নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে গুলিতে নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী এমডি ইউসুফের রাজুর জানাজার নামাজ আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে শুক্রবার তার মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরিবারের স্বজন ও বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে জানাজায় অংশ নিয়ে মরহুমের জন্য দোয়া করার আহ্বান জানানো হয়েছে। জানাজার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব ব্রুকলিনের বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টার জামে মসজিদে রাজুর […]
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে গুলিতে নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী এমডি ইউসুফের রাজুর জানাজার নামাজ আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে শুক্রবার তার মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরিবারের স্বজন ও বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে জানাজায় অংশ নিয়ে মরহুমের জন্য দোয়া করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জানাজার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব ব্রুকলিনের বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টার জামে মসজিদে রাজুর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। মসজিদটির ঠিকানা ১০৫ কোর্টেলিউ রোড, ব্রুকলিন, নিউইয়র্ক। জানাজার সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিট নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত ২৩ আগস্ট রাতে ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল এলাকায় একটি পিজ্জা শপে কর্মরত অবস্থায় গুলিতে নিহত হন ৪৪ বছর বয়সী রাজু। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রকওয়ে অ্যাভিনিউয়ের আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিজ্জায় রাত ১২টার পর এ ঘটনা ঘটে। গুলিতে রাজু মাথায় আঘাত পান। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একই ঘটনায় ৩৯ বছর বয়সী আরেক কর্মী পায়ে গুলিবিদ্ধ হন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক হামলাকারী রেস্টুরেন্টের ভেতরে ঢুকে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। তদন্তে ৩১ বছর বয়সী জেসাস আকোস্তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তিনি এখনো পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশের মতে, ব্রুকলিনের এই ঘটনার প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর ব্রঙ্কসেও একটি প্রাণঘাতী গুলির ঘটনা ঘটে। সেখানে ১৪৯ গ্রিল অ্যান্ড ডেলিতে ৩৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি গুলিতে নিহত হন। তদন্তকারীরা দুই ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র থাকার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন এবং একই সন্দেহভাজনকে দুটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে মনে করছেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আকোস্তা এর আগে ২০১৫ সালে ম্যানহাটনের একটি সাবওয়ে স্টেশনে গুলি চালানোর মামলায় সাজা ভোগ করেছেন। প্রায় ১০ বছর কারাভোগের পর চলতি বছরের এপ্রিলে তিনি প্যারোলে মুক্তি পান। তার বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক গ্রেপ্তারের রেকর্ড রয়েছে।
এদিকে রাজুর আকস্মিক মৃত্যুতে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার মরদেহ বাংলাদেশে নিয়ে গিয়ে দাফন করা হবে।
মরদেহ দেশে পাঠানোর খরচ এবং পরিবারের সহায়তার জন্য এরই মধ্যে কমিউনিটির পক্ষ থেকে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বজন ও কমিউনিটির নেতারা রাজুর জানাজায় উপস্থিত হয়ে তার জন্য দোয়া করার পাশাপাশি শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ জানাজার পর আগামীকাল শুক্রবার রাজুর মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর কথা রয়েছে। সেখানে পারিবারিকভাবে তার দাফন সম্পন্ন করা হবে।