শিক্ষার্থীদের নিজস্ব চিন্তাশক্তি ও বিশ্লেষণক্ষমতা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলগুলোতে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় স্কুল ডিস্ট্রিক্ট নিউইয়র্ক সিটির প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থী এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়বে। ডিস্ট্রিক্টটির মোট শিক্ষার্থীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই এর ফলে প্রভাবিত হবে। খবর সিএনএনের। বুধবার […]
ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষার্থীদের নিজস্ব চিন্তাশক্তি ও বিশ্লেষণক্ষমতা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলগুলোতে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় স্কুল ডিস্ট্রিক্ট নিউইয়র্ক সিটির প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থী এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়বে। ডিস্ট্রিক্টটির মোট শিক্ষার্থীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই এর ফলে প্রভাবিত হবে। খবর সিএনএনের।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি ও স্কুল চ্যান্সেলর কামার স্যামুয়েলস যৌথভাবে নতুন এই নীতির ঘোষণা দেন।
মেয়র মামদানি বলেন, প্রযুক্তি খাত অনেক সময় প্রাথমিক শিক্ষায় এআইকে অপরিহার্য হিসেবে উপস্থাপন করে। তবে নিউইয়র্ক সিটি এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। শিক্ষার্থীরা যেন নিজেদের চিন্তা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে শেখার সুযোগ পায় এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সরাসরি সম্পর্ক যেন দুর্বল না হয়, সেটিই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।
নতুন নীতির অংশ হিসেবে আগে অনুমোদন পাওয়া ৩৮টিরও বেশি শিক্ষামূলক সফটওয়্যারের এআই সুবিধা বন্ধ বা নিষ্ক্রিয় করা হচ্ছে। এসব প্রযুক্তি নির্ধারিত নিরাপত্তা মান পূরণ করতে পারেনি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অষ্টম শ্রেণির পরের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে অবশ্য পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা থাকছে না। হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট কিছু এআই টুল সীমিতভাবে ব্যবহারের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি তাদের জন্য ‘এআই ক্রিটিক্যাল থিংকিং’ বিষয়ে শেখার ব্যবস্থাও থাকবে।
তবে চ্যাটজিপিটি, ক্লডসহ বিভিন্ন ধরনের সাধারণ এআই চ্যাটবট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
এআই ব্যবহারের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দৈনিক স্ক্রিন টাইম নিয়েও নতুন বিধিনিষেধ আনা হয়েছে। কোন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা কত সময় পর্দার সামনে থাকতে পারবে, তা গ্রেডভেদে নির্ধারণ করা হবে।
তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী এবং ইংরেজি ভাষা শেখা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এসব সীমাবদ্ধতা কিছুটা শিথিল থাকবে।
শিক্ষকদের জন্যও নির্দিষ্ট নিয়ম রাখা হয়েছে। তারা পাঠ পরিকল্পনা তৈরি এবং প্রশাসনিক কাজের ক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করতে পারবেন। তবে শিক্ষার্থীদের খাতা মূল্যায়ন বা গ্রেড দেওয়ার কাজে এআই ব্যবহারের অনুমতি থাকবে না।
নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত মূলত শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়ায় এআইয়ের প্রভাব নিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে একটি ভারসাম্য তৈরির উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন