যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ইরি শহরে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় দুই শিশুসহ আটজন নিহত হয়েছেন। একটি আবাসিক এলাকায় এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর বন্দুকধারী নিজেও আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে শহরের একটি আবাসিক এলাকায় গুলির শব্দ শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ইরি শহরে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় দুই শিশুসহ আটজন নিহত হয়েছেন। একটি আবাসিক এলাকায় এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর বন্দুকধারী নিজেও আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে শহরের একটি আবাসিক এলাকায় গুলির শব্দ শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইরি নিউজ নাওয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাস্তার ওপর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুই নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে। এ সময় বন্দুকধারী একটি বাড়ির ভেতরে ঢুকে নিজেকে অবরুদ্ধ করে ফেলেন।
বন্দুকধারী বাড়ির ভেতরে অবস্থান নেওয়ার পর পুলিশ পুরো বাড়িটি ঘিরে ফেলে। তাঁকে আত্মসমর্পণ করে বাইরে বেরিয়ে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ সময় বাড়ির ভেতর থেকে একাধিকবার গুলির শব্দ শোনা যায়।
পরে সতর্কতার সঙ্গে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন পুলিশ সদস্যরা। সেখানে বিভিন্ন কক্ষে দুই শিশুসহ আরও কয়েকজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনাস্থল থেকে বন্দুকধারীর মরদেহও উদ্ধার করা হয়। তাঁর শরীরে নিজের ছোড়া গুলির ক্ষত ছিল বলে জানানো হয়েছে। পুলিশের ধারণা, বাড়ির ভেতরে অবরুদ্ধ অবস্থায় তিনি আত্মহত্যা করেন।
ইরি শহরের এই হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতায় হতবাক হয়ে পড়েন উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যরা। এমন মর্মান্তিক ঘটনার পর মানসিক চাপ কাটিয়ে উঠতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে ইরি পুলিশ বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য বা মন্তব্য নিশ্চিত করেনি। ঘটনার বিস্তারিত জানাতে এবং সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে শনিবার বিকেলে শহরের মেয়রের সংবাদ সম্মেলন করার কথা ছিল।
হামলার উদ্দেশ্য, নিহতদের পরিচয় এবং বন্দুকধারীর সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কের বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা দেশটিতে বন্দুক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে আসে। দেশটিতে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যাপক বিস্তার এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে আইনি ও রাজনৈতিক মতবিরোধের কারণে এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: সিএনএন, রয়টার্স, বিবিসি ও এএফপি