সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
৬:০৭ পিএম, ৩ অক্টোবর ২০২৬

দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষমা চাওয়ার আহ্বানের জবাবে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া

সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় উত্তর কোরিয়াকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া। তবে সিউলের সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে শনিবার (৩ অক্টোবর) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে পিয়ংইয়ং। এর মধ্য দিয়ে দুই কোরিয়ার মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার ভোরে উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলীয় ওনসান এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা […]

দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষমা চাওয়ার আহ্বানের জবাবে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় উত্তর কোরিয়াকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া। তবে সিউলের সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে শনিবার (৩ অক্টোবর) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে পিয়ংইয়ং। এর মধ্য দিয়ে দুই কোরিয়ার মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার ভোরে উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলীয় ওনসান এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি পূর্ব সাগরের দিকে নিক্ষেপ করা হয়। এই জলভাগ জাপান সাগর নামেও পরিচিত।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি ৭০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়েছে। তবে এটি ঠিক কোন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র এবং এর অন্যান্য বৈশিষ্ট্য কী, তা এখনো বিশ্লেষণ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের বিষয়ে ঘনিষ্ঠভাবে তথ্য বিনিময় করছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষার জন্য সতর্ক অবস্থানেও রয়েছে তিন দেশ।

এর আগে সীমান্তের অসামরিকীকৃত অঞ্চল (ডিএমজেড) এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হন। ওই ঘটনার জন্য উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা মাইনকে দায়ী করে সিউল। তবে পিয়ংইয়ং এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

মাইন বিস্ফোরণ ঘিরে উত্তেজনা

১৯৫৩ সালের যুদ্ধবিরতির পর থেকে দুই কোরিয়ার মধ্যে বিভাজন তৈরি করে রেখেছে ডিমিলিটারাইজড জোন বা অসামরিকীকৃত অঞ্চল (ডিএমজেড)। প্রায় চার কিলোমিটার প্রশস্ত এই এলাকায় বিপুলসংখ্যক স্থলমাইন পুঁতে রাখা হয়েছে।

গত ২১ সেপ্টেম্বর সীমান্ত এলাকায় টহলের একটি পথ পরিষ্কারের সময় মাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হন। তাদের মধ্যে দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ কমান্ডের যৌথ তদন্তে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার সেনাদের পুঁতে রাখা মাইনের কারণেই বিস্ফোরণটি ঘটেছে। সিউল এটিকে ১৯৫৩ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে উত্তর কোরিয়ার কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি সীমান্তে মাইন পোঁতা ও প্রতিরক্ষা অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধের আহ্বান জানায় দক্ষিণ কোরিয়া।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাং শিন-চুলের ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের জন্য দায়ী মাইনগুলো উত্তর কোরিয়ার সীমান্ত সুরক্ষা জোরদারের অংশ হিসেবে পোঁতা হয়ে থাকতে পারে।

২০২৪ সালে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দক্ষিণ কোরিয়াকে তার দেশের ‘প্রধান শত্রু’ হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর থেকে সীমান্ত পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগ নেয় পিয়ংইয়ং। এর অংশ হিসেবে সীমান্ত এলাকায় মাইন পোঁতা এবং ট্যাংক চলাচল ঠেকাতে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধক নির্মাণ করা হয়েছে।

তবে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় উত্তর কোরিয়া নিজেদের দায় অস্বীকার করেছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘ঘৃণ্য’ বলে আখ্যা দেন। একই সঙ্গে বিস্ফোরণের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।

উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগের বিপরীতে ক্ষেপণাস্ত্র

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার কূটনৈতিক উদ্যোগের জবাবে শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবেই নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া। এর মাধ্যমে সিউলের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রস্তাবও কার্যত প্রত্যাখ্যান করেছে পিয়ংইয়ং।

সিউলের সাবেক ইউনিভার্সিটি অব নর্থ কোরিয়ান স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট ইয়াং মু-জিন এএফপিকে বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু তার জবাবে উত্তর কোরিয়া উত্তেজনা আরও বাড়ানোর পথ বেছে নিয়েছে।

তার ভাষায়, শুভেচ্ছার জবাবে উত্তর কোরিয়া সংঘাতের পথ বেছে নিচ্ছে—ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে এমন বার্তাই দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র: এএফপি

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ