সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

উত্তর আমেরিকা
৫:২২ অপরাহ্ন, ১২ অক্টোবর ২০২৬

প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও মৃত্যু হয়নি, হাসপাতাল থেকে কারাগারে ফিরলেন ক্রিস্টা পাইক

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রাণঘাতী ইনজেকশন দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার ১০ দিন পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইক। তাঁকে আবার কারাগারে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাঁর চিকিৎসা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। শনিবার (১০ অক্টোবর) আইনজীবীদের দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ৫০ বছর বয়সী পাইককে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার পর ন্যাশভিলের ডেবরা কে. […]

প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও মৃত্যু হয়নি, হাসপাতাল থেকে কারাগারে ফিরলেন ক্রিস্টা পাইক

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রাণঘাতী ইনজেকশন দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার ১০ দিন পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইক। তাঁকে আবার কারাগারে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাঁর চিকিৎসা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) আইনজীবীদের দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ৫০ বছর বয়সী পাইককে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার পর ন্যাশভিলের ডেবরা কে. জনসন রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর টেনেসি অঙ্গরাজ্যে পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয়। এ সময় পেন্টোবারবিটাল নামের ওষুধ দিয়ে দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগ করা হলেও তাঁর মৃত্যু হয়নি। বরং গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রায় এক সপ্তাহ অচেতন থাকার পর তাঁর জ্ঞান ফেরে। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, সুস্থ হতে তাঁর আরও দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টার পর গুরুতর অসুস্থতা

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর পাইকের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার পর কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের সহায়তা দিতে হয়। একপর্যায়ে তাঁর আইনজীবীরা আশঙ্কা করেছিলেন, তিনি হয়তো মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা হারিয়েছেন।

পরে জ্ঞান ফিরে পেলেও পাইক বিভ্রান্ত ও ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে জানান তাঁর আইনজীবীরা। তাঁর হাতে গুরুতর ক্ষত, ফোলা ও ফোসকা দেখা দেয়। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি খাবার গিলতেও তাঁর সমস্যা হচ্ছিল।

আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসার পর পাইকের অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির মাত্রা এখনো স্পষ্ট নয়।

১৯৯৫ সালের হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুদণ্ড

১৯৯৫ সালে ১৮ বছর বয়সে সহপাঠী ১৯ বছর বয়সী কোলিন স্লেমারকে নির্যাতন করে হত্যার দায়ে ক্রিস্টা পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তাঁর তৎকালীন প্রেমিক টাডারিল শিপও জড়িত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের সময় শিপের বয়স কম থাকায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি। তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে টেনেসি অঙ্গরাজ্যে দুই শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে তিনিই হতেন প্রথম মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী, যার সাজা কার্যকর করা হলো। তবে গত ৩০ সেপ্টেম্বরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আইনি ও মানবাধিকার বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

তদন্তের নির্দেশ, স্থগিত অন্য মৃত্যুদণ্ড

পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা কেন ব্যর্থ হয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় ব্যবহৃত ওষুধ, সরঞ্জাম, নথি ও অন্যান্য প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ভবিষ্যতে এ ঘটনার বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলে এসব প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে, টেনেসির গভর্নর বিল লি চলতি বছরের বাকি সময়ের জন্য অঙ্গরাজ্যে সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকরণ স্থগিত করেছেন। পাইকের ঘটনা ছাড়াও মে মাসে আরেক বন্দি টনি ক্যারুথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টায় জটিলতা দেখা দিয়েছিল। দুই ঘটনার পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি ও সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনা নিয়ে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পাইকের আইনজীবীরা তাঁর মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় গুরুতর শারীরিক জটিলতা ও মানসিক আঘাতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁর সাজা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। তবে তাঁর সাজা পরিবর্তন বা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নতুন তারিখ নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ