মেক্সিকো উপসাগরে তৈরি হওয়া একটি ক্রান্তীয় নিম্নচাপ দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি বুধবারের মধ্যে ক্রান্তীয় ঝড়ে এবং বৃহস্পতিবারের মধ্যে হারিকেনে পরিণত হতে পারে। শেষ পর্যন্ত হারিকেনে রূপ নিলে ২০২৬ সালের আটলান্টিক হারিকেন মৌসুমের প্রথম হারিকেন হিসেবে এটি নতুন রেকর্ড গড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি) মঙ্গলবার বিকেলে জানায়, ‘ট্রপিক্যাল ডিপ্রেশন নাইন’ নামে […]
ছবি: সংগৃহীত
মেক্সিকো উপসাগরে তৈরি হওয়া একটি ক্রান্তীয় নিম্নচাপ দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি বুধবারের মধ্যে ক্রান্তীয় ঝড়ে এবং বৃহস্পতিবারের মধ্যে হারিকেনে পরিণত হতে পারে। শেষ পর্যন্ত হারিকেনে রূপ নিলে ২০২৬ সালের আটলান্টিক হারিকেন মৌসুমের প্রথম হারিকেন হিসেবে এটি নতুন রেকর্ড গড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি) মঙ্গলবার বিকেলে জানায়, ‘ট্রপিক্যাল ডিপ্রেশন নাইন’ নামে পরিচিত নিম্নচাপটি তখন মিসিসিপি নদীর মোহনা থেকে প্রায় ৬৩০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। ওই সময় এর সর্বোচ্চ বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ৩৫ মাইল।
এনএইচসির পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিম্নচাপটি প্রথমে ক্রান্তীয় ঝড়ে পরিণত হতে পারে। এরপর বৃহস্পতিবারের মধ্যে হারিকেনের শক্তি অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। পরে এটি মেক্সিকো উপসাগর পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, সপ্তাহের শেষ দিকে ঝড়টি উত্তর-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে মধ্য উপসাগরীয় উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে পারে। শনিবারের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে। সম্ভাব্য আঘাতের এলাকা দক্ষিণ-পূর্ব লুইজিয়ানা থেকে ফ্লোরিডা প্যানহ্যান্ডেল পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।
ঝড়টির প্রভাবে শুক্রবার থেকে সপ্তাহান্ত পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলের কিছু এলাকায় ৩ থেকে ৬ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোথাও কোথাও বৃষ্টির পরিমাণ ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এতে আকস্মিক বন্যা, নগর বন্যা এবং বিচ্ছিন্ন নদীবন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বৃষ্টির পাশাপাশি প্রবল বাতাস, বিপজ্জনক ঢেউ এবং সাগরে শক্তিশালী স্রোত সৃষ্টি হতে পারে। ঝড়টি হারিকেনের শক্তি অর্জন করলে এর কেন্দ্রের কাছাকাছি ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ মাইল বেগে দমকা বাতাস বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, ঝড়টি মেক্সিকো উপসাগরের এমন একটি অঞ্চল দিয়ে অগ্রসর হতে পারে, যেখানে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহের বাধা কম। ফলে উপকূলে পৌঁছানোর আগে এটি আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ পেতে পারে। তবে উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তনের কারণে ঝড়টি কিছুটা দুর্বলও হতে পারে।
ট্রপিক্যাল ডিপ্রেশন নাইন শেষ পর্যন্ত হারিকেনে পরিণত হলে এটি হবে ২০২৬ সালের আটলান্টিক হারিকেন মৌসুমের প্রথম হারিকেন। এর আগে আটলান্টিক মৌসুমের প্রথম হারিকেন এত দেরিতে তৈরি হয়েছিল ১৯০৫ সালের ৮ অক্টোবর।
অর্থাৎ এবার ৮ অক্টোবরের পর প্রথম হারিকেন তৈরি হলে ১২১ বছরের মধ্যে আটলান্টিক মৌসুমের সবচেয়ে দেরিতে প্রথম হারিকেন গঠনের নতুন রেকর্ড হতে পারে। ফলে আবহাওয়াবিদদের পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যেও পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা বাড়ছে।
এদিকে ক্যারিবীয় অঞ্চলের সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডিনসেও একটি পৃথক ক্রান্তীয় ঢেউয়ের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতির কারণে মঙ্গলবার দেশটির স্কুলগুলো বন্ধ রাখা হয়।
চলতি বছর আটলান্টিক অঞ্চলে তুলনামূলক কম ঝড় হওয়ার পেছনে প্রশান্ত মহাসাগরে সক্রিয় শক্তিশালী ‘এল নিনো’ আবহাওয়াব্যবস্থাকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এল নিনো প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রায় পরিবর্তন আনার পাশাপাশি আটলান্টিক অঞ্চলে বায়ুর গতির পার্থক্য বা উইন্ড শিয়ার বাড়িয়ে দেয়। এতে ক্রান্তীয় ঝড়ের শক্তিশালী হয়ে হারিকেনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
তবে মেক্সিকো উপসাগরে বর্তমানে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি দ্রুত শক্তিশালী হওয়ার জন্য তুলনামূলক অনুকূল পরিবেশ পাচ্ছে। ফলে এটি উপকূলের দিকে যত এগোবে, ততই ঝড়, ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা, প্রবল বাতাস ও শক্তিশালী সাগরস্রোতের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
আবহাওয়া সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ঝড়টির গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তন অনুযায়ী সম্ভাব্য প্রভাবের এলাকাও পরবর্তী পূর্বাভাসে আরও স্পষ্ট হবে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান