গ্রেপ্তারের আহ্বান ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এর আগে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানিয়েছিলেন। গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমালোচনা অব্যাহত থাকার মধ্যেই নেতানিয়াহুর এবারের নিউইয়র্ক সফর নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন জানিয়েছেন, […]
ছবি: সংগৃহীত
গ্রেপ্তারের আহ্বান ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এর আগে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমালোচনা অব্যাহত থাকার মধ্যেই নেতানিয়াহুর এবারের নিউইয়র্ক সফর নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন জানিয়েছেন, চলতি মাসে বিশ্বনেতাদের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেবেন নেতানিয়াহু। সফরটি হবে সংক্ষিপ্ত, মাত্র ২৪ ঘণ্টা নিউইয়র্কে অবস্থান করবেন তিনি।
মেয়র জোহরান মামদানি এর আগে নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানিয়েছিলেন। পরে তিনি বিষয়টি নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেন। নিউইয়র্ক সিটির আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সরাসরি কার্যকর করার আইনি ক্ষমতা নেই বলে জানান তিনি। তবে মামদানি আইসিসির পরোয়ানা কার্যকরের জন্য মার্কিন ফেডারেল সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
মামদানির এই অবস্থানের সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন। তিনি বলেন, ইসরায়েলকে দায়ী করে রাজনীতি করা এখন এক ধরনের প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। তবে বিতর্ক থাকলেও নেতানিয়াহু জাতিসংঘের অধিবেশনে উপস্থিত থাকবেন, এটিই ইসরায়েলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে রয়েছেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
আইসিসির অভিযোগ অনুযায়ী, গাজায় মানবিক সহায়তা সীমিত করা এবং বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে গুরুতর কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নেতানিয়াহুর সম্পৃক্ততার যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় অনাহারকে যুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়। ইসরায়েল অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মামদানি আইসিসির ওই পরোয়ানার প্রসঙ্গ তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারকে তা কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—দুই দেশই আইসিসির সদস্য নয়। এরই মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং আদালতের কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে।
ড্যানি ড্যাননের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে নিউইয়র্কে পৌঁছানোর কথা নেতানিয়াহুর। পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন তিনি। এরপর ওই রাতেই ইসরায়েলের উদ্দেশে নিউইয়র্ক ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের নেতাদের অংশগ্রহণে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ২২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। ইহুদি ধর্মীয় ছুটির সময় এবং ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী প্রচারণার মধ্যেই নেতানিয়াহুর এই সফর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
নেতানিয়াহুর সফরকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে বিক্ষোভের আশঙ্কাও রয়েছে। ড্যানন বলেন, উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সময় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হলে শহরে আরও বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে।
গত বছরও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহু ভাষণ শুরু করার সময় বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি হল থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। এবারের অধিবেশনেও একই ধরনের প্রতিবাদের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত।
তবে ড্যাননের দাবি, নেতানিয়াহু এ ধরনের রাজনৈতিক চাপ ও প্রতিবাদ মোকাবিলায় অভিজ্ঞ। সব ধরনের বিতর্কের মধ্যেও তিনি জাতিসংঘের মঞ্চে ভাষণ দেবেন বলে জানান তিনি।
ফলে মামদানির গ্রেপ্তারের আহ্বান, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান আন্তর্জাতিক সমালোচনা এবং নিউইয়র্কে সম্ভাব্য বিক্ষোভের মধ্যেই নেতানিয়াহুর এবারের জাতিসংঘ সফর বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।