সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
৪:৪৯ অপরাহ্ন, ৬ অক্টোবর ২০২৬

ছাত্র আন্দোলনে উত্তাল ফ্রান্স, বন্ধ প্রায় ১ হাজার ৮০০ স্কুল

দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, শিক্ষক সংকট ও জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষের প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভে নেমেছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা। মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন শহরে প্রায় ৮৬ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। পরে প্যারিসের বড় সমাবেশে আরও প্রায় ৪০ হাজার মানুষের যোগ দেওয়ার কথা ছিল। জাতীয় লিসে শিক্ষার্থী ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের ৩ হাজার ৭০০ উচ্চবিদ্যালয়ের মধ্যে মঙ্গলবার প্রায় ১ হাজার […]

ছাত্র আন্দোলনে উত্তাল ফ্রান্স, বন্ধ প্রায় ১ হাজার ৮০০ স্কুল

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, শিক্ষক সংকট ও জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষের প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভে নেমেছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা। মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন শহরে প্রায় ৮৬ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। পরে প্যারিসের বড় সমাবেশে আরও প্রায় ৪০ হাজার মানুষের যোগ দেওয়ার কথা ছিল।

জাতীয় লিসে শিক্ষার্থী ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের ৩ হাজার ৭০০ উচ্চবিদ্যালয়ের মধ্যে মঙ্গলবার প্রায় ১ হাজার ৮০০টি অবরুদ্ধ ছিল অথবা দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়। কিছু এলাকায় শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কয়েকটি এলাকায় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। কিছু বিক্ষোভকারী আবর্জনার স্তূপে আগুন দেন, বাসস্টপ ভাঙচুর করেন এবং পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করেন। জবাবে পুলিশ লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত অস্ত্র প্রয়োগ করেছে।

ফ্রান্সের শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিক্ষোভ শুরুর পর দেশটির ২৪টি স্কুলে আগুন দেওয়া বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে অন্তত ৭১৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও ২১৫ জন কিশোর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৬ হাজার ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। এ ছাড়া ১ হাজার ৮০০ জনের বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা চলছে।

বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে অনুপস্থিত শিক্ষকদের দ্রুত বদলি শিক্ষক দিয়ে পূরণ করা, সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দীর্ঘ স্কুল সময় পুনর্বিবেচনা এবং জরাজীর্ণ স্কুল ভবন সংস্কার।

প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু এসব দাবি পূরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে আন্দোলন ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিক্ষোভে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগের পর অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ফ্রান্সে তরুণ বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ পুলিশি দমন’ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, পুলিশের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগে ইতোমধ্যে ১০টি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে।

বিক্ষোভে গুরুতর আহতদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের হাত বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ট্যুর শহরে ১৬ বছর বয়সী আরেক কিশোর মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে। এ ছাড়া প্যারিসের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে পুলিশের একটি গ্রেনেডের আঘাতে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের অধিকাংশ দাঁত ভেঙে গেছে বলে তার পরিবার জানিয়েছে।

আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র সাত মাস আগে এই আন্দোলন ফরাসি সরকারকে আরও চাপে ফেলেছে। একই সময়ে দেশটির বাড়তে থাকা বাজেট ঘাটতি, ঋণ এবং দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগও বাড়ছে।

সরকার বামপন্থি দল লা ফ্রঁস ইনসুমিজের বিরুদ্ধে আন্দোলনে উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। দলটির নেতা ও প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জঁ-লুক মেলঁশোঁ বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানালেও সহিংসতা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ