অর্থনীতির উত্থান-পতন নিয়ন্ত্রণ এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কার্যকর নীতি প্রণয়নের পথ দেখানোর স্বীকৃতি হিসেবে চলতি বছর অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ড। তাঁদের উদ্ভাবিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক মডেল সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও কার্যকর নীতি নির্ধারণে সহায়তা করেছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে তাঁদের […]
ছবি: সংগৃহীত
অর্থনীতির উত্থান-পতন নিয়ন্ত্রণ এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কার্যকর নীতি প্রণয়নের পথ দেখানোর স্বীকৃতি হিসেবে চলতি বছর অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ড। তাঁদের উদ্ভাবিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক মডেল সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও কার্যকর নীতি নির্ধারণে সহায়তা করেছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে তাঁদের নাম ঘোষণা করে রয়েল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস।
অর্থনীতিতে কখনো মন্দা দেখা দেয়, আবার কখনো দ্রুত প্রবৃদ্ধি ঘটে। এসব ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে প্রায় এক শতাব্দী ধরে অর্থনীতিবিদ জন মেনার্ড কেইনসের তত্ত্বের ভিত্তিতে স্থিতিশীলতামূলক নীতি প্রয়োগ করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক মন্দার সময় সুদের হার কমানো এবং সরকারি বাজেট ঘাটতি বাড়িয়ে সামগ্রিক চাহিদা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। অন্যদিকে, অর্থনীতি অতিরিক্ত চাঙা হয়ে উঠলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানো ও সরকারি ব্যয় কমানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
তবে ১৯৭০-এর দশকে তেলসংকটের সময় কেইনসীয় অর্থনৈতিক মডেলগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সমালোচকদের দাবি ছিল, এসব নীতি বেকারত্ব কমাতে ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে তুলেছিল। ওই দশকে পশ্চিমা দেশগুলো নিম্ন প্রবৃদ্ধি, উচ্চ বেকারত্ব ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির সম্মিলিত চাপে পড়ে। ফলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রচলিত নীতিগুলো কতটা কার্যকর, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।
এই প্রেক্ষাপটে রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ড সামষ্টিক অর্থনৈতিক মডেলকে নতুনভাবে গড়ে তোলেন। তাঁদের কাজ স্থিতিশীলতামূলক নীতির কার্যকারিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেয়। অর্থনৈতিক সূচকগুলোর মধ্যকার পরিসংখ্যানগত সম্পর্কের ওপর নির্ভর করার পরিবর্তে তাঁরা মডেলগুলোকে ক্ষুদ্র অর্থনীতির ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করেন। এর ফলে ব্যক্তি, পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত কীভাবে সামগ্রিক অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে, তা বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়।
এই মডেলগুলোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সঞ্চয়, ব্যয় এবং পণ্যের মূল্য নির্ধারণের সময় শুধু বর্তমান পরিস্থিতি নয়, ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অবস্থাও বিবেচনায় নেয়। একইভাবে, সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের নীতির পরিকল্পনা ও ঘোষণা দিয়ে মানুষের ভবিষ্যৎ প্রত্যাশাকে প্রভাবিত করতে পারে। এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক অস্থিরতা মোকাবিলা এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার উদ্যোগ আরও কার্যকর করা সম্ভব হয়।
অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কারবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান জন হাসলারের মতে, হল ও উডফোর্ডের গবেষণা বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারগুলোর ব্যবহৃত অর্থনৈতিক মডেলগুলোর জন্য একটি শক্তিশালী তাত্ত্বিক ভিত্তি তৈরি করেছে।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জ্বালানিসংকট কিংবা পরিবারের ভোগব্যয়ে আকস্মিক পরিবর্তনের মতো অর্থনৈতিক ধাক্কা মোকাবিলায় এসব মডেল নীতিনির্ধারকদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হতে সাহায্য করে। ফলে অর্থনীতির পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কীভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে, তা নির্ধারণে হল ও উডফোর্ডের কাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।