সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
৬:০৯ পিএম, ৩ অক্টোবর ২০২৬

হুথিদের বিরুদ্ধে বড় অভিযানের প্রস্তুতি সৌদি আরবের, পাশে তুরস্ক-পাকিস্তান

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা উপকূলীয় এলাকা পুনর্দখল অথবা ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে হামলা চালানোর দুটি কৌশল বিবেচনা করছে রিয়াদ। আঞ্চলিক কর্মকর্তা ও পশ্চিমা কূটনীতিকদের বরাত দিয়ে এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। […]

হুথিদের বিরুদ্ধে বড় অভিযানের প্রস্তুতি সৌদি আরবের, পাশে তুরস্ক-পাকিস্তান

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ মিনিটে পড়ুন |

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা উপকূলীয় এলাকা পুনর্দখল অথবা ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে হামলা চালানোর দুটি কৌশল বিবেচনা করছে রিয়াদ।

আঞ্চলিক কর্মকর্তা ও পশ্চিমা কূটনীতিকদের বরাত দিয়ে এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সামরিক প্রস্তুতির বিষয়ে অবগত ছয় কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সম্ভাব্য এই অভিযান শুরু হতে পারে। সৌদি আরবের তত্ত্বাবধানে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী স্থল অভিযান পরিচালনা করবে এবং সৌদি বিমানবাহিনী তাদের বিমান হামলার মাধ্যমে সহায়তা করবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে। ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশও মূলত প্রতিরক্ষামূলক সামরিক সহায়তা দিচ্ছে। তবে সৌদির কোনো মিত্র রাষ্ট্র সরাসরি এই যুদ্ধাভিযানে অংশ নেবে না বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

দুটি সামরিক বিকল্প বিবেচনায় রিয়াদ

পরিকল্পিত অভিযানের প্রধান লক্ষ্য গত মাসে হুথিদের আকস্মিক অগ্রযাত্রা ঠেকিয়ে বাব এল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করা। বৈশ্বিক ও ইয়েমেনি কর্মকর্তাদের মতে, এ ক্ষেত্রে সৌদি আরবের সামনে দুটি বিকল্প রয়েছে।

প্রথমটি হলো বাব এল-মান্দেব প্রণালি ও এর সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় সীমিত পরিসরে অভিযান চালানো। দ্বিতীয়টি হলো আরও বড় পরিসরে ইয়েমেনের আল-বায়দা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফ গভর্নরেটে একযোগে বহুমুখী হামলা চালানো।

অভিযানের পরিসরের ওপর নির্ভর করে এক লাখেরও বেশি ইয়েমেনি সেনাকে যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন করা হতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে সৌদি ও ইয়েমেন সরকার, হুথি মুখপাত্র এবং মার্কিন সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

বাব এল-মান্দেব লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রবেশপথ। ভূমধ্যসাগর ও এশিয়ার মধ্যে পণ্য পরিবহনের জন্য এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। চলতি বছর ইরান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাব এল-মান্দেবের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

পশ্চিমা কূটনীতিকদের মতে, হুথিরা বাব এল-মান্দেবের মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখলে সৌদি আরব শান্তি আলোচনায় না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে অভিযান শুরুর সুনির্দিষ্ট সময় এখনো নির্ধারিত হয়নি। এটি এক সপ্তাহের মধ্যে শুরু হতে পারে, আবার নভেম্বরের শুরুতে অনুষ্ঠেয় মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরও শুরু হতে পারে।

২০১৫ সালের মতো সর্বাত্মক অভিযান নয়

সৌদি আরবে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল র‍্যাটনির ধারণা, এবারের অভিযান তুলনামূলকভাবে সীমিত পরিসরে থাকবে। ২০১৫ সালের মতো সর্বাত্মক সামরিক অভিযানে যাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করেন তিনি।

র‍্যাটনি বলেন, হুথিদের পরাজিত করার প্রবল ইচ্ছা থাকলেও রিয়াদের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হলো বাব এল-মান্দেব এলাকায় আগের অবস্থান ফিরিয়ে আনা এবং নৌপথে স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা।

লেবাননের হিজবুল্লাহ দুর্বল হয়ে পড়ার পর হুথিরাই মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্রে পরিণত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে নতুন করে সৌদি-হুথি সংঘাত শুরু হলে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকে চলমান আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পাশে তুরস্ক ও পাকিস্তান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের পক্ষে সরাসরি বিমান হামলায় অংশ নেওয়ার মতো পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রকে জড়াতে অনাগ্রহী হলেও ওয়াশিংটন রিয়াদকে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে। সৌদি বিমান হামলা পরিচালনায় সামরিক উপদেষ্টা এবং লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণে সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

অন্যদিকে, গত মাসে সৌদি আরবের সঙ্গে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি করা তুরস্ক ও পাকিস্তান রিয়াদকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করছে।

সম্প্রতি পাকিস্তান চারটি কার্গো বিমানে করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হালকা কামান, ড্রোন এবং ড্রোন প্রতিরোধী প্রযুক্তি ইয়েমেনের অন্তর্বর্তী প্রশাসনিক কেন্দ্র এডেনে পাঠিয়েছে। ইয়েমেনি বাহিনীকে সহায়তা করতে সৌদি বাহিনীর সঙ্গে পাকিস্তানি সামরিক উপদেষ্টারাও কাজ করছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এ ছাড়া সৌদি আরবের কেনা তুরস্কের তৈরি ড্রোন ইয়েমেনের আকাশে নজরদারির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

অভিযান শুরু হলে হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে নিজেদের তেলক্ষেত্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা করাই রিয়াদের অন্যতম বড় উদ্বেগ হয়ে উঠবে। এ কারণে পাকিস্তান গত বছর থেকে সাম্প্রতিক উত্তেজনা পর্যন্ত সৌদি আরবে ৩০ থেকে ৪০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এসব সেনা সৌদি স্থলসীমান্ত পাহারা দেওয়া এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার কাজে নিয়োজিত।

তবে ইয়েমেনের ভেতরে সরাসরি যুদ্ধক্ষম সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত পাকিস্তান নেয়নি বলে একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। পাশাপাশি সৌদি আরবের লোহিত সাগরীয় বন্দরনগরী ইয়ানবুর নিরাপত্তায় সেনা ও প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্সও।

ইয়েমেনি বাহিনীর বিভক্তি বড় চ্যালেঞ্জ

তবে স্থল অভিযানে ইয়েমেনি বাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিভক্তি সৌদি আরবের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রশিক্ষণ ও সমর্থন পাওয়া বিভিন্ন উপদলের ওপর নির্ভর করেই স্থল অভিযান পরিচালনা করতে হবে।

সামরিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ আলবাশারের মতে, হুথিদের মতো সুসংগঠিত বাহিনীকে পিছু হটানোর মতো প্রয়োজনীয় ঐক্য এখনো সরকারপন্থী বাহিনীর মধ্যে তৈরি হয়নি।

গত শীতে আমিরাত-সমর্থিত দক্ষিণাঞ্চলীয় বাহিনী পূর্বাঞ্চল দখলের চেষ্টা ও বিচ্ছিন্নতার ডাক দিলে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সঙ্গে তাদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে সরকারপন্থী বাহিনীর মধ্যে বড় ধরনের বিভাজন তৈরি হয়েছে।

সৌদি রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলী শিহাবি বলেন, এত দিন পর্যন্ত অবস্থান ধরে রাখাই ছিল প্রধান লক্ষ্য। তবে এবার পূর্ণাঙ্গ আক্রমণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই অভিযানের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে স্থানীয় স্থলবাহিনীর সামরিক দক্ষতা ও সমন্বয়ের ওপর।

সূত্র: রয়টার্স

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ