সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
২:২০ অপরাহ্ন, ১০ অক্টোবর ২০২৬

‘প্রধানমন্ত্রী আম্বানি’ বলে মুকেশকে খোঁচা মাস্কের, স্টারলিংক নিয়ে বিরোধ

ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক চালুর অনুমতি পেতে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন ধনকুবের ও স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক। এ নিয়ে ভারতের শীর্ষ ধনকুবের মুকেশ আম্বানিকে ব্যঙ্গ করে ‘প্রধানমন্ত্রী আম্বানি’ বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি। মাস্কের অভিযোগ, ভারতের টেলিযোগাযোগ বাজারে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতেই স্টারলিংকের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে […]

‘প্রধানমন্ত্রী আম্বানি’ বলে মুকেশকে খোঁচা মাস্কের, স্টারলিংক নিয়ে বিরোধ

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক চালুর অনুমতি পেতে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন ধনকুবের ও স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক। এ নিয়ে ভারতের শীর্ষ ধনকুবের মুকেশ আম্বানিকে ব্যঙ্গ করে ‘প্রধানমন্ত্রী আম্বানি’ বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি। মাস্কের অভিযোগ, ভারতের টেলিযোগাযোগ বাজারে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতেই স্টারলিংকের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আম্বানিকে উদ্দেশ করে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন মাস্ক। ভারতের প্রকৃত ক্ষমতাধর ব্যক্তি যে আম্বানি, তা বুঝতে না পারার জন্য দুঃখ প্রকাশের ভঙ্গিতে কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে ভারতের বাজারে স্টারলিংককে প্রতিযোগিতার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

মাস্কের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের বাজারের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতেই বেশি আগ্রহী আম্বানি। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, নিজেদের প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করলেও স্টারলিংককে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে কি না।

পাঁচ বছরেও চূড়ান্ত অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন

ইলন মাস্কের মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের পরিচালিত স্টারলিংক স্যাটেলাইটের মাধ্যমে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা দিয়ে থাকে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ইন্টারনেট বাজার ভারতে কার্যক্রম শুরু করতে প্রতিষ্ঠানটি কয়েক বছর ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছে।

মাস্কের দাবি, বিশ্বের ১৬৫টিরও বেশি দেশে স্টারলিংকের কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন রয়েছে। ভারতের আইন ও সরকারি শর্ত মেনে চলার জন্য গত পাঁচ বছর ধরে কাজ করার পরও কেন চূড়ান্ত অনুমতি পাওয়া যাচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

স্টারলিংক চালু হলে ভারতের দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ প্রচলিত টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর না করেও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাবেন বলে দাবি মাস্কের। এতে শিক্ষা, ব্যবসা ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রচলিত যোগাযোগব্যবস্থা অচল হয়ে পড়লে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট জরুরি যোগাযোগ সচল রাখতেও সহায়তা করতে পারে।

মাস্কের ভাষ্য, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় প্রচলিত যোগাযোগব্যবস্থা ব্যর্থ হলেও স্টারলিংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ভারতে সেবা চালুর অনুমতি দেওয়া হলে দেশটির মানুষও একই ধরনের সুবিধা পাবেন বলে তিনি মনে করেন।

অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে ভারতের বক্তব্য

স্টারলিংকের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত সরকার। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো স্টারলিংককেও একই ধরনের নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতি বৈষম্য করা হচ্ছে—এমন অভিযোগকে সরকার ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছে।

শুক্রবার ভারতের টেলিযোগাযোগমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বলেন, কোনো খাতেই একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগ দেয় না ভারত।

স্টারলিংক ইতোমধ্যে স্যাটেলাইট যোগাযোগসেবা দেওয়ার লাইসেন্স পেয়েছে। তবে কার্যক্রম শুরু করতে এখনো নিরাপত্তাসংক্রান্ত ছাড়পত্র এবং প্রয়োজনীয় স্পেকট্রাম বরাদ্দের অপেক্ষায় রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্টারলিংক, রিলায়েন্স জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস এবং ভারতী এয়ারটেলের সমর্থনপুষ্ট ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব—এই তিন প্রতিষ্ঠানই প্রায় একই পর্যায়ে অনুমোদন প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

স্টারলিংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ভারতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করছেন এবং নেটওয়ার্কে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থাও যুক্ত করেছেন। চলতি সপ্তাহে দিল্লিতে একটি শিল্পবিষয়ক অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ভারত প্রস্তুত হলেই তারা সেবা চালু করতে পারবে।

ভারতের টেলিকম বাজারে জিও ও এয়ারটেলের আধিপত্য

ভারতের মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড বাজারের ৮০ শতাংশেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করে রিলায়েন্স জিও এবং সুনীল ভারতী মিত্তালের ভারতী এয়ারটেল। ফলে স্টারলিংকের প্রবেশ নিয়ে বিরোধে বাজারের প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

তবে জিও ও এয়ারটেলও স্যাটেলাইট যোগাযোগের বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। রিলায়েন্স জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস গড়ে তোলার পাশাপাশি লুক্সেমবার্গভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এসইএসের সঙ্গে অংশীদারত্ব করেছে।

অন্যদিকে, ভারতী এয়ারটেলের ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েবে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিষ্ঠানটি স্টারলিংকের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত।

গত বছর স্টারলিংকের সরঞ্জাম ও সেবা ভারতে বিতরণের জন্য জিও এবং এয়ারটেলের সঙ্গে চুক্তি করে স্পেসএক্স। তবে এসব চুক্তি বাস্তবায়ন এবং সেবা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন এখনো গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে রয়েছে।

নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ

ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট চালুর ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা, যোগাযোগ অবকাঠামোর ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত ব্যবস্থায় দেশীয় আইন কার্যকর করার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে স্টারলিংকের অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে মাস্কের প্রকাশ্য ক্ষোভ এবং আম্বানিকে কটাক্ষ ভারতের টেলিযোগাযোগ বাজারে প্রতিযোগিতা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ককে আরও সামনে এনেছে। তবে স্টারলিংকের কার্যক্রম শুরুর চূড়ান্ত সময়সীমা সম্পর্কে প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ উল্লেখ করা হয়নি।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ অনলাইন

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ