১ সেপ্টেম্বরের দিকে সাগরে আরেকটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাবে আগামী রোববার থেকে সারাদেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে সাগরে একটি লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে, তবে সেটিকে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আনুষ্ঠানিকভাবে উল্লেখ করার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, বৃহস্পতিবার মৃদু তাপপ্রবাহ থাকলেও শুক্রবার তা কিছুটা প্রশমিত হতে পারে। তবে শনিবার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম থাকায় বাতাসে আর্দ্রতা আরও বাড়তে পারে। ফলে দেশজুড়ে ভ্যাপসা গরমের অনুভূতিও আরও তীব্র হতে পারে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের অধিকাংশ এলাকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি। সাধারণত দেশের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত সিলেটেও এদিন তেমন বৃষ্টি হয়নি। সকাল ৬টার পর থেকে রাজধানীতেও কোনো বৃষ্টিপাতের খবর পাওয়া যায়নি।

তবে এর আগের ২৪ ঘণ্টায় টেকনাফে সর্বোচ্চ ৩৯ মিলিমিটার এবং রাজধানীতে ৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছিল। এরপর বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে যাওয়ায় বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে।

তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় বাস্তবে অনুভূত গরম আরও বেশি হচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে তাপমাত্রার চেয়েও ২ থেকে ৩ ডিগ্রি বেশি গরম অনুভূত হতে পারে। ফলে স্বাভাবিক তাপমাত্রার তুলনায় মানুষের অস্বস্তি বাড়ছে।

এর সঙ্গে বিদ্যুতের লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। প্রচণ্ড গরম ও ঘামের কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অসহনীয় গরমে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর এর আগেই জানিয়েছিল, চলতি বর্ষা মৌসুমে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় তাপমাত্রা কিছুটা বেশি থাকতে পারে। একই সময়ে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকলে তাপমাত্রার তুলনায় গরমের অনুভূতিও বাড়তে পারে।

তবে আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়লে তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসতে পারে। বিশেষ করে রোববার থেকে বৃষ্টি বাড়ার সম্ভাবনা থাকায় ভ্যাপসা গরমের বর্তমান পরিস্থিতিতেও কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ