সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

তথ্যপ্রযুক্তি
৫:১৪ অপরাহ্ন, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইনস্টাগ্রামে ভুয়া কপিরাইট অভিযোগ, অর্থ না দিলে অ্যাকাউন্ট বন্ধের হুমকি

ইনস্টাগ্রামে কপিরাইট সুরক্ষার ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে কনটেন্ট নির্মাতাদের বিরুদ্ধে ভুয়া অভিযোগ করার পর অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। একাধিক ঘটনার তথ্য সামনে আসার পর দাবি করা হচ্ছে, একটি প্রতারণা চক্র প্রথমে কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগ দিয়ে অ্যাকাউন্টে বিধিনিষেধ তৈরি করছে। পরে ব্যক্তিগত মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে যোগাযোগ করে অভিযোগ প্রত্যাহারের বিনিময়ে অর্থ চাওয়া হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের […]

ইনস্টাগ্রামে ভুয়া কপিরাইট অভিযোগ, অর্থ না দিলে অ্যাকাউন্ট বন্ধের হুমকি

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

ইনস্টাগ্রামে কপিরাইট সুরক্ষার ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে কনটেন্ট নির্মাতাদের বিরুদ্ধে ভুয়া অভিযোগ করার পর অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। একাধিক ঘটনার তথ্য সামনে আসার পর দাবি করা হচ্ছে, একটি প্রতারণা চক্র প্রথমে কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগ দিয়ে অ্যাকাউন্টে বিধিনিষেধ তৈরি করছে। পরে ব্যক্তিগত মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে যোগাযোগ করে অভিযোগ প্রত্যাহারের বিনিময়ে অর্থ চাওয়া হচ্ছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের নির্দিষ্ট পোস্টের বিরুদ্ধে কপিরাইট অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। একই অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এলে ইনস্টাগ্রামের নীতিমালা অনুযায়ী সেটি সাময়িকভাবে সীমিত বা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এরপর ভুক্তভোগীর সঙ্গে টেলিগ্রামের মতো ব্যক্তিগত যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগ করে অভিযোগ প্রত্যাহারের বিনিময়ে অর্থ দাবি করা হয়।

অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে আরও কপিরাইট অভিযোগ করে অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। কনটেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য কি না, তা পুরোপুরি যাচাইয়ের আগেই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় কনটেন্ট সরানো বা অ্যাকাউন্টে বিধিনিষেধ আরোপ হওয়ার সুযোগকে এ চক্র কাজে লাগাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

‘লস্ট ইন টাইম হিস্ট্রি’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের নির্মাতা অলি এমন ঘটনার একজন ভুক্তভোগী বলে জানিয়েছেন। অ্যাকাউন্টটির অনুসারী সংখ্যা ১৫ লাখের বেশি। তার দাবি, চলতি বছর তার অ্যাকাউন্টে একের পর এক কপিরাইট অভিযোগ আসতে থাকে।

অলি বলেন, তিনি যেসব ছবি ব্যবহার করেন, সেগুলোর বেশির ভাগই পাবলিক ডোমেইনের অথবা সংশ্লিষ্ট স্বত্বাধিকারীর অনুমতি নিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে। একই ই-মেইল ঠিকানা থেকে একাধিক অভিযোগ আসার পর তাকে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করা হয় এবং কয়েকশ ডলার দাবি করা হয়।

একপর্যায়ে অ্যাকাউন্টটি ফেরত পাওয়ার আশায় তিনি ৫০ ডলার ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে পরিশোধ করেন। কিন্তু অর্থ দেওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে আবার কপিরাইট অভিযোগ আসে। পরে ধারাবাহিক অভিযোগের কারণে তার অ্যাকাউন্টের মনিটাইজেশনও বন্ধ হয়ে যায় বলে জানান তিনি।

আরেক ভুক্তভোগী ‘মরবিড কিউরিওসিটি’ অ্যাকাউন্টের নির্মাতা আবিন টম সেবাস্টিয়ানও মেটার সহায়তা ব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, অ্যাকাউন্টের সমস্যা দ্রুত সমাধান না হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্র্যান্ড চুক্তি অন্য একজন নির্মাতার কাছে চলে গেছে।

সেবাস্টিয়ানের অভিযোগ, ইনস্টাগ্রামে ২৪ ঘণ্টার সরাসরি সহায়তা পেতে ব্যবহারকারীদের মাসে ৯ দশমিক ৯৯ পাউন্ডের ভেরিফায়েড সাবস্ক্রিপশন নিতে হয়।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত বেশির ভাগ প্রতারক ভারত বা আশপাশের অঞ্চলে অবস্থান করছেন। অভিযোগ প্রত্যাহারের বিনিময়ে ৯০০ ডলার পর্যন্ত দাবি করার ঘটনাও সামনে এসেছে। অভিযুক্তরা নিজেদের কপিরাইট মালিকদের হয়ে কাজ করা বৈধ সেবা প্রদানকারী হিসেবে পরিচয় দিলেও তাদের প্রকৃত পরিচয় ও দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কপিরাইট অভিযোগকে ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা নতুন কোনো কৌশল নয়। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং স্বয়ংক্রিয় কনটেন্ট মডারেশন ব্যবস্থা থাকায় একই ধরনের অপব্যবহার এখন অনেক বড় পরিসরে চালানো সম্ভব হচ্ছে। ফলে বিপুলসংখ্যক ভুয়া অভিযোগের মধ্য থেকে প্রকৃত অভিযোগ আলাদা করা প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্যও কঠিন হয়ে পড়ছে।

অভিযোগের বিষয়ে মেটার এক মুখপাত্র জানান, এ ধরনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবহারকারীদের হতাশার বিষয়টি তারা বুঝতে পারছেন। তার দাবি, এমন অপব্যবহার ঠেকাতে মেটার সিস্টেমে বিভিন্ন সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। পর্যালোচনার পর ক্ষতিগ্রস্ত কিছু কনটেন্ট পুনরুদ্ধার করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা ঠেকাতে অতিরিক্ত সুরক্ষাও যুক্ত করা হয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ